advertisement
advertisement

ভারতে আটকেপড়াদের ফেরাতে সচেষ্ট সরকার

ফিরতে চান থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে আটকে পড়ারাও

আরিফুজ্জামান মামুন
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:১৬
advertisement

চিকিৎসা, শিক্ষা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কারণে ভারতে গিয়ে যেসব বাংলাদেশি করোনা মহামারীর কারণে আটকা পড়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার। এ নিয়ে গতকাল নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পুরো ভারতে লকডাউন চলমান থাকায় আটকেপড়াদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। এ ছাড়া থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে যেসব বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন, তারাও দেশে ফিরতে উদগ্রীব হয়ে আছেন। তবে এ দুটি দেশসহ অন্যান্য দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আপাতত কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, ভারত থেকে যাদের ফিরিয়ে আনা হবে, তাদের লিখিত দিতে হবে যে, প্রত্যেকেই ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, সে দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশির আর্থিক সংকট, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণসহ অন্য যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলোর সমাধান করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত প্রতিবছর ১২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি চিকিৎসার জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যান। তাদের মধ্যে সর্বাধিক গন্তব্যস্থল

তামিলনাড়–র ভেলোর। করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেখানে শত শত বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। অর্থাভাবে অনেকের চিকিৎসাও বন্ধ। আর যাদের চিকিৎসা শেষ, তারাও দেশে ফিরতে পারছেন না ভারতজুড়ে লকডাউনের কারণে। তারা বলছেন, ওষুধ ও খাদ্য সংগ্রহের মতো জরুরি প্রয়োজনেও রাস্তায় বের হলে পুলিশ মারধর করছেন। আটকেপড়া বাংলাদেশিরা সেখানে অনেকটা মানবেতরভাবে আছেন। এ ছাড়া বেঙ্গালুরুর, দিাল্ল, মুম্বাই, কলকাতাতেও অনেক বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। তারাও একই রকম সমস্যায় আছেন। সবাই চাইছেন, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে আসতে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এ ব্যাপারে আমাদের সময়কে বলেন, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে অনেক বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে ভারতে যারা আটকা, তারা দেশে আসতে পারছেন না। তাদের কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। তবে ভারতের সর্বত্র লকডাউন চলায় তা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ভারত বিশাল রাষ্ট্র। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে এখন যাতায়াত বন্ধ। ফলে সব বাংলাদেশিকে এক জায়গায় জড়ো করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ ছাড়া তাদের আনতে হলে চার্টার্ড বিমানে করে আনতে হবে। আমরা ভারতের দুটি বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা ১৭০ সিটের একটি বিমানের জন্য সাড়ে ৪ কোটি টাকা ভাড়া যাচ্ছে, যেটি অত্যন্ত বেশি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ করেনÑ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশের নাগরিকও এখন বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছেন। যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে যেসব নাগরিককে তারা ফিরিয়ে নিয়েছে, তারা নিজ খরচেই ফিরছেন, মিশনগুলো শুধু ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। আবার আটকেপড়ায় অনেকেরই অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে অনেক দেশই তাদের নাগরিকদের এই শর্তে ফিরিয়ে নিচ্ছে যে, তারা দেশে ফিরে গিয়ে বিমান খরচ দিয়ে দেবে। ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে কী চিন্তা করছে সরকার? এ প্রশ্নে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা চিন্তা করছি যে, ভারতে আটকেপড়া যেসব বাংলাদেশি নিজ খরচে ফিরতে রাজি আছেন, তাদের আমরা একটি বিশেষ বিমানে করে দেশে ফিরিয়ে আনব। এ জন্য আমাদের যে হটলাইন নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেখানে যোগাযোগ করতে হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ভারত থেকে যাদের ফিরিয়ে আনা হবে, তাদের লিখিত দিতে হবে প্রত্যেককে ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ভারতের আটকেপড়াদের বিভিন্ন সমস্যা ও ফেরানোর ব্যাপারে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার ফরিদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, আমরা এ ব্যাপারে আজ (গতকাল) মিটিং করেছি। আমাদের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত ৫২০ জনের মতো যোগাযোগ করেছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদের বেশিরভাগ রোগী ও রোগীর অ্যাটেন্ড্যান্ট। এ ছাড়া শিক্ষার্থীও আছেন। বেশিরভাগের সমস্যা ছিল টাকা ফুরিয়ে গেছে। আমরা যাতে দেশ থেকে টাকা আনতে পারি, সে জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে টাকা আনার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া যারা ক্রেডিট কার্ডের লিমিট তুলে দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছি। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ব্যবস্থা করেছি। তারা অনলাইনে আবেদন করে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারবেন। আর সবাই দেশে ফিরতে চান। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, চেন্নাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে যেন আটকেপড়ারা নিজেরা বা তাদের দেশে থাকা আত্মীয়রা টিকিট কেটে ফিরতে পারেন। কারণ চেন্নাইয়ে ভেলোরে সব থেকে বেশি বাংলাদেশি আটকা আছেন।

এদিকে থাইল্যান্ডে গতকাল পর্যন্ত ২১ বাংলাদেশি দেশে ফিরতে ব্যাংককের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর নাজমুল হক। তবে থাইল্যান্ডে ৮০ জনের মতো বাংলাদেশি আটকা আছেন বলে জানা গেছে। আটকেপড়াদের ফেরানোর ব্যাপারে নাজমুল হক আমাদের সময়কে বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত আটকেপড়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। চিকিৎসা করাতে এসে আটকা আছেন এমন সংখ্যা কম। অনেকে ঘুরতে বা বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে এসে আটকা পড়েছেন। তা হলে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় তাদের ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পরও আমরা চেষ্টা করছি।

সিঙ্গাপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার কারণে কেউ আটকা আছেন বলে আমাদের কাছে কোনো খবর নেই। তবে ২-৩ জন যারা স্বল্পসময়ের ভিসায় এসেছিলেন, তারা ফিরতে চান বলে আমাদের জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুর সরকার পুরো দেশ লকডাউন ঘোষণা করায় এখনই তাদের ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে যাদের এই সময়ের মধ্যে ভিসা শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিষয়ে বিবেচনা করবে সিঙ্গাপুর সরকার।

advertisement