advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ও ভবিষ্যৎ
বর্তমানের আতঙ্ক কাটিয়ে ভবিষ্যতের আশা জাগাতে

৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

দেশের অর্থনীতির চাকা ক্রমে বন্ধ হয়ে আসছে। যদিও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে কাজকর্ম চলছে। কিন্তু খালাসকৃত মাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন এবং বাজারের বিপণনের ক্ষেত্রে লকডাউনের বাধা রয়েছে। অন্যদিকে লকডাউনের কারণে দেশের অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। আমরা ঠিক জানি না, বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের প্রবাহ কী রকম আছে। গ্রামগঞ্জে কৃষকরা নতুনভাবে চাষাবাদে নামছেন কিনা তাও জানা যাচ্ছে না। তবে ইতোমধ্যে উৎপাদিত সবজি ও ফলের বাজারে বড় রকমের ধস নেমেছে। ক্রেতার অভাবে পচনশীল এসব দ্রব্য বিপুল হারে নষ্ট হচ্ছে। উৎপাদক তার বিনিয়োগের কিছুই ফেরত পাচ্ছেন না।

সরকার বিজিএমইএ এবং অন্যান্য বণিক সংস্থার দাবির মুখে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। মনে হচ্ছে, এ অর্থের সবটাই পোশাকশিল্প ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিল্প খাতে প্রণোদনা হিসেবে বিনিয়োগকারীদের পকেটে যাবে। শিল্পশ্রমিক ও কৃষকদের ভাগ্যে কী জুটবে, সেটা পরিষ্কার নয়। আমাদের মনে হয়, শিল্প খাতের বরাদ্দ যাতে শ্রমিকদের স্বার্থে কাজে লাগে, সে বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে সরকারের তদারক দরকার। পাশাপাশি কৃষি খাতে ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। নতুন আগামী মৌসুমে দেশ কেবল অর্থনৈতিক নয়, চরম খাদ্য সংকটে পড়ে যেতে পারে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাই দেশীয় উৎপাদন ঠিক রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। অন্ততপক্ষে মৌলিক খাদ্যশস্য ও পুষ্টি সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান করা দরকার।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের চলমান উন্নয়ন বাজেট নিয়ে নতুনভাবে ভাবা দরকার। অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত করে বরাদ্দ বণ্টন করা উচিত। অনুৎপাদনশীল উন্নয়নে অন্তত এই এক বছর বিরত থাকতে হবে। করোনা ভাইরাস আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানোর বার্তা দিয়ে গেল। কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা আমাদের মতো ঘন বসতির দেশে সমাধান দেবে না। প্রত্যেক জেলা শহর ও উপজেলা শহরে সমমানের হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো, নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা যেন সপরিবারে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করেন, তাও নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা মনে করি, অনুৎপাদনশীল উন্নয়ন ছেঁটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত। সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে এ বিষয়ে নির্দেশনা আসা প্রয়োজন। বর্তমান নিয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। তাদের মনে ভবিষ্যৎ নিয়েও যেন অনিশ্চয়তার ভয় না ঢোকে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের জরুরিভিত্তিক কাজ। কারণ জনগণের সাহস ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে করোনা বিপর্যয় এবং ভবিষ্যতের সব সংকট উত্তরণ করা সম্ভব হবে।

advertisement