advertisement
advertisement

খুলনায় ত্রাণের মাঠে নেই জনপ্রতিনিধিরা

এস এম কামাল খুলনা
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকে স্থবির হয়ে পড়েছে খুলনার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ আপামর মানুষের জীবনযাত্রা। সঙ্গে সঙ্গে অসহায় হয়ে পড়েছে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির সাধারণ মানুষগুলো। গচ্ছিত তহবিল শেষ হতেই পরিবারে শুরু হয়েছে আর্থিক অনটন। ইতোমধ্যে দরিদ্র শ্রেণির মানুষগুলো তিন বেলার পরিবতর্তে দু-এক বেলা আহার করতে শুরু করেছেন। নিম্নমধ্যবিত্তরা অন্যের কাছে হাত পাততে না পেরে পড়েছেন উভয় সংকটে। আপৎকালীন সংকট সামাল দিতে সরকার ও শাসক দলের ত্রাণ বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও মাঠে নেই জনপ্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, যতটুকু যা দান/ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে তার সবই দলীয় ও মুখ দেখে।

করোনার ভয়ে খুলনায় গত ২৬ মার্চ থেকে প্রায় সব কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। জনমানবশূন্য হয়ে পড়েছে নগরী। রিকশা, ইজিবাইক চলাচলও একেবারে সীমিত। বন্ধ হয়ে গেছে চায়ের স্টলসহ অন্যান্য দোকানপাট।

খুলনায় ১ জন মেয়র, ৬ জন সংসদ সদস্য, ১ জন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৯ জন উপজেলা চেয়ারম্যান, ৩১ জন কাউন্সিলর, ৬৮ জন ইউপি চেয়ারম্যান রয়েছেন। তারা সবাই জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া তারা কেউ করোনা সংকটে মাঠে নেই। দেশব্যাপী ভাইরাস আতঙ্কের পর থেকে অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব নিয়ে সাধরণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দানা বাঁধছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনা জেলা প্রশাসন শুরু করেছে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ। পাশাপাশি নৌবাহিনী ও র‌্যাব-৬ কর্মসূচি আকারে পালন করেছে খাদ্য বিরতণ। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিজ ও ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে। খুলনা সিটি করপোরেশনও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে। কিন্তু এ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে মুখ চিনে চিনে। যারা ওই জনপ্রতিনিধির কাছের লোক, তারাই নামের তালিকা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। অভিযোগ উঠেছে, দলীয় লোক না হলে তাদের ভাগ্যে সিটি করপোরেশনের ত্রাণ জুটছে না।

খুলনা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ সামছুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হলো কোনো অসহায় মানুষ না খেয়ে থাকবে না। মুখ চিনে কাউকে ত্রাণসামগ্রী দিতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও অনেকেই এ ধরনের কাজ করছে বলে আমরা শুনেছি। তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

advertisement