advertisement
advertisement

স্বল্পআয়ের মানুষের পাশে ছাত্র সংগঠনগুলো

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ঘোষিত ছুটির মধ্যে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্বল্পআয়ের মানুষরা। দিনে এনে দিনে খাওয়া মানুষগুলো ভোগছেন খাদ্য সংকটে। এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

দেশের যে কোনো সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা বরাবরই প্রশংসনীয় ছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে শুরু থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নি¤œ আয়ের মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক, সাবান ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো। এ ছাড়া জনসচেতনা সৃষ্টিতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ইত্যাদি কাজও করছেন শিক্ষার্থীরা। কঠোরভাবে জনসমাগম এড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এসব কাজ করছেন তারা।

ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, করোনার বিস্তার ঠেকাতে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও এই কর্মসূচি চলছে। সারাদেশে ১১১টি ইউনিট একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিটি ইউনিট নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্যানিটাইজার তৈরি করছে। ছাত্রলীগ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে আট হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছে। এক হাজার পরিবারকে এক মাসের খাবার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। রাজধানীর শাহবাগ, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাব, সংসদ ভবন এলাকা, ফার্মগেট ও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে তিন হাজার স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছে ছাত্রলীগ। এর আগে আরও পাঁচ হাজার মাস্ক ও স্যানিটাইজার দিয়েছে তারা। এ ছাড়া চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা নিতেও একটি ডেস্ক চালু করেছে ছাত্রলীগ। যেখানে যে কেউ ফোন করে পরামর্শ নিতে পারছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্যানিটাইজার তৈরি করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় জানান, শুরু থেকে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অসহায়, কর্মহীন ও দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে ছাত্রদল। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল জানান, তারা ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৪০০ লোকের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে তাদের এ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

শুরু থেকেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় জানান, এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৭০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছেন তারা। এর মধ্যে ঢাকায় করেছেন ৪০ হাজার। এ ছাড়া এক হাজার অসহায় মানুষকে এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও ও মাস্ক দেবেন তারা। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পেশার মানুষ ছাত্র ইউনিয়নকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, মাস্ক ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি তাদের চলমান রয়েছে। ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের জন্য সংগঠনে একটি টিম করা হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর জানান, তার সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা সারাদেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছেন।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ডাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেসব ভাসমান অসহায় মানুষ রয়েছেন, তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। কয়েক ধাপে এটি চলমান থাকবে। এজন্য ডাকসুর ফান্ড থেকে টাকা না নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করেছেন বলে জানান তিনি। ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রতিদিন ভাসমান মানুষদের রান্না করা খাবার দিচ্ছেন। এ ছাড়া অসহায় মানুষের তালিকা করে তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। সৈকত বলেন, আমি শুরু থেকেই রিকশাচালকদের মধ্যে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছি। এসব কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিজ উদ্যোগে করছি।

advertisement