advertisement
advertisement

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র

কয়লা নিয়ে আরেক জাহাজ বন্দরে

লুৎফর রহমান কাকন
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতের একটি বড় প্রকল্প পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এ প্রকল্পটি পুরোপুরি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত থাকলেও বর্তমান বিশ্বে করোনা প্রস্তুতি এবং যথেষ্ট পরিমাণ বিদেশি প্রকৌশলী বা দক্ষ লোকবলের অভাবে পুরোপুরি উৎপাদনে এসে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। যদিও প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি যৌথ মালিকানায় নির্মিত। অর্থাৎ প্রকল্পটির মালিকানা রয়েছে বাংলাদেশ এবং চায়নার একটি কোম্পানির।

প্রকল্পটির জ্বালানির জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে জাহাজে করে কয়লা আমদানি চলছে। ইতোমধ্যে কয়লার পাহাড় জমে গেছে পায়রায় বিদ্যুৎ কোম্পানিটির জন্য নির্মিতব্য কোল ইয়ার্ডে। গতকাল মঙ্গলবার ২২ হাজার ২২০ টনের একটি জাহাজ এসে ভেড়ে পায়রা বন্দরে। গতকাল বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) জন্য কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি জাহাজ পায়রা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ২২ হাজার ২২০ টন কয়লা নিয়ে জাহাজটি পায়রাবন্দরে এসে পৌঁছায়। কয়লা খালাস করে জাহাজটি বুধবার বন্দর ছেড়ে যাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটি বন্দরে ভেড়ানোর আগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধসহ সব ধরনের মেডিক্যাল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে জাহাজ থেকে মাল খালাস বা জাহাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ সময় জাহাজের ক্রুদের শরীরের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে ক্রুদের জেটিতে নামতে দেওয়া হয়নি। জাহাজের ক্রুরা করোনা ভাইরাসমুক্ত শিপিং এজেন্ট সম্পর্কিত সার্টিফিকেট সাবমিট করেছেন।

চীনে উৎপত্তি হয়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে আরও অন্তত ১৩২টি দেশে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে করোনার প্রভাব যত বাড়ছে সরকারের বিদেশ নির্ভর প্রকল্পগুলোর অনিশ্চয়তা তত বাড়ছে। ক্ষতিকর প্রভাবে আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়েছে।

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। উৎপাদনে আসতে স¤পূর্ণ প্রস্তুত থাকার পরও কারিগরি কারণে সম্প্রতি এ বিদ্যুকেন্দ্র অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটিতে চীনের অনেক শ্রমিক-প্রকৌশলী ও অপারেটর কাজ করেন। ছুটিতে দেশে গিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তারা সেখানে আটকা পড়েছেন। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কবে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসবে তার নিশ্চয়তা নেই।

২০১৬ সালে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। এক বছর আগে এতে উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে গত ১৩ জানুয়ারি কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করে। পরে চলতি মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফুল লোডে পরীক্ষামূলক কেন্দ্রটি চালানো হয়।

কিন্তু গত জানুয়ারিতে চীনা শ্রমিক-প্রকৌশলী-অপারেটররা ছুটিতে দেশে গিয়ে আটকে পড়ায় হঠাৎ করে সেখানে দক্ষ জনবলের সংকট তৈরি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের ইউনিটটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। করোনা পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে ঠিক কবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসতে পারবে, তা বলতে পারছে না কেউ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিকানা ও পরিচালনায় রয়েছে বাংলাদেশ-চীন পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজারই চীনের নাগরিক। এদের মধ্যে অপারেটরের সংখ্যাই তিন শতাধিক, যাদের অনেকে ছুটিতে দেশে গিয়ে আর ফিরতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে বিসিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল গতকাল আমাদের সময়কে ফোনে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কিছুটা সংকটে পড়েছে। পুরোপুরি উৎপাদনে না আসতে পারলেও জাহাজে করে কয়লা আসছে। যদি পুরোপুরি উৎপাদনে আসতে না পারে তবে এত কয়লা এনে কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা যখন মনে করব এখন কয়লা আর দরকার নেই। এক মাস আগে ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্টদের নোটিশ করলে কয়লা আমদানি বন্ধ রাখা যাবে।

advertisement