advertisement
advertisement

ভারতে হাজার হাজার শ্রমিক রাস্তায়, সুরাটে সংঘর্ষ

আমাদের সময় ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০১:২১
advertisement

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ভারতে ২১ দিনের লকডাউনকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিসহ এখনো অনেক রাজ্যে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিককে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। লকডাউনের ফলে কর্মহীন এসব শ্রমিকের অনেকে যেমন আছেন নিজ গ্রামে ফেরার মরিয়া চেষ্টায়, আবার অনেকে খাদ্যের সংস্থান করতে চেষ্টা করছেন নানাভাবে।

বিশেষ করে দিল্লির আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনালে গতকাল সোমবারও অসংখ্য শ্রমিককে দেখা গেছে ব্যাগ ও মালপত্র নিয়ে গাড়ির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে। তাদের সঙ্গে শিশুরাও থাকায় এরই মধ্যে অমানবিক পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। অনেকেই হেঁটে শত শত মাইল দূরে তাদের গ্রামে ফেরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আন্তঃরাজ্য সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার; তাই এই শ্রমিকদের নিয়ে কী করা হবে তা বুঝতে পারছে না প্রশাসন।

দিল্লি ছাড়াও দেশটির অন্যান্য রাজ্যে কর্মহীন অসংখ্য শ্রমিককে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। এনডিটিভি জানায়, রবিবার রাতে গুজরাটের সুরাটে লকডাউন ভাঙাকে কেন্দ্র করে অভিবাসী শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯৩ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ভিদি চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পুলিশ শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে, বাস এবং ট্রেন চালু না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফেরা যাবে না। কিন্তু শ্রমিকরা তাতে কর্ণপাত না করে পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ শুরু করে। পরে টিয়ারগ্যাস ছুড়ে তাদের হটিয়ে দেওয়া হয়। এসব শ্রমিক সুরাটের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

এদিকে উত্তরপ্রদেশে অন্যান্য রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের রাস্তার ওপর বসিয়ে তাদের ওপর জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়েছে, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে ভারতজুড়ে। এনডিটিভি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা রাজ্যের বেরেলি জেলার ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, একদল অভিবাসী শ্রমিকের ওপর রীতিমতো বৃষ্টির মতো জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। রাস্তায় বসে থাকা এসব শ্রমিকের মধ্যে নারী ও শিশুও আছে। প্রোটেকটিভ গিয়ার পরিহিত একদল লোক অবলিলায় তাদের ওপর জীবাণুনাশক স্প্রে করছে ও বলছে, ‘নিজেদের চোখ বন্ধ করুন, শিশুদের চোখ বন্ধ করে দিন।’ গোটা ঘটনায় পুলিশ ছিল দর্শকের ভূমিকায়। গত শনিবার বিশেষ বাসে করে এই অভিবাসী শ্রমিকদের দিল্লি, হরিয়ানা ও নয়ডা থেকে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে আসা হয়।

কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধী এই ভিডিওর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন টুইটারে। তিনি লেখেন, ‘আমি উত্তরপ্রদেশের সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছি, আমরা সবাই একসঙ্গে এই সংকটের মোকাবিলা করছি। দয়া করে এমন অমানবিক কাজ করবেন না। এই শ্রমিকরা ইতোমধ্যে অত্যন্ত ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে গেছেন। ওদের ওপর এভাবে রাসায়নিক স্প্রে করবেন না। এটা ওদের রক্ষা করবে না বরং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবে।’

বিহারেও ফিরিয়ে নিয়ে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের করুণ অবস্থার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে এসেছে। রাজ্যের নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশোর টুইটারে এই ভিডিও শেয়ার করেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজ্য থেকে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। তালাবদ্ধ কলাপসিপল গেটের ভেতরে গাদাগাদি করে তারা কাঁদছেন ও মুক্তির জন্য আকুতি জানাচ্ছেন। প্রশান্ত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতিশ কুমারকে গোটা ঘটনার জন্য অভিযুক্ত করে একে ‘ভীতিপ্রদ ছবি’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি টুইটে বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে মানুষকে মুক্ত করতে সরকারি প্রচেষ্টার আরও এক ভীতিপ্রদ ছবি। গরিব অভিবাসী শ্রমিক যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কষ্টে ফিরেছেন তাদের সামাজিক দূরত্ব ও কোয়ারেন্টিনের জন্য এমন হৃদয়বিদারক বন্দোবন্ত করেছেন নিতিশ কুমার।’

গতকাল পর্যন্ত ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৭১-এ দাঁড়িয়েছে। মারা গেছে মোট ২৯ জন।

advertisement