advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষ ও অর্থনীতি রক্ষায়

১ এপ্রিল ২০২০ ০১:১২
আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০১:১২
advertisement

করোনা সংক্রমণের এ দুঃসময়ে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে রক্ষা করা, পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় আহারের ব্যবস্থা করা। করোনা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এই নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। এ অবস্থায় অর্থনীতি বাঁচাতেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণে পর্যালোচনা বৈঠকে নিজ বাসভবনে এসব কথা বলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আইআরডি সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আসন্ন বাজেট নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়। করোনার প্রভাবে বাজেটে যেন আর্থিক সংকট না হয়, সেজন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশকে নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হতে পারে। আমরা এখনো জানিনা করোনা কতদিন প্রলম্বিত হয়। আমদানিব্যয় ও রপ্তানিআয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে এবং অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ আরও কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা আছে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং এভিয়েশন সেক্টরের মতো সার্ভিস সেক্টরগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশ্বের অন্য দেশের মতো বিরূপ প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে। জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের অধিক হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ের ওপর। যেহেতু বিগত আট মাসে প্রবাস আয়ে ২১ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ছিল, সেহেতু আগামী চার মাসে প্রবাসী আয় কিছুটা কম হলেও বছর শেষে গত অর্থবছরের তুলনায় কম হবে না বলে আশা করা যায়। সারা বিশ্বের অর্থনীতি কীরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে প্রাক্কলন প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। কেননা এখনই সামগ্রিক প্রাক্কলন সম্ভব নয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রাক্কলনে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে, যদি করোনার প্রভাব বাংলাদেশে খুব খারাপভাবে পরিলক্ষিত হয়। দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লকডাউনের ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটিরশিল্পসহ উৎপাদনমুখী সব প্রতিষ্ঠানে বিরূপ প্রভাব এবং পরিবহনসেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে। রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও আমরা শঙ্কিত।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি ও মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক এ বিরূপ প্রভাব উত্তরণে বেশ কিছু অবিলম্বে, স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিম্নআয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরেফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা দিতে হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়া হবে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এনজিওগুলোর ঋণের ক্ষেত্রে জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে অপরাগ হলেও ঋণখেলাপি করা হবে না। রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানিব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

advertisement
Evall
advertisement