advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বেনাপোল বন্দর
ভারত থেকে ফিরছেন যাত্রীরা পণ্য খালাসে নিষেধাজ্ঞা নেই

বেনাপোল প্রতিনিধি
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার রোধে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারিতে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ অংশে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বেনাপোল বন্দরে এখনো সচল রয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। ভারত থেকেও ফিরছেন যাত্রীরা। ফলে এ পথে দিন দিন ভাইরাসটি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবিব বলেন, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যাওয়া বন্ধ আছে। ভারত থেকেও আসছেন না ভারতীয়রা। তবে এ বিশয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এখন পর্যন্ত ভারত থেকে স্বাভাবিকভাবে ফেরত আসছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন তরফদার বলেন, ভারত সরকারের লকডাউনে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ আছে। তবে আমাদের দেশ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বেনাপোল বন্দর এখনো খোলা আছে। ব্যবসায়ীরা কেউ পণ্য খালাস নিলেও দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সতর্কতা হিসেবে এখনই যদি ভারতের মতো বন্দর ও ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম স্থগিত করা না হয় তবে এর মারাত্মক খেসারত গুনতে হতে পারে। আর বন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় পাসপোর্ট যাত্রী প্রবেশ

বা পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে।

জানা যায়, দেশের চলমান ১১টি বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও বেশি রাজস্বদাতা স্থলবন্দর বেনাপোল। প্রতিদিন এ পথে ভারত থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয় ২০০ ট্রাক পণ্য।

বিশ্বের অনান্য দেশের মতো করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ ভারত। দিন দিন অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এ ভাইরাসের বিস্তার এড়াতে ভারত সরকার গত ১৩ মার্চ থেকে বাংলাদেশিসহ বিদেশিদের তার দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরবর্তীতে ১৫ মার্চ দুই দেশের মধ্যে বাস, রেল ও বিমানে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। ২৩ মার্চ বন্ধ করে এ পথে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য। সর্বশেষ ২৪ মার্চ নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দেরও দেশে ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য বা পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। ফলে এখনো সচল রয়েছে ভারত থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ফেরত আসা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে আমদানি করা পণ্য খালাস কার্যক্রম। এতে সবাই আছে আতঙ্কের মধ্যে।

বন্দরের পাশে বসবাসকারী আলী আশরাফসহ কয়েকজন বলেন,

প্রতিবেশ দেশ সংক্রমণ বিস্তার রোধে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, পাসপোর্টযাত্রী পারাপার বন্ধ ছাড়াও লকডাউন করেছে। কাজেই বাংলামেশে সংক্রমণ এড়াতে বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ও পাসপোর্ট যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। তা না হলে বড় খেসারত আমাদের গুনতে হতে পারে।

বন্দরের শ্রমিক ও নিরাপত্তাকর্মী আনসার সদস্য বলেন, বন্দরের ডাকে এখনো ঝুঁকির মধ্যে পণ্য খালাস ও নিরাপত্তার কাজ করছি। বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী কেউ আমাদের মাস্ক বা নিরাপত্তা সামগ্রী দেয়নি। আর এসব কেনা শ্রমিকদের পক্ষ্যেও সম্ভব নয়। এতে আমরাও আতঙ্কের মধ্যে আছি।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের মেডিক্যাল অফিসার আবদুল্লা আল মামুন বলেন, যারা চিকিৎসা, ব্যবসা ও বেড়ানোর কাজে ভারতে গিয়েছিলেন এখনো প্রতিদিন তারা ফিরছেন। যারা ফিরছেন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীর সংখ্যা আগের চেয়ে কম।

উল্লেখ্য, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার যাত্রী দেশে ফিরেছেন। সব শেষ গত ২৮ মার্চ বেনাপোল বন্দরে ৪৮ ট্রাক পণ্য শ্রমিকদের মাধ্যমে খালাস হয়। চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কাজ করছেন।

advertisement