advertisement
advertisement

অক্সিজেনের অভাবে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:৩৮
advertisement

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক অন্তঃসত্ত্বা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

মৃত্যুবরণকারী রিপা দাস (৩২) রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার রামকল গ্রামের মিঠুন সরকারের (৩৮) স্ত্রী এবং রামকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি ফরিদপুরের টেপাখোলা নিবাসী অনিল কুমার দাসের মেয়ে। চার বছরের বিবাহিত জীবনে এই প্রথম সন্তান সম্ভবা হয়েছিলেন তিনি।

মৃতের ভগ্নিপতি ধীরাজ কুমার (৪০) জানান, রিপা আড়াই মসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু এরইমাঝে তার রক্তক্ষরণ হওয়ায় রবিবার দুপুর ২টার দিকে তাকে ফমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমআর (গর্ভপাত) করাতে বলেন।

ধীরাজ জানান, এরপর রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিপাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। গাইনি বিশেষজ্ঞ কানিজ ফাতেমা তার এমআর করান। সকাল ৭টার দিকে সেখান থেকে তাকে বের করে বেডে দেওয়া হয়। এ সময় রিপার প্রচ- শ^াসকষ্ট হচ্ছিল। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালের নার্স ও ইন্টার্নিদের কাছে অনুরোধ করেও তারা অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার আনা হয়। তার আগেই মারা যান তিনি। দুপুরে তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় রামকল গ্রামে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, গতকাল সোমবার সকালে গাইনি বিশেষজ্ঞ কানিজ ফাতেমা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অক্সিজেনের অভাবে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে আমার জানা নেই। তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

ডা. কানিজ ফাতেমা জানান, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর অবস্থা ভালো ছিল। তবে সকালে হঠাৎ তার অবস্থার অবনতি ঘটায় তিনি মারা গেছেন। তখন তিনি সেখানে ছিলেন না।

ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না অনেক রোগী। শহরের পশ্চিম খাবাসপুর মহল্লার ব্যবসায়ী দিলদার হোসেন জানান, গত রবিবার তিনি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টায় টিকিট কেটে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বসে থেকেও তিনি কোনো চিকিৎসককে দেখাতে পারেননি। ফমেক হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান জানান, চিকিৎসকরা সরকারি নির্দেশনা মেনে রোগী দেখছেন। এখানে এসে চিকিৎসা পায়নি এ জাতীয় কোনো অভিযোগ তাকে কেউ দেয়নি।

advertisement