advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনার মধ্যেই হামের প্রকোপ সাজেকে

রাঙামাটি প্রতিনিধি
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০১:৪৪
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে ফের ‘হাম’-এর প্রকোপ বেড়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে দুর্গম পাহাড়ি ১২টি গ্রামে। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে দেড় শতাধিক শিশু। এর আগে ২০ দিনের ব্যবধানে ৮ শিশুর মৃত্যু হয় সাজেকে। এর মধ্যে ছয় শিশু মারা গেছে এক সপ্তাহেই। আক্রান্ত হয় ১২৩ শিশু। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে পাঁচটি মেডিক্যাল টিম কাজ শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ ও সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নতুন আক্রান্ত গ্রামগুলো হচ্ছেÑ সাজেকের ভুয়াছড়ি, কজইছড়ি, শিলছড়ি, উজানছড়ি কজইতলী, বড়ইতলী, লাম্বাবাক, তালকুম্বা, বেতবুনিয়া, শিবপাড়া, সাতনংপাড়া ও মডেবাছড়া। এসব গ্রামে দেড় শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। আক্রান্ত এলাকার সাতনংপাড়ার কার্বারী (গ্রামপ্রধান) দয়াল ত্রিপুরা বলেন, ‘দুদিন থেকে আমার এলাকায় ১ থেকে ৮ বছরের ১৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একই পরিবারের রয়েছে চারজন।’ স্থানীয় প্রতিমালা ত্রিপুরা জানান, তার চার শিশু রনিতা (১), মাতই (৩), মল্লিকা (৪), অকুল ত্রিপুরার (২) হাম হয়েছে। রবিবার সকালের দিকে তাদের গায়ে জ্বর আসে। এর পর রাত থেকেই লালচে ঘামাচির মতো দেখা দেয় শরীরে। কোনো ওষুধ নয়, শুধু গরম পানি খাওয়ানো হচ্ছে তার সন্তানদের।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘আগে থেকেই সেখানে আমাদের দুটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তবে নতুন আক্রান্তের খবর পেয়ে গত রবিবার পাঁচ সদস্যের আরেকটি চিকিৎসক দল পাঠিয়েছি। আশা করছি পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।’ সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক দল কাজ শুরু করেছে।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভারত সীমান্তবর্তী সাজেকে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ফেব্রুয়ারিতে। এর মধ্যে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অরুণপাড়া, লাংকাটানপাড়া ও হাইচ্যাপাড়া গ্রামে রোগটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে আট শিশুর মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় ১২৩ শিশু। পরে তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই শনাক্ত হয়, এটি ‘হাম’।

আক্রান্তদের চিকিৎসায় গত ২৪ মার্চ খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সেনানিবাস থেকে হেলিকপ্টারে করে উপদ্রুত এলাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল পাঠানো হয়। পরদিন হামে আক্রান্ত ৫ শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এদিকে শিশুমৃত্যুর সঠিক কারণ ও টিকাদান বিভাগের কোনো গাফিলতি আছে কিনা, সেটি খতিয়ে দেখতে বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতুকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ। এ ছাড়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ২৩ মার্চ ঢাকা থেকে ইপিআই প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মাওলা বক্স চৌধুরী ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) চার সদস্যের চিকিৎসক দল বাঘাইছড়ি সফর করেন।

advertisement