advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অভাবে নয়, স্বভাবেও ভাঙছে ‘লকডাউন’

চট্টগ্রাম

হামিদ উল্লাহ চট্টগ্রাম
১ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০০:৪৫
advertisement

খাবারের গাড়ি দেখলেই ছুটে যান নিম্নআয়ের লোকজন। পুরো চট্টগ্রাম শহরেই দলবেঁধে তাদের অবস্থান। তবে অভাব থেকে নয়, বরং বিনামূল্যে বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রী নিতেই তারা ভাঙছে অঘোষিত লকডাউন। মানুষকে ঘরে রাখতে সারাদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে নামলেও কিছু ছোটখাটো অপ্রীতিকর ঘটনায় তা অনেকটাই শিথিল হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। জানা যায়, লোকজনকে রাস্তাঘাট থেকে জোর করে সরানোর কাজটি ক্রমশ স্তিমিত হয়ে পড়েছে। মূলত একজন নারী এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহারের প্রভাব পড়েছে প্রশাসনের সবখানে। ওই ঘটনার পর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কিছুটা শৈথিল্য দেখান। আর এ সুযোগে লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন হরহামেশা।

গত দুদিন ধরে নগরীতে অপেক্ষাকৃত বেশি লোকজনকে বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হতে দেখা যায়। কিছু রিকশাচালকও বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান করেন। তবে ভাড়া টানতে নয়, তাদের অপেক্ষা বিনামূল্যে বিতরণ করা খাবারের ট্রাকের জন্য। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নগরীর সিআরবি এলাকায় দলবেঁধে কিছু নারীকে হাঁটতে দেখা যায়। জানতে চাইলে রাবেয়া বেগম নামের একজন বলেন, ‘গত তি নদিন ধরে কিছু খাইনি। তাই খাবার সংগ্রহ করতে বাইরে এসেছি।’ একটু সামনে গিয়ে আরেকটি দলকেও একই ধরনের কথা বলতে শোনা যায়। এমনকি কারও একজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আশপাশের অন্যরাও জড়ো হয়ে যায় খাদ্যসামগ্রীর আশায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমাদের আসলে নীতি নৈতিকতা বোধের বড়ই অভাব। লকডাউন সবেমাত্র শুরু হল, দেশে এখনো সেভাবে খাদ্যের সংকট হয়নি। অথচ কিছু মানুষ

বিনা পয়সার খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে সব নিয়ম ভাঙছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি একদিন ৫০০ ভাসমান

মানুষকে খাদ্যসামগ্রী দিতে বের হয়ে দেখি, কিছু লোক ঘুরেফিরে নিচ্ছে। মুহূর্তেই শত শত লোক জড়ো হয়ে যায়। পরে আমরা এভাবে খাবার বিতরণের পরিবর্তে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিতরণের সিদ্ধান্ত নিই।’ আক্ষেপ নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা হার্ডলাইনে যেতে পারছি না। তাই দেখা যাচ্ছে, সন্ধ্যা হলেই শহরে ও গ্রামে বাজার বসে যাচ্ছে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৬ মার্চের পর মানুষের মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে সবখানে পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঘটা করেই মাঠে নামেন। নিজ নিজ অবস্থান থেকেই তারা কঠোর হওয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকটি স্থানে মারমুখীও হন কেউ কেউ। কিন্তু পরবর্তীতে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক প্রচার হওয়ায় নির্বাহী প্রশাসন দ্রুত কিছু সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে বৃদ্ধদের কান ধরে ওঠবস করানোয় যশোরের মনিরামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েমা হাসানকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত সবাইকে একটি বার্তা দেয় বলে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। এর পর দায়িত্ববোধের পরিবর্তে অনেকে নিয়ম রক্ষার কাজ করছেন।

চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, ‘নানাভাবে লোকজন লকডাউন ভাঙছে। ভদ্রলোকেরা ঘুরতে বের হচ্ছেন কোনো কারণ ছাড়াই। কেউ কেউ খাবার দিচ্ছেন, সেটা নিতে গরিব মানুষ মুহূর্তেই জড়ো হয়ে যাচ্ছেন। তারা হয়তো এক প্যাকেটের পরিবর্তে তিন প্যাকেট নিচ্ছে। আমরা এভাবে খাবার বিতরণে নিরুৎসাহিত করছি। বলেছি, গরিবদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার দেন।’ প্রশাসনের শৈথিল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সেটা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। পুলিশ সদস্যদের বলেছি, শৈথিল্য দেখানোর সুযোগ নেই। মাঠে কাজ করতে গেলে অনেক সমালোচনা হবে। এটা মেনেই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

advertisement