advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা ও কৃষি খাত
এ খাতেও থোক বরাদ্দ দিতে হবে

১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৩
advertisement

বাংলাদেশ এখনো মূলত কৃষিপ্রধান দেশ। শিল্প খাতে তৈরি পোশাক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কিছু কারখানার বিকাশ ঘটলেও মৌলিক শিক্ষা স্থাপনে আমরা পিছিয়ে আছি। এদিকে কৃষিও ক্রমে যন্ত্রনির্ভর হয়ে উঠেছে। ফলে দেশে নতুনভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি খুবই মন্থর। এখনো শিক্ষিত তরুণদের জন্য সরকারি চাকরিই মূল ভরসা। বেসরকারি খাত চাকরির বাজারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে অনেক তরুণ নিজ উদ্যোগে কৃষি খাতে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে দেশের সব ধরনের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে চলেছে। সরকারের কোষাগারে অর্থ প্রাপ্তির বিচারে এই খাত তৈরি পোশাক ও রেমিট্যান্সের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও জনসাধারণের নিত্যদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাটিই মিটিয়ে আসছে। তাদের নীরব ভূমিকার ফলে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকছেÑ মাঝে মাঝে নির্দিষ্ট দু-একটি পণ্যে সামূহিক সমস্যা সত্ত্বেও এ কথা বাস্তব সত্য।

কিন্তু মনে হচ্ছে, করোনার আক্রমণের প্রভাব কৃষি খাতও এড়াতে পারবে না। এই মহামারীর প্রকোপ কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে বাংলাদেশ এখন লকডাউনের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বা অধিকতর স্পষ্টভাবে বললে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হলে সবাইকে ঘরেই বন্দি থাকতে হবে। আমরা সবাই জানি বর্তমানে দেশে কোনো জমিই আর অনাবাদি থাকে না, অধিকাংশ জমিই তিন ফসলা। আর যারা সবজি, ফলমূলসহ অর্থকরী ফসলের দিকে ঝুঁকেছেন তাদের তো ফলন মৌসুমি হলেও পরিচর্যার কাজ বছরব্যাপী চালাতে হয়। অর্থাৎ কৃষি খাতের বৈচিত্র্য ও বহর বেড়েছে এবং এ খাতে কাজও হয় সারা বছর। এখন যদি মাসখানেক বিরতি দিতে হয় তা হলে মাঠের পাকা ফসল কাটবে বা তুলবে কে? যে ফসল মাঝামাঝি পর্যায়ে আছে তাতে সার, সেচ ও কীটনাশক ছড়ানো বন্ধ থাকলে ফসলহানি অবশ্যম্ভাবী। সবটা মিলে আগামী এক-দুমাস পরই দেশ তা হলে চরম খাদ্য সংকটে পড়ে যাবে।

এ পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায় তা সরকারকে এখনই ভাবতে হবে। আমাদের দুটি কাজই করতে হবেÑ করোনার প্রাদুর্ভাব এবং দেশের সম্ভাব্য খাদ্য সংকট ঠেকাতে হবে। এর জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। কৃষক ও খামারিরা কীভাবে মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন এবং তাদের রোগ থেকে রক্ষার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। এর সঙ্গে দেশবাসীর স্বার্থ যুক্ত রয়েছে।

আমাদের মনে হয়, গ্রাম পর্যায়ে করোনাসংক্রান্ত উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিস্তার প্রয়োজন। সেখানে প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করতে হবে। উচিত হবে চলতি বছরের উন্নয়ন বাজেট থেকে কিছু বরাদ্দ এ খাতে স্থানান্তর করতে। আশা করি, বিশেষজ্ঞরা এই কাজে সরকারের পাশে থাকবেন এবং সরকারও তাদের সহায়তা গ্রহণে প্রস্তুত থাকবে। তা হলেই বর্তমান দুর্যোগ কাটিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার সামর্থ্য অর্জিত হবে।

advertisement