advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তারকার সচেতনতা
ডাক্তাররা যা বলছেন তা মেনে চলতে হবে

সৈয়দ হাসান ইমাম
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৪
advertisement

আমাদের বয়সের লোকরা এমন অনেক কিছু দেখেছে। আমার ছোটবেলায় আমি এক গ্রামে গিয়েছিলাম, সেখানে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের লোকজন পালিয়ে গিয়েছিল, টিকা দিতে এসেছিল কিন্তু ভয়ে গ্রাম ছেড়ে দিয়েছিল মানুষ। আমরা দুই ভাই টিকা নিয়েছিলাম, তখন পুরো গ্রামে আমাদের বীর হিসেবে নাম হয়েছিল। সেই সময়কার অবস্থা থেকে বর্তমান সময় অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ অনেক সচেতন হয়েছে। সেই সময় আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এত সহজ ছিল না বিধায় এগুলো আন্তর্জাতিকভাবে ছড়াত না, আঞ্চলিকভাবে ছড়াত। কলেরা, ম্যালেরিয়া, গুটিবসন্ত এগুলো আমরা দেখেছি, আরও আগে প্লেগ হয়েছে, আসলে এ রকম হয়। এই সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে হচ্ছে আতঙ্কটা অনেক বেশি ছড়িয়ে গেছে। এই জায়গাটাতে মিডিয়ার বড় একটা দায়ভার আছে বলে মনে হয়, বর্তমানে আমাদের মিডিয়া অনেক বড় হয়েছে তারা করোনা ভাইরাস নিয়ে এমনভাবে প্রচার করছে যে, সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না যে কোনটা সচেতনতা আর কোনটা আতঙ্ক। সংবাদগুলো এমনভাবে প্রচার করুন যাতে মানুষের মাঝে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। দেশে অনেক জায়গায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে, দেশে অনেকে করোনা আক্রান্ত, অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। যদি আপনাদের কাছে প্রমাণ থাকে তা হলে তুলে ধরুন। আমরা সরকারকে বিশ্বাস না করে কাকে বিশ্বাস করব? যিনি মিথ্যা কথা বলছেন তাকে। তিনি তো প্রমাণ ছাড়া বলছেন, কেউ তো বলছেন না আমার আত্মীয় মারা গেছেন। কেউ তো এ রকম বলছেন না। নির্দিষ্ট করে যদি কেউ বলতেন তা হলে আমরা সরকারকে দোষারোপ করতে পারতাম, সরকারকে আমরা চাপ দিতে পারতাম। এভাবে কেন অপপ্রচার করা হচ্ছে আমি জানি না। জানি না এটা কিসের উদ্দেশ্য, এটা তো রাজনীতি করার সময় নয়। এই সময় সবার সংঘবদ্ধ থাকার সময়। ইতোমধ্যেই অনেক বিত্তবান, শিল্পী, খেলোয়াড় সাহায্য করতে মাঠে নেমে এসেছেন। এটা একটা ইতিবাচক ব্যাপার। মুক্তিযুদ্ধের মতো এটাকেও আমরা এবার গ্রহণ করেছি। যারা এগিয়ে আসছেন তাদের সাহসিকতাকে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে আরও অনেক লোক এগিয়ে আসেন। আমি মনে করি, অজানা একটা ভাইরাস আমাদের মাঝে এসেছে, সেটার বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছি, এখন আমাদের মাঝে একতাটা বড় প্রয়োজন। এখানে কে কোন দলের রাজনীতি করে সেটা দেখার সময় এখন নয়। আমি বিরোধী দল করছি বলে আমাকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে আর সরকারি দল করছি বলেই সরকার যেটা বলছে সেটা সহ্য করতে হবে এটা তো ঠিক নয়, আমার তো নিজের বিচার-বিবেচনা আছে। বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইউটিউবে অনেকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে, সংকটময় সময়ে অনেকে এই বিষয়টা নিয়ে মজা করছে। সবাইকে সংঘবদ্ধ হয়ে এগুলো প্রতিরোধ করতে হবে। ডাক্তাররা যেটা বলছেন সেটা মেনে চলতে হবে। ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে, বেশি করে পানি খেতে হবে, বাইরে বেরোনো বন্ধ করতে হবে, বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। এগুলো মেনে চলতে হবে, আমাদের তো করার কিছু নেই। সুস্থ থাকতে হলে নিয়মগুলো পালন করতে হবে। সরকার বলেছে বলে বিরোধী দল মানবে না, সবাই বাইরে বেরিয়ে পড়বে এটা তো আমরা করতে পারি না, আবার সরকার যে কাজগুলো করতে বলেনি বলে আমরা করব না তা কিন্তু নয়। আমাদের একটা জাতীয় ঐক্য হওয়া দরকার। সারা পৃথিবীতে যেমনটা হয়েছে তেমন। সাধারণ জনগণের মধ্যে হয়েছে, যারা রাজনীতি করেন তাদের মধ্যে হচ্ছে না। দেশের এই সংকটময় অবস্থায় রাজনীতিবিদদের মধ্যে ঐক্যটা অনেক বেশি দরকার। যারা মিডিয়াতে আছেন তারা যেই দলকে সাপোর্ট করছেন তারা সেই দিকে যাচ্ছেন, এটা ঠিক হচ্ছে না। এখন জাতীয় ঐক্যটা বিশেষভাবে জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা হলো লকডাউনের মধ্যে যারা কাজ করতে পারছে না, বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ধরেন একজন রিকশাওয়ালা পেটে খিদা লাগলে সে রিকশা নিয়ে বেরিয়ে পড়বে। এটাই স্বাভাবিক, তাই সবার উচিত তাদের সাহায্য করা। এর জন্য সরকারকে চাপ দেওয়া উচিত এবং বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিয়মগুলো পালন করে। মনে রাখতে হবে, এই রোগ হলে যে শুধু মন্ত্রীরা মরবে এমন তো নয়, আমরাও মরব। তাই এটা নিয়ে ছেলেখেলা করার সময় আর নেই। এই বিষয়টাকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তা হলেই করোনা ভাইরাসের বিপক্ষে আমরা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব।

advertisement