advertisement
advertisement

কর্মহীন দরিদ্রদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাবার

সরওয়ার আজম মানিক কক্সবাজার
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

আপনারা ঘরে থাকুন, আমরা আপনাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দেবÑ ভিন্নধর্মী এই সেøাগানকে ধারণ করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ঘরবন্দি, কর্মহীন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। গত রবিবার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, জেলা প্রশাসক হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে মানবিকতার জায়গা থেকে করোনার কারণে কর্মহীন দরিদ্র মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নিজের পরিবার থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন কর্মহীন-অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে এ কাজে বিত্তবানসহ সবারই আন্তরিক সহযোগিতা এখন খুবই প্রয়োজন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ কর্মসূচির কারণে সারাদেশের মতো পর্যটনের জন্য বিখ্যাত জেলা কক্সবাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সড়ক, নৌ ও বিমান যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাইরে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। কোনো মানুষকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। হতদরিদ্র মানুষ কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি আছে। এসব মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে জেলা প্রশাসক ছুটছেন শহর থেকে গ্রামে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধেও জেলাব্যাপী নিয়েছেন নানা ব্যবস্থা। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম; গঠন করেছেন ত্রাণ তহবিল। সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি চলছে জীবাণুনাশক পানি ছিটানোর কাজ। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাকেও নিরাপদে রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। চাল, ডাল, পেঁয়াজ ও তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য নিয়ে শহর থেকে গ্রামে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন জেলা প্রশাসক নিজেই। গত রবিবার দুপুরে সদর উপজেলার লাহারপাড়া এলাকায় কর্মহীন মানুষের ঘরে খাবার নিয়ে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এর মাধ্যমে তিনি সরকারি ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচির সূচনা করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেলার ৭১টি ইউনিয়নে কর্মহীন, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। গত দুই দিনে ৬ শতাধিক পরিবার খাবার পেয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জেলার এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষগুলোর খবর নিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা ধরে ধরে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। এসব মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয় সেই অনুরোধ করেন তিনি।

জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দরিদ্র কর্মহীন মানুষগুলোকে ত্রাণ দেওয়া হবে ত্রাণ তহবিল থেকে।

মানুষের এ কষ্টের সময় বাসার মালিকদের ভাড়া মওকুফ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, কক্সবাজার একটি পর্যটন জেলা। সেই সঙ্গে রয়েছে এখানকার ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। করোনা ভাইরাসের কারণে এসব রোহিঙ্গার যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে থাকা হাসপাতালগুলোকে কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

খাদ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি কক্সবাজার জেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা সদর হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে প্রতিদিন খোঁজ রাখা হচ্ছে।

advertisement