advertisement
advertisement

আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই এশিয়ার

আমাদের সময় ডেস্ক
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০১:১০
advertisement

নোভেল করোনা ভাইরাসের জেরে বিশ্বব্যাপী প্রাণহানির সংখ্যা ৩৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৮ লাখ। বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকায় এই ভাইরাস এখন ত্রাস ছড়ালেও এখনো অপেক্ষাকৃত কম সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এশিয়ায়। করোনার উৎসভূমি চীনেও কমে এসেছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এশিয়ার দেশগুলোর সরকার বলছে, আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার কারণেই এখনো এ অঞ্চলে ইউরোপ এবং আমেরিকার তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে বিষয়টি নিয়ে এশিয়ার দেশগুলোকে এখনই আত্মতুষ্টিতে না ভুগতে সাবধান করেছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি বলছে, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে করোনা মহামারী শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। মারাত্মক ছোঁয়াচে এ ভাইরাস মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ কেবল রোগের প্রাদুর্ভাব কমাতেই সাহায্য করছে। এতে করে গণসংক্রমণ ঠেকানোর জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময়ও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু তার পরও এত সব পদক্ষেপের মধ্যেও মহামারী চলাকালে এ অঞ্চলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবেই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত সোমবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তাকেশি কাসাই এসব কথা বলেন। কাসাই এমন একসময় এ সতর্কবাণী দিলেন, যখন বিশ্বব্যাংক এক
বিবৃতিতে বলেছেÑ মহামারী পরিস্থিতির কারণে এশিয়ার প্রায় আড়াই কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন।
ব্রিফিংয়ে কাসাই বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলছিÑ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে করোনা মহামারী শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। এটি একটি দীর্ঘকালীন যুদ্ধ হতে যাচ্ছে। আমরা কিছুতেই অসতর্ক হয়ে বসে থাকতে পারি না। তাই বড় ধরনের গণসংক্রমণ রোধে এ অঞ্চলের সব দেশকে প্রস্তুত হতে হবে। যেসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তারা অসতর্ক হলে আবারও করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হতে পারে।’
একই দিন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ডব্লিউএইচওর হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান। সিএনএন জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাস্কসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট নিয়ে কথা বলেন তিনি। রায়ান বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মাস্ক ব্যবহারের কারণে লাভ হচ্ছে এ ধরনের কোনো প্রমাণ নেই। মূলত বিশ্বজুড়ে মাস্কের সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে অপব্যবহারই বেশি হচ্ছে। এ কারণে সারা বিশ্বে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ মাস্কের চরম সংকট দেখা যাচ্ছে। অথচ সবার মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। এ মুহূর্তে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কারণ তারা প্রতিদিন, প্রতি সেকেন্ডে এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসছেন। অথচ ভয়াবহ বিষয় হলোÑ তাদের জন্যই পর্যাপ্ত মাস্ক নেই। যদি কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় বা কেউ অসুস্থ ব্যক্তির সেবায় নিয়োজিত থাকেন, তা হলেই কেবল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।’
এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দাফন নিয়ে অনেক দেশেই অব্যবস্থাপনা ও অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে। কারণ করোনায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলে কথিত আছে। এবার এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিতে নিজেদের ওয়েবসাইটে ‘রিস্কস পোজস বাই ডেডবডিস আফটার ডিজাস্টারস’ শিরোনামে একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ডব্লিউএইচও। এতে বলা হয়েছেÑ সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে করোনা ভাইরাসে মারা যাওয়া ব্যক্তি থেকেও সংক্রমণ ছড়ায়। কিন্তু মহামারীর মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। কারণ মানুষ মারা যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় লাশে এসব এজেন্টের বেশিরভাগই সক্রিয় থাকতে পারে না। লাশ থেকে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকে অল্প। যেমন কেউ যদি কলেরায় বা রক্তপ্রদাহজনিত জ্বরে মারা যান, তা হলে এটি ঘটতে পারে। শুধু যেসব মানুষ নিয়মিত লাশ দাফন বা এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাদের যক্ষ্মা, রক্তবাহিত ভাইরাস যেমন হেপাটাইটিস-বি ও সি, এইচআইভি এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগে (কলেরা, ই-কোলি, হেপাটাইটিস, রোটাভাইরাস, সালমানেলোসিস, শিগেলোসিস এবং টাইফয়েড/প্যারাটাইফয়েড জ¦র) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

advertisement