advertisement
advertisement

জ্বর-কাশিতে কিশোর যুবক বৃদ্ধের মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:২০
advertisement

সর্দি-জ্বর ও কাশি নিয়ে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা এক রিকশাচালকের (৫৮) মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে ওই বৃদ্ধের বাড়ি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে ওই গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়াও করোনার লক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার

পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় ওই রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। এদিকে পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, মৃত ওই ব্যক্তির ভাতিজা সম্প্রতি ইতালি থেকে গ্রামের বাড়ি আসেন। এর পর থেকে ভাতিজার সঙ্গেই বসবাস ও চলাফেরা করতেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম সালাউদ্দিন মনজু জানান, ঘটনাটি জানার পরই দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবারসহ আশপাশের কয়কটি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে আনসার সদস্যদের পাহারায় বসানো হয়েছে।

কারোনার লক্ষণ জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর (১৭) মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলো লকডাউন এবং পুরো গ্রামের লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলম বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তাদের বাড়িসহ পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোকে লকডাউন এবং পুরো গ্রামের লোকজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।’

ভা-ারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এইচএম জহিরুল ইসলাম জানান, ছেলেটি চার দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় ভুগছিল। সকালে মোবাইল ফোনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের সঙ্গে তার পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করে। উপসর্গ জেনে তাকে হাসপাতালে আনতে বলা হলেও পরিবারের লোকজন বাড়িতেই তাকে রেখে দেয়। দুপুরে সে মারা যায়। জ্বর-কাশিতে মৃত্যু হওয়ায় ওই কিশোরের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

একই লক্ষণ নিয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক পান বিক্রেতার (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই যুবক গাজীপুরের মৌচাক এলাকায় ফেরি করে পান বিক্রি করতেন। তিন-চারদিন আগে অসুস্থ হয়ে বাড়ি এলেও বিষয়টি গোপন রেখেছিল তার পরিবারের লোকজন। এর মধ্যে গত সোমবার থেকে তার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রক্তবমি করতে করতে তিনি মারা যান।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত রোগীদের লক্ষণ মৃত ব্যক্তির মধ্যে ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে করোনা রোগীরা রক্তবমি করে না। তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, আইইডিসিআরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রুবিনার নেতৃত্বে একটি দল মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরে ওই দলের তত্ত্বাবধানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। সেই সঙ্গে বাড়িটি লকডাউন এবং তার সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তাদের হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন টাঙ্গাইল, দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) ও ভা-ারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

advertisement