advertisement
advertisement

করোনা মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:১৬
advertisement

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সম্ভাব্য ব্যক্তিদের পরীক্ষা ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দাবি জানান।

রিজভী বলেন, দীর্ঘসময় পেলেও জেলা পর্যায়ে করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহ, ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে। যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত রোগী এবং সম্ভাব্য আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা এবং ভাইরাসের প্রকোপ যেন না বাড়ে তার জন্য সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক যাবতীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোন এলাকায় রোগ ও রোগীর সংখ্যা বাড়লে সেখানে টেস্ট কিট, কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন ব্যবস্থা, ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি ও জনবল বাড়াতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, রোগ শনাক্তকরণ যদি বাড়তে থাকে তবে লকডাউনের সময়সীমা দুটি ইনকিউবেশন পিরিয়ড অর্থাৎ ২৮ দিন পর্যন্ত হতে হবে। চিনে এ লকডাউন কার্যকর হওয়ার কারণেই রোগের বিস্তৃতি কমে গেছে।

রিজভী বলেন, অবিলম্বে দেশের সব জায়গায় বিনামূল্যে টেস্ট করতে প্রয়োজনীয় কিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ ও তার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার জোগান নিশ্চিত করতে হবে। কিট তৈরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা করতে হবে। কোয়ারেন্টিনের জন্যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে বড় হোটেল-মোটেল-রিসোর্টসহ উপযোগী ভবনগুলো অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের জন্যে নির্দিষ্ট করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম, খালি ভবনে অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। ডাক্তার-নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপদ পোশাক ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, গণপরিবহন ও সংক্রমণের হটস্পট নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। জেলখানার ঝুঁকিপূর্ণ জনচাপ দূর করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে, জনচাপ কমাতে বিনা বিচারে আটক, বয়স্ক ও মেয়াদোত্তীর্ণদের মুক্তি দিতে হবে। রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রেও একই রকম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য ও জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্যের মধ্যে অমিল পাওয়া গেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়েছে আজকের খবরের কাগজে। তিনি বলেন, এর মধ্যে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটে একজন নারীসহ মারা গেছেন দুইজন। ঠাকুরগাঁওয়ের এক অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে পাঁচ হাসপাতালে ঘুরেও চিকিৎসা পাননি অসহায় পিতা। সরকারি ব্যবস্থাপনায় খিলগাঁও তালতলার গোরস্তানে গোপনে লাশের জানাজা-দাফন করা হচ্ছে। যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বাড়ি লকডাউন করা হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে বর্তমান সরকারের পলিসি জনগণের কাছে একদম পরিষ্কার। নো কিট, নো করোনা। নো টেস্ট, নো করোনা। নো পেসেন্ট, নো করোনা। যে পলিসি করে ইরান ও ইতালি সরকার তাদের দেশের সর্বনাশ করেছে। আমাদের সরকার এই লুকানোর পলিসির নাম দিয়েছে গুজব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, দ্রুত চিহ্নিত না করতে পারলে সংক্রমণ ঠেকানো মুশকিল। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেও পর্যাপ্ত পরীক্ষা করার সুযোগ না থাকায় দিন দিন বাড়ছে ঝুঁকি।

রিজভী বলেন, গত কয়েকদিনে বিভিন্ন দেশের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে এই সরকার দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছুই করছে না। আওয়ামী লীগের নেতা, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ধনিক শ্রেণির জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার কথা বলছে সরকার। তাতে সব চেয়ে দুরবস্থায় পতিত সাধারণ নাগরিকদের দুর্দশা লাঘব করবে কে?

advertisement