advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিবিসির বিশ্লেষণ
টিকা আবিষ্কার হলে গরিব দেশগুলো পাবে কবে

আমাদের সময় ডেস্ক
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:২০
advertisement

বিশ্বজুড়ে এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের জন্য ৪৪টি প্রকল্পের কাজ চলছে। বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের যেসব দল এই কাজে নিয়োজিত, কেইট ব্রোডেরিক তাদের একটি দলের সদস্য। তিনি একজন অণুজীব জিন বিজ্ঞানী। কেইট কাজ করেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ইনোভিওতে। এ কোম্পানিটি আশা করছে, এ বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ তারা কোভিড ১৯-এর টিকার ১০ লাখ ডোজ তৈরি করতে পারবে। কিন্তু এ টিকা কোথায় পাওয়া যাবে, কাদের দেওয়া হবে? ড. ব্রোডেরিকের মনে এ প্রশ্ন মাঝেমধ্যেই উঁকি দিচ্ছে। স্কটল্যান্ডের এই বিজ্ঞানীর এক বোন কাজ করেন ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএসের একজন নার্স হিসেবে।

ড. ব্রোডেরিক বলেন, ‘আমার বোন প্রতিদিন রীতিমতো লড়াই করছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সাহায্য করার জন্য। সুতরাং আমি অবশ্যই চিন্তিত এই টিকা আসলে কারা পাবে এবং সবার কপালে এটি জুটবে কিনা। এ টিকাটা আমাদের তৈরি করে রাখতেই হবে।’

এর মধ্যেই ইনোভিওর মতো কোম্পানি যে টিকা তৈরি করার চেষ্টা করছে সেসব ধনী দেশগুলো মজুদ করার চেষ্টা করবে কিনা, এখনই সে রকম একটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেসব বিশেষজ্ঞ এ রকম উদ্বেগের কথা বলছেন তাদের একজন এপিডেমিওলজিস্ট সেথ বার্কলি। একটা ইমিউনাইজেশন গ্যাপ বা টিকা নিয়ে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। সেথ বার্কলি হচ্ছেন দ্য ভ্যাক্সিন অ্যালায়েন্স

নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে বিশ্বের দরিদ্রতম ৭৩টি দেশের মানুষের কাছে টিকার সুবিধা পৌঁছে দিতে। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।

ড. বার্কলি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের টিকা হয়তো এখনো তৈরি হয়নি কিন্তু এসব বিষয়ে আমাদের এখনই কথাবার্তা বলা দরকার। আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ধনী দেশগুলোতে যাদের টিকা দরকার তাদের জন্য তো বটেই, গরিব দেশগুলোতেও যাদের টিকা দরকার তাদের জন্যও যথেষ্ট পরিমাণে টিকা তৈরি করা। আমি অবশ্যই চিন্তিত। দুষ্প্রাপ্য জিনিস নিয়ে বাজে কাজ সবসময়ই হয়েছে। এখানে আমাদের অবশ্যই সঠিক কাজটা করতে হবে।’

তার এই আশঙ্কা একেবারে ভিত্তিহীন নয়। এর আগের অনেক টিকার ক্ষেত্রে এ রকম ঘটনা ঘটতে গেছে। সম্প্রতি একটি জার্মান সংবাদপত্র একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে একটি খবর দিয়েছিল। যাতে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি টিকা কেবলমাত্র মার্কিনিদের জন্য কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এই টিকাটি তৈরি করছিল জার্মান বায়োটেকনোলজি কোম্পানি কিউরভ্যাক।

টিকার ক্ষেত্রে এ বৈষম্যের সবচাইতে বড় উদাহরণ হেপাটাইটিস-বি টিকা। বিশ্ব লিভার বা যকৃতের ক্যানসারের সবচেয়ে বড় কারণ হেপাটাইটিস-বি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এটি এইচআইভির চেয়ে ৫০ গুণ বেশি সংক্রামক। ২০১৫ সালে বিশ্বে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫ কোটি ৭০ লাখ। ১৯৮২ সালে ধনীদেশগুলোতে এই ভাইরাসের টিকা চলে আসে। কিন্তু ২০০০ সাল পর্যন্ত গরিব দেশগুলোর ১০ শতাংশের কম মানুষকে এ টিকা দেওয়া গেছে। টিকার এ বৈষম্য দূর করতে কাজ করছে ‘গ্যাভি’ বলে একটি সংস্থা। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস এটি গড়ে তুলেছেন। টিকাদানের ক্ষেত্রে যে মারাত্মক বৈষম্য, সেটি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনতে পেরেছেন তারা। কারণ বিশ্বের বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আর বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে পেরেছেন তারা এটি নিয়ে। এ ক্ষেত্রে বড় কাজ করছে ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন্স’। ২০১৭ সালে নরওয়েভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল সরকারি ও বেসরকারি অনুদান দিয়ে টিকা উদ্ভাবন করার লক্ষ্যে। এ প্রতিষ্ঠানটিও সব টিকা সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কোভিড-১৯ প্রমাণ করে দিয়েছে সংক্রামক ব্যাধি রাজনৈতিক সীমানা মানে না। যতক্ষণ আমরা টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত না করছি, ততক্ষণ আমরা একটা সংক্রামক ব্যাধির বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলা করতে পারব না।

advertisement