advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

টোকিও অলিম্পিকের নতুন সূচি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:৩৩
advertisement

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন স্থবির হয়ে পড়েছে। কোপা আমেরিকা, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, আইপিএল, পিএসএল পিছিয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে টোকিও অলিম্পিক গেমস-২০২০। চলতি বছরের ২৪ জুলাই থেকে টোকিওতে অলিম্পিক গেমস শুর হওয়ার কথা ছিল। চলত ৯ অগাস্ট পর্যন্ত। তবে বিশ্বজুড়ে মহামারী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ আসর স্থগিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ও জাপান সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। এক বছরের জন্য স্থগিত হওয়া ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় এ আসরের নতুন সূচি প্রকাশিত হয়েছে। টোকিও ২০২০ আয়োজক কমিটির প্রধান ইয়োশিরো মোরি গতকাল তড়িঘড়ি করে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, টোকিও অলিম্পিক শুরু হবে আগামী বছরের ২৩ জুলাই। চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া প্যারা অলিম্পিকের পদা নামবে ৫ সেপ্টেম্বর। এবারের অলিম্পিক আসর লম্বা সময়ের জন্য পিছিয়ে গেলেও মাঝের এ সময়ে অলিম্পিক মশাল থাকবে জাপানেই। এ ছাড়া নামও অপরিবর্তিত থাকবে। যথাক্রমে অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিক গেমস টোকিও ২০২০। গত সপ্তাহেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট টমাস বাখের কাছে অনুরোধ করেছিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। এর পর অলিম্পিকের আসর স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানান শিনজো আবে। তিনি বলেন, ‘আমি আইওসিকে এক বছরের জন্য অলিম্পিকের এ আসর স্থগিত করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তারা আমার সঙ্গে একমত হয়েছে।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪০ সালে অলিম্পিক বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সেবারও আয়োজক দেশ ছিল জাপান, ভেন্যু ছিল টোকিও। ভেন্যু পরিবর্তন করলেও একই কারণে ১৯৪৪ অলিম্পিক আয়োজনও সম্ভবপর হয়নি। তার আগে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের কারণে ১৯১৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক বাতিল হয়। তবে এবারই প্রথম অলিম্পিক স্থগিত হলো। টোকিও অলিম্পিক পিছিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির। কেননা অস্ট্রেলিয়া, কানাডার মতো দেশগুলো খেলোয়াড় না পাঠানোর কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছিল।

এ ছাড়া অলিম্পিকের এ আসর এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি ছিল যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও পোল্যান্ডের। করোনা ভাইরাসের কারণে সব দেশের সব খেলা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ঠিকমতো না হওয়ার কারণেই তারা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।

ব্রডকাস্টাররা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, অলিম্পিক যখনই হোক তাতে যেন বিশ্বের প্রথম সারির তারকারা অংশ নেয়। অলিম্পিকের সঙ্গে ২০২০ সালের ইউরো কাপও পিছিয়েছে, যা উয়েফা করতে চায় পরের বছর জুনে। ২০২১ সালের মে মাসে হওয়ার কথা বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স সংস্থার প্রধান সেবাস্তিয়ান কো জানিয়ে দিয়েছেন, ২০২১ সালে নির্ধারিত সময় তারা চ্যাম্পিয়নশিপ করতে চান। ২০২২ সালে তা পিছিয়ে নিয়ে গেলে ২০২৩ সালে তাদের পরের বিশ্ব মিট করতে হবে। কারণ বিশ্ব মিট হয় এক বছর অন্তর।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৪ সালের পর এবারই টোকিও পেয়েছে ক্রীড়া মহোৎসব আয়োজনের মর্যাদা। টোকিওই প্রথম এশীয় নগরী হিসেবে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দ্বিতীয়বারের মতো পেয়েছে। যদিও করোনা ভাইরাসের কারণে তা পিছিয়ে দিতে হলো। এ অলিম্পিকের অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় তিন ট্রিলিয়ন ইয়েন হতে পারে। টোকিও অলিম্পিকে প্রযুক্তির চমক দেখাতে চেয়েছিল জাপান। সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে বলা হয়েছে এইটকে প্রযুক্তি।

সাইন-ল্যাংগুয়েজ নামে নতুন প্রযুক্তি থাকার কথা ছিল, যাতে বোবাদের জন্য রয়েছে স্বয়ংক্রিয় সাইন-ল্যাংগুয়েজ। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করতে পারে এমন ডিভাইস এবং উন্নত মানের মানি ট্রান্সফার সিস্টেম। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এক বছরের জন্য অপেক্ষা বাড়ল জাপানের। ক্রীড়ামোদীদেরও কি নয়!

advertisement