advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা রোগী তল্লাশির নামে গণধর্ষণ

মিজানকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক জামালপুর
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

জামালপুরে পুলিশ পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে তরুণীকে (১৪) গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। অন্য আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। ওই তরুণী জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট

প্রকাশ হয়নি।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কনফারেন্স রুমে জামালপুরের এসপি মো. দেলোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগের সময় ধর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাটি পুলিশ অধিকতর গুরুত্ব দেয়। মিজান নামে এক ধর্ষককে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত রিমান্ডের শুনানির তারিখ ৭ এপ্রিল ধার্য করে ধর্ষক মিজানকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা তৎপর রয়েছি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব বলে আশা করছি।

এসপি মো. দেলোয়ার আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনা সবই ঠিক রয়েছে। তবে পুলিশ পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর আমরা মেয়ের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। জানতে পারিÑ তিনি সৎবাবা, বাড়িতে আসর বসিয়ে গাঁজা সেবন করতেন। সেদিনও বাড়ির পাশে ওই পাঁচ যুবক নিয়ে মেয়েটির বাবা গাঁজা সেবন করছিলেন। মাঝখানে মিজান ও পুশন নামে দুই যুবক আসর থেকে উঠে গিয়ে পানি খেতে যায় তাদের ঘরে। মেয়েটি পানি দিতে আসলে মিজান ও পুশন জোরপূর্বক বাড়ির পাশে বেগুন ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এই ছিল ঘটনা। মেয়েটির বাবা নিজের দোষ আড়াল করতে পুলিশ পরিচয়ে করোনা তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের কথা সাংবাদিকদের বলেছেন। আমরা ডাক্তারি রিপোর্ট, এলাকায় তদন্ত ও গ্রেপ্তার মিজানের রিমান্ড মঞ্জুর হলে প্রকৃত ঘটনা বের করতে পারব।

এদিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী সাংবাদিকদের বলে, পুলিশ পরিচয়ে করোনা রোগী তল্লাশির নামে ঘরে ঢুকে চার যুবক আমাকে তুলে নেওয়ার সময় আমার বাবা-মা বাঁধা দেন। আমার বাবার গলায় ছুরি ধরে মাকে মারধর করে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। এর পর ক্ষেতে ফেলে ওরা জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। চারজনের পর আরেকজনকে ফোন দিয়ে ডেকে আনে, সেও ধর্ষণ করে। এই চারজনের মধ্যে মিজান ও পুশনকে চিনেছি। বাকি তিনজনকে চিনতে পারিনি।

ধর্ষিতার বাবা-মাও এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে একই বক্তব্য দিয়েছেন। মুখ না খুলতে ও মামলা না করার জন্য প্রভাবশালীরা চাপ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। তার বাবার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।

advertisement