advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কবি হাসান হাফিজুর রহমানের মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

বাংলা একাডেমি, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি, সাংবাদিক, সমালোচক হাসান হাফিজুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল মস্কো সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেন। হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে ১৪ জুন জামালপুর জেলায়

তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক বাড়ি ছিল জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার কুলকান্দি গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের দলিল সম্পাদনায় তার ভূমিকা ছিল অনন্য।

১৯৩৮ সালে ঢাকার নবকুমার স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সরাসরি তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালে হাসান হাফিজুর রহমান ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বিএ অনার্স শ্রেণিতে ভর্তি হন। পরে ১৯৫১ সালে তিনি পাস কোর্স-এবিএ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯১৪ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু ডাক্তারি পড়া অসমাপ্ত রেখেই তিনি শিক্ষা বিভাগে চাকরি নেন। হাসান হাফিজুর রহমানের পেশাজীবন খুব বৈচিত্র্যময় ছিল। সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় ১৯৫২ সালে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি একাধারে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-৫৪) ও দৈনিক পাকিস্তানে (১৯৬৫) সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলায় সম্পাদকম-লীর সভাপতি নিযুক্ত হন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ১৯৫৭-৬৪ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৭৩ সালে মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অবদান রাখেন। একুশের চেতনার ওপর ভিত্তি করে তার কবিতা অমর একুশে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালেই। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। সে বছর তিনি নাট্য চক্রের সভাপতি হন এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ রচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশ নেন।

হাসান হাফিজুর রহমান বেশি পরিচিত তার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ১৬ খ-ের দলিলপত্রের (১৯৮২-৮৩) সম্পাদনার জন্য। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে বিমুখ প্রান্তর (১৯৬৩), আর্ত শব্দাবলী (১৯৬৮), আধুনিক কবি ও কবিতা (১৯৬৫), মূল্যবোধের জন্যে (১৯৭০), অন্তিম শবের মতো (১৯৬৮), যখন উদ্যত সঙ্গীন (১৯৭২), শোকার্ত তরবারী (১৯৮১), প্রতিবিম্ব (১৯৭৬), আরো দুটি মৃত্যু (১৯৭০) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বাংলা ভাষায় হোমারের ওডিসি অনুবাদও করেছেন তিনি।

advertisement