advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাঠদান পদ্ধতি আরও উন্নত করার দাবি

এম এইচ রবিন
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০৭:৫৮
advertisement

করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময় শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না যায় সে জন্য চালু হয়েছে আমার ঘরে আমার স্কুল কর্মসূচি। সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন চ্যানেলে গত রবিবার থেকে প্রচার হচ্ছে ধারণ করা মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান। সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাঠদান পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তা আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অনেক অভিভাবক গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস ৩০-৪০ মিনিট করার কথা বলেছেন। অনেকে মাধ্যমিকের কমার্স, ইংরেজি ভার্সন ও ভোকেশনালের বিষয়ভিত্তিক ক্লাস সম্প্রচারের দাবি জানিয়েছেন। অনেকে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের কথাও বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অভিযোগ, টিভিতে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে না। আবার শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ লেখার সময়ও ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। ক্লাস প্রচারের দ্বিতীয় দিন গতকাল সোমবার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ জানা গেছে। রবিবার প্রথম দিনের ক্লাস সম্প্রচারে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে আপত্তি উঠলে গতকাল সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গতকাল প্রচারিত ক্লাসগুলোয় রেকর্ডিং স্টুডিওর চকচকে রঙের গ্রাফিক্স নিয়ে আপত্তি জানান অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

রাজধানীর কেএল জুবলি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনোয়ার হোসেন জানান, অষ্টম শ্রেণির গণিত ক্লাস সম্প্রচারের সময় ছিল ১০টা ৩৫ থেকে ১০টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু টেলিভিশন চালু করে দেখি ক্লাস শেষ।

তেজগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম জানায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ক্লাস সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় ৯টা ৫৫ মিনিটে, শেষ হয় ১০টা ১০ মিনিটে। এত কম সময় কিছুই নোট করতে পারিনি।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাদ দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তবে এ স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাসলিমা আক্তার বলেন, ক্লাসরুমের গ্রাফিক্সে যে রঙ ব্যবহার হয়েছে, তাতে শিক্ষক ও বোর্ডের দিকে দৃষ্টি পড়ে না। ক্যামেরার ফোকাস হয় স্টুডিওর চকচকে রঙে।

সাভার থেকে মো. আসাদ জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ক্লাসগুলো দেখতে পারেনি তার সপ্তম শ্রেণিপড়–য়া মেয়ে রাইশা। ক্লাসের সময় যেন লোডশেডিং না হয় সে দাবি জানান তিনি। চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোস্তফা মিয়াজী বলেন, কোনো কোনো শিক্ষকের বাচনভঙ্গি অনেক সুন্দর। তবে ভিডিও এডিট আরও সুন্দর হওয়া দরকার।

পুরানবাজার মধুসূধন উচ্চবিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ক্লাসগুলো দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে মনোযোগ দেওয়া যায় না। শিক্ষক বাড়ির কাজ যখন বলেন, তা লেখার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া দরকার। ক্লাসগুলোর ভিডিও ক্লিপ ইউটিউবে দেওয়া হলে সুবিধা হতো বলে জানায় তারা।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, বিজ্ঞান ও গণিতের ক্লাসগুলো ৪০ মিনিট হওয়া উচিত। বাড়ির কাজ যখন দেবেন, একটু সময় স্ক্রিনে লেখাটি স্থির রাখা হলে টেলিভিশনের সামনে শিক্ষার্থীরা লিখে রাখতে পারে। তবে যতটুকু হচ্ছে তা-ও চমৎকার।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক আমাদের সময়কে বলেন, রুটিন অনুযায়ী ক্লাসগুলো সম্প্রচার হওয়ার কথা, দুয়েকটি পুনঃপ্রচার হয়েছে সোমবার (গতকাল)। সতর্কতার সঙ্গে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীলদের বলা হবে।

ক্লাস শেষে বাড়ির কাজ লেখার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী ক্লাসগুলোয় এর সমাধান হবে আশা করছি। স্টুডিওর গ্রাফিক্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে টেকনিশিয়ানরা যেন টেলিভিশনের সামনে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেন, সেটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। অনেকে বিজ্ঞান ও গণিত ক্লাসগুলো ৩০-৪০ মিনিট করার কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আমরাও চেষ্টা করছি। তবে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির প্রতিদিন অনেকগুলো ক্লাস প্রচারের ক্ষেত্রে সময় ব্যবস্থাপনায় হিমশিম খেতে হবে।

ডিশ সংযোগ ছাড়াও সংসদ টেলিভিশন দেখা যায় জানিয়ে মাউশির মহাপরিচালক জানান, যেখানে বিটিভি দেখা যায় এমন সব জায়গায় সংসদ টেলিভিশনও দেখা যাবে বলে বিটিভি থেকে আমাদের জানিয়েছে। ইংরেজি ভার্সন এবং ভোকেশনালের ক্লাস সম্প্রচারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, খুব কম সময়ে প্রস্তুতি নিয়ে এতটুকু চালু করা গেছে। আশা করছি আগামীতে প্রয়োজন হলে পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

advertisement