advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ময়লা বহনের ডাম্পিং ট্রাকে বিসিসির ত্রাণ

বরিশাল প্রতিনিধি
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৪
advertisement

করোনা পরিস্থিতিতে বরিশালেও ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। কিন্তু এমন পরিসিস্থিতিতেও বরিশাল সিটি করপেরেশনের (বিসিসি) কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অবশেষে সোমবার কর্মহীন অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে খাদ্যসামগ্রী দিতে মাঠে নামে সিটি করপোরেশন। এতেও তুমুল সমালোচনায় পড়ে সিটি করপোরেশরন কর্তৃপক্ষ। খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে তারা ব্যবহার করেছেন ময়লা বহনের ডাম্পিং ট্রাক।

যেখানে নগরবাসীর সুরক্ষার জন্য সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, সেখানে ময়লার গাড়িতে করে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নগরবাসী। তারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা ঘরে আছি। সংক্রমণ এড়াতে সরকারের দিকনির্দেশনা মেনে চলছি। অথচ সিটি করপোরেশন থেকে যে সহায়তা দিতে এসেছে তা তাদের ময়লা বহনের ডাম্পিং ট্রাকে এনেছেন। তবে ডাম্পিং ট্রাকগুলো পুরোপুরিভাবে জীবাণুমুক্ত বলে দাবি করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি বলেন, ত্রাণসামগ্রী ওঠানোর আগে ট্রাকগুলো জীবাণুনাশক ব্লিচিং দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। তাই এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বরিশালের আহ্বায়ক মো. রফিকুল আলম বলেন, সিটি করপোরেশনের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠান যদি এমন দুর্যোগ মুহূর্তে ময়লার গাড়িতে খাবার সরবরাহ করে সেটি মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনিবিদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জনগণের সুরক্ষার পরিবর্তে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে না। ময়লা বহনের গাড়িতে খাবার সামগ্রী বিতরণ অযোগ্যতারই প্রমাণ করে।

জানা যায়, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে জমিয়ে রাখা নানা ধরনের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ৩৪টি ডাম্পিং ট্রাক। ফলে এসব ময়লার গাড়ি কতটা জীবাণুমুক্ত তা নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই সাধারণ মানুষের মধ্যে। তা ছাড়া সিটি করপোরেশনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে এমন একটি অসচেতনতামূলক কাজ করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ত্রাণসামগ্রী নিতে আসা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক আব্দুল লতিফ বলেন, ৮-১০ দিন ধরে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। পাঁচ সদস্যের পরিবারের উপার্জনক্ষম কেবল আমি। রিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় ঘরে খাবার বলতে কিছুই নেই। সিটি করপোরেশন থেকে চাল-ডাল নিয়ে আসা হয়েছে ময়লার গাড়িতে। অভক্তি হওয়ার পরও ত্রাণ নিতে হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে উপস্থিত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও বিসিসির প্যানেল মেয়র আয়শা তৌহিদ লুনা বলেন, বিষয়টি আমি খেয়াল করিনি। কীভাবে কী হয়েছে সেটা জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি বলে এড়িয়ে যান তিনি।

জানা গেছে, চলমান দুর্যোগে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় ও অসচ্ছল ৪০ হাজার দুস্থ পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রথম দিন সোমবার নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মহীন ১ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। প্রতিটি পরিবারে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি করে মসুর ডালের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয়।

বিসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের অন্তত ৪০ হাজার মানুষ বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। অসহায় এই মানুষের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন।

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক আবদুল হালিম দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি সিটি করপোরেশন ময়লা বহনের গাড়িতে খাবার সামগ্রী সরবরাহ করে থাকে তা হলে সংশ্লিষ্টরা মারাত্মক অপরাধ করেছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ইসরাইল হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের আবর্জনা অপসারণে ৩৪টি গাড়ি রয়েছে। সাধারণত সেগুলোই আমারা করপোরেশনের সব ধরনের মালামাল পরিবহন কাজে ব্যবহার করে থাকি।’ তবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণে এই গাড়িগুলো ব্যবহার করা উচিত হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

বিষয়টি জানার জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

advertisement