advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তাবলিগ জামাতের ঘটনায় ভারতে ইসলাম বিদ্বেষ বাড়ছে

অনলাইন ডেস্ক
৪ এপ্রিল ২০২০ ০৯:৫৭ | আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০২০ ১৩:৩৮
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের একটি সমাবেশে যোগ দেওয়া অন্তত ৩শ’ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মুসলিম বিদ্বেষের মাত্রা বেড়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সামাজিক মাধ্যমে করোনাজিহাদ বা নিজামুদ্দিন ইডিয়টসের মতো বিভিন্ন হ্যাশট্যাগ ছড়িয়ে পড়ছে। গণমাধ্যমের একটা অংশও পিছু নিয়েছে এবং ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব।

ভারতের মুসলমান নেতৃত্ব যদিও স্বীকার করেছেন যে, তাবলিগের ত্রুটি নিশ্চয়ই হয়েছে। কিন্তু খোদ রাজধানীতে পুলিশ বা সরকারই কেন এ সময়ে ওই সম্মেলন (মারকাজ) হতে দিল? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগ জামাতের মারকাজে যোগ দিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে যাওয়া কয়েকজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ভারতের গণমাধ্যমে অতি মাত্রায় গুরুত্ব পেতে শুরু করে ওই ঘটনা।

ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য জাফরিয়াব বলেন, ‘ভুল দুই তরফেই হয়েছে। ওই সমাবেশে যারা গিয়েছিলেন, তাদের উচিত ছিল নিজের থেকেই পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া এবং চিকিৎসকদের আর সরকারের পরামর্শ নেওয়া। কিন্তু উল্টো দিকে, সরকারই বা ব্যবস্থা নেয়নি কেন! সমাবেশটা তো হয়েছে যখন দেশে কোনো লকডাউন ছিল না, সেই সময়ে। তারপর যারা ফিরতে পারেনি, লকডাউনের ফলে তাদের জন্য তো সরকারের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এ রকম একটা কঠিন সময়ে বিষয়টাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটা একেবারেই কাম্য নয়। মুসলমানদের প্রায় সবাই কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কথা মেনে চলছে। আলেমরা নির্দেশ দিয়েছেন জমায়েত না করতে।’

পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী এবং রাজ্যের মুসলমান সমাজের অতি পরিচিত নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, 'তাবলিগ জামাত যদি ভুল করে সমাবেশ করে, তাহলে সরকার কী করছিল?'

পশ্চিমবঙ্গ থেকেও অনেকে গিয়েছিলেন ওই সমাবেশে। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, ‘কারা গিয়েছিলেন সেখানে, সেটা জানা গেছে। আমি বলবো, তারা নিজের থেকেই এগিয়ে এসে পরীক্ষা করিয়ে নিন। ডাক্তারি পরীক্ষা করানো তো ইসলামবিরোধী কাজ নয়।’

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো অবশ্য তাবলিগ জামাতের সমাবেশ নিয়ে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করছে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের বাংলা পত্রিকা স্বস্তিকার সম্পাদক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, ‘এটা মুসলমান বিদ্বেষ কখনোই নয়। তবে যেটা হয়েছে, সেটা তো ভয়াবহ। তাবলিগ জামাত যে ঘটনা ঘটিয়েছে, এ রকম একটা পরিস্থিতিতে বড় সমাবেশ করলেন তারা, সেখান থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লেন। এ রকম একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ কী করে করলেন তারা? ধর্মান্ধতা আর পশ্চাদপদতা যে মানুষকে কোথায় টেনে নিয়ে যায়, কীভাবে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনলেন তারা, সেটাই প্রমাণ করলো তাবলিগ জামাত।’

ছড়িয়ে পড়ছে মুসলিম বিদ্বেষী ভুয়া ভিডিও, খবর

ভুয়া খবর যাচাই করে দেখে, এমন একটি ওয়েবসাইট অল্টনিউজের সম্পাদক প্রতীক সিনহা বলেন, ‘নিজামুদ্দিনের ঘটনার পর থেকে এ রকম অনেক ভিডিও আর পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেগুলোর টার্গেট মুসলমানরা। আমরা একটা ভুয়া ভিডিও খুঁজে পেয়েছি, যেখানে একদল মুসলমানকে থালা-বাটি চাটতে দেখা যাচ্ছে। বলা হয়েছে, এভাবেই মুসলমানরা করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা যাচাই করে দেখি যে, ওটি আসলে বোহরা মুসলমানদের একটি রীতি। খাওয়ার পরে যাতে থালায় একটিও খাদ্যকণা অবশিষ্ট না থাকে, সেজন্য তারা চেটে পরিষ্কার করে দেন।’

তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে আরেকটি ভিডিও আসে আমাদের কাছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি মসজিদের ভেতরে একদল মুসলমান কোনো একটা আওয়াজ করছেন। ভুয়া পোস্টটিতে বলা হয়, এভাবে হাঁচি দিয়ে মুসলমানরা নাকি করোনা ছড়াচ্ছে। অথচ এটি আসলে একটা সুফি আচার, যেখানে তারা শ্বাস-প্রশ্বাসের একটা অভ্যাস করেন - সেটাই তারা করছিলেন।’

তার ভাষায়, ‘এসব ভুয়া ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দিয়ে ভারতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য মুসলমানরাই দায়ী, এমন একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ 

advertisement
Evaly
advertisement