advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ঠেকানোর যন্ত্র আবিষ্কার করতে গিয়ে বিপদে বিজ্ঞানী

অনলাইন ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২০ ২২:২১ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ২৩:১৫
নাকের ভেতর ঢুকে যাওয়া চুম্বক বের করতে হাসপাতালে যেতে হয় ড. ড্যানিয়েলকে। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

অস্ট্রেলিয়ান এক বিজ্ঞানী এমন একটি যন্ত্র তৈরির চেষ্টা করছিলেন যেটি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষকে সাহায্য করবে। কিন্তু এটি উদ্ভাবন করতে গিয়ে বিপদে পড়ে সেই বিজ্ঞানীকেই হাসপাতালে দৌঁড়াতে হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড. ড্যানিয়েল রিয়ার্ডন নামের ওই বিজ্ঞানী যা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন সেটি অনেকটা নেকলেস বা কণ্ঠহার আকৃতির একটি যন্ত্র। কেউ মুখে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলেই এই যন্ত্রটি শব্দ করে সতর্ক করে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু যেভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন, ড. রিয়ার্ডনের যন্ত্রটি আসলে সেভাবে কাজ করছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমার আবিষ্কারটির বেলায় আসলে উল্টো ব্যাপার ঘটলো, এটি ক্রমাগত শব্দ করে যাচ্ছিল যতক্ষণ না এর কাছে একটি চুম্বক এনে রাখা হচ্ছিল। বিপদে পড়েছি বুঝতে পারছিলাম। আমি নিজে নিজেই হাসছিলাম এবং হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।’

ভুক্তভোগী বিজ্ঞানী বলেন, ‘এরপর আমি কোনো কিছু না ভেবেই এই চুম্বকের টুকরোগুলো আমার মুখের ওপর রাখতে শুরু করলাম। প্রথমে আমার কানের লতিতে, তারপর আমার নাকের ফুটোর কাছে। তবে বিপদ ঘটলো যখন আমি দ্বিতীয় নাকের ফুটোর কাছেও একটা চুম্বক রাখলাম। তখন চুম্বকের টুকরোগুলো একটা আরেকটার সঙ্গে লেগে গেল। একটা চুম্বক আমার নাকের ভেতর আটকে গেল।’

তখন ড. রিয়ার্ডন অন্য চুম্বকের টুকরোগুলো ব্যবহার করে ভেতরের টুকরোগুলো বের করে আনার চেষ্টা করলেন। কিন্তু পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠল। শেষ দুটি চুম্বকের টুকরোও নাকের ভেতর আটকে গেল। এবার তিনি একটি প্লায়ার্স ব্যবহারের চেষ্টা করলেন। কিন্তু নাকের ভেতরের চুম্বকগুলো তার প্লায়ার্সটিকে আকর্ষণ করছিল। তখন তিনি নাকের ভেতর ব্যথাও অনুভব করছিলেন।

ড. ড্যানিয়েল রিয়ার্ডন অবশ্য খুব শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করলেন। তার ভাষায়, ‘প্রথমে একটু ব্যথা লাগছিল। তবে আমি খুব বেশি বিচলিত হইনি। কিন্তু যখন আমি বুঝতে পারলাম যে এই চুম্বকের টুকরোগুলো আমার পক্ষে বের করা সম্ভব নয়, তখন আমি বেশ ঘাবড়ে গেলাম।’

এই পর্যায়ে এসে ড. ড্যানিয়েল রিয়ার্ডন বুঝতে পারলেন এবার তাকে হাসপাতালে যেতেই হবে। তবে মেলবোর্নের যে হাসপাতালে তাকে যেতে হলো সেখানে কাজ করেন তার প্রেমিকা। তিনি বলেন, ‘ডাক্তাররা সবাই আমার বান্ধবীকে চিনত। তারা সবাই হাসাহাসি করছিল। তারা জিজ্ঞেস করছিল তুমি কি নাকের ভেতর চুম্বকের টুকরো রাখছিলে?’

তবে ডাক্তাররা শেষ পর্যন্ত চুম্বকের টুকরোগুলো নাকের ভেতর থেকে বের করে আনতে পারলেন। শেষ পর্যন্ত সুস্থভাবেই তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হলেন। এ ঘটনার পর ড. ড্যানিয়েল রিয়ার্ডন তার যন্ত্র উদ্ভাবনের কাজে আপাতত ক্ষান্ত দিয়েছেন।

advertisement
Evall
advertisement