advertisement
advertisement

পদ্মা-মেঘনায় দলবদ্ধ হয়ে মাছ শিকারে জেলেরা

এমএ লতিফ চাঁদপুর
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানছেন না জেলেরা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই তারা দলবদ্ধ হয়ে জাল নিয়ে নদীতে নামছে। এতে জেলেপল্লীগুলো ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জেলে অহিদ বেপারী ও ইদ্রিস বেপারী বলেন, করোনা ভাইরাসের কথা শুনেছি। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলাকায় মাইকিংও হয়েছে। কিন্তু অভাব-অনটনে থাকা হতদরিদ্র জেলেদের এ সময়টি রোগবালাই দূরীকরণে সরকারি-বেসরকারি কিংবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ কিছু দিয়ে সাহায্য করেনি। এমনকি জেলেদের দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা কিংবা নদীতে নামার ব্যাপারে কেউ নিষেধও করেনি।

জেলে আবদুল কাদের বলেন, এই সময় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পেটের দায়ে অনেক জেলে নদীতে মাছ ধরছেন। প্রতিটি নৌকায় ৫-৭ জন জেলে নদীতে নামছেন।

যদিও চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, ইলিশ অভয়াশ্রম মৌসুমে জেলেরা যাতে নদীতে নামতে না পারেন, সে ব্যাপারে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিন চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে মেঘনা নদীতীরে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেক জেলেই নদীতে নামছেন জাটকা নিধনের জন্য। তারা দলবদ্ধ হয়ে নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে নামছেন। একই সঙ্গে নদীর পাড়ের আড়তগুলোতে মাছ বিক্রির পাশাপাশি জেলেরা মেতে উঠছেন আড্ডায়। এতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি রক্ষা করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বও।

তবে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম খান বলেন, জেলেদের জন্য সরকারিভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে নির্দেশনা পেলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে ব্যক্তিগতভাবে জেলেদের সহযোগিতার জন্য কার্যক্রম চালানো হবে।

এ প্রসঙ্গে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলেদের কোনোভাবেই নদীতে নামা ঠিক নয়। একই সঙ্গে মহামারী করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে প্রশাসন থেকে বিভিন্ন কমিটি গঠন করে কাজ করা হচ্ছে।

অচিরেই জেলেপল্লীগুলোতেও সরকারিভাবে সহায়তা করা হবে।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলায় অর্ধলক্ষাধিক জেলে রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জেলেদের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের মহামারী ধারণ করতে পারে জেলেপল্লীগুলোতে।

advertisement