advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চারজনকে সঙ্গে নিয়ে বাবার গলা কাটে ছেলে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

বাবু শক্ত করে পা ধরে, মিজান বুকের ওপর ওঠে, দুলাল মাথা ও গলা ধরে, আর ছেলে মাহবুব ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বাবাকে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর মাহবুব ও মিজান লাশ দুলালের কাঁধে তুলে দেয়। দুলাল সামান্য দূরে গিয়ে ফেলে দেয় ঝোপের মধ্যে। এ সময় লিটন ব্রিজের কাছে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়। এর পর তারা যে যার মতো করে বাড়ি চলে যায়। আদালতে এভাবেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় চারজন।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে এমন লোমহর্ষক হত্যাকা-ের ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের আমদই ইউনিয়নের সুন্দরপুর নয়াপাড়া গ্রামে। তবে হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাদের প্রত্যেককে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জয়পুরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হলে বিচারক গোলাম মাহফুজের কাছে হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের মধ্যে দুলাল ও মিজানের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

জয়পুরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক

(এসআই) মিজানুর রহমান হত্যা মামলার বরাতে জানান, সুন্দরপুর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র ভ্যানচালক আবদুল জলিল মাত্র আড়াই শতক জমির ওপর একটি বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় অনেক আগেই বাড়িটি প্রতিবেশী মোজাম হাজির কাছে রেজিস্ট্রি ছাড়া বিক্রি করে দেন। এ নিয়ে মোজামের ছেলের সঙ্গে আবদুল জলিলের ছেলে মাহবুব রহমানের প্রায় সময়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।

এরই জেরে ইসমাইল নামে এক পরিচিত ব্যক্তির বুদ্ধি শুনে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা আঁটে মাহবুব। বিনিময়ে ওই বাড়িটি তার হাতছাড়া হবে না, উল্টো হত্যার দায়ে মোজাম হাজির ওপর মামলা লাখদশেক টাকা আদায় করা যাবে। যেমন চিন্তা, তেমন কাজ। এর পর মাহবুব ১ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে গ্রামের ওই চার সহযোগীকে ঠিক করে।

সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ রাতে আবদুল জলিল ভ্যান নিয়ে জয়পুরহাট থেকে নিজ গ্রামের ত্রিমোহনী ব্রিজের কাছে পৌঁছেন। এ সময় ছেলে মাহবুবসহ পাঁচজন তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরের দিন দুপুরে ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে আবদুল জলিলের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এসআই মিজানুর আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশের সন্দেহ হলে প্রথমে নিহতের ছেলেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে তার বাবাবে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জড়িত একই এলাকার ওই চারজনকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

advertisement