advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা বিস্তার নিয়ে অন্ধকারে দেশের মানুষ
কাটাতে হবে ধোঁয়াশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০২০ ০৭:২৫
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এ মহামারী মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবিলায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ে প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি হয়েছে; জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এত সব কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি গঠন, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে চলা তৎপরতার পরও দেশে করোনার সংক্রমণ ও এর বিস্তারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনার লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। তাদের অনেকেরই নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাই দেশে করোনা কতটা ছড়িয়ে পড়েছে, এ নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধোঁয়াশা। এ ধোঁয়াশা যত শিগগির সম্ভব কাটিয়ে উঠতে হবে। কারণ ধোঁয়াশা থেকেই মূলত নানা রকম গুজব ডালপালা মেলছে। আবার এমনও দেখা গেছে, কেউ মারা যাওয়ার তিন দিন পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতের নমুনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পরপর স্বাস্থ্য ও প্রশাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মৃতের এলাকায় হঠাৎ শুরু হওয়া লকডাউনে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। সঠিক তথ্যাদির অভাবে দেশের মানুষ করোনা সম্পর্কে এক রকম অন্ধকারে রয়ে গেছে। তদুপরি যত্রতত্র করোনার উপসর্গ নিয়ে একের পর এক মৃত্যু তাদের আতঙ্কিত করে তুলছে। আর সে আতঙ্ক আরও বেড়ে যাচ্ছে স্থানে স্থানে লকডাউন ঘোষণায়।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ, আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সন্দেহভাজনদের কোয়ারেন্টিনসহ সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তরফে যেসব তথ্য তুলে ধরা হয়, তা ছিল স্রেফ ধারণানির্ভর, যথার্থ বা বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়নি।

এ ছাড়া শুরু থেকেই করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা বাড়ানোর ওপর যে তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল, তা এখনো কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এটি খুবই উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তারা বলছেন, নমুনা পরীক্ষায় অসক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতা, যথাযথ কোয়ারেন্টিন না হওয়ার পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে বাসাবাড়ি ছেড়ে জনসমাগমস্থলে চলে আসা। তদুপরি সাধারণ রোগের চিকিৎসা পেতে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা। বিশেষ করে করোনার উপসর্গের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় জ্বর, সর্দি, কাশিতে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত করা হচ্ছে না।

গত রবিবার শ্বাসকষ্ট ও জ্বরের কারণে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রসুলবাগে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। রোগীর স্বজনরা তাকে সেখানে না নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। এর পর অবস্থার অবনতি হলে ওই নারীকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই নারীর লাশ স্বজনরা স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করেন। অন্যদিকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষায় আইইডিসিআরে পাঠায়। তিন দিন পর আইইডিসিআর জানায়, তার করোনা ভাইরাস পজিটিভ ছিল অর্থাৎ তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। সেটি গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা। সেদিন রাতেই স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা রসুলবাগে উপস্থিত হয়ে ওই এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করেন। ফলে স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

ওই নারীই নয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনার উপসর্গ নিয়ে অনেকেই মারা যাচ্ছেন। শুধু গতকালের হিসাবেই ঢাকার বাইরে মারা গেছেন ১০ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কিনাÑ তা পরীক্ষায় তাদের অনেকেরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। আর যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, তাদের করোনা পরীক্ষা ও এর ফল পেতে কয়েকদিন লেগে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছেÑ মৃতের নমুনায় যদি করোনা পজিটিভ হয়ও, ফল পাওয়ার আগে মাঝের যে কয়েকটি দিন চলে যায়, সেই সময়ই ভাইরাসটি কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের শনাক্ত করতে রাজধানীর ৯টিসহ সারাদেশে ১৪টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পিসিআর টেস্ট শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাকরণ, চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ যাবতীয় বিষয় মনিটরিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর উচ্চপর্যায়ের একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয় কাজে একেকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে একেকটি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সভাপতি ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে সদস্য সচিব করে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও সিভিল সার্জনকে সদস্য সচিব করে জেলা পর্যায়ে করোনা প্রতিরোধ কমিটি; উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি ও উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আউটডোর চিকিৎসা সীমিত করে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বর্তমানে এই কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সামান্য জ্বর, কাশি, ঠা-াজনিত রোগে হাসপাতালে না গিয়ে টেলিমেডিসিনে পরামর্শ নিতে অনুরোধ জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যারা টেলিমেডিসিন সেবা না নিয়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে যাচ্ছেন, তারা ভোগান্তির শিকার হন। যেসব রোগীর মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ আছে, তাদের কাছে অনেক চিকিৎসক সেবা দিতে আগ্রহ দেখান না। ফলে একজন রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হয়।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ, জনসচেনতা সৃষ্টি, রোগ শনাক্তকরণ, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা, আক্রান্তদের আইসোলেশনে চিকিৎসা, কোয়ারেন্টিন, হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে পিপিই সরবরাহ ও সাধারণ রোগীর চিকিৎসাসেবাসহ করণীয় বিষয়গুলো দেখভাল করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনিক্যাল কমিটি। এ কমিটিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখার লাইন ডিরেক্টর ও পরিচালকরা যুক্ত আছেন। একেকজন লাইন ডিরেক্টর বা পরিচালক একেকটি দিক দেখভাল করেন।

কমিটির সদস্য অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, আমাদের টেকনিক্যাল কমিটিতে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখার লাইন ডিরেক্টর ও পরিচালকরা যুক্ত আছেন। আমাদের মহাপরিচালক স্যার সব বিষয় মরিটরিং করেন। একেকজন লাইন ডিরেক্টর বা পরিচালককে একেকটি বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পেশেন্ট কেয়ার ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিক সাপোর্ট, পার্টনারদের সঙ্গে কমিউনিকেশন, ডব্লিউএইচও প্রটোকল তৈরি, স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতায়াত, কোয়ারেন্টিন ইত্যাদি। তিনি বলেন, নতুন ভাইরাস হওয়ায় প্রথমদিকে চিকিৎসকরা হাসপাতালে রোগী দেখতে একটু আগ্রহ কম দেখাতেন। এখন এটি ঠিক হয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস খুবই ছোঁয়াচে। এ কারণে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা সীমিত করা হয়েছে। সর্দি, কাশি, জ্বরের রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির পরিবর্তে টেলিমেডিসিন সেবা নিতে বলা হচ্ছে। সামান্য জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশির জন্য হাসপাতালে না যাওয়াই উত্তম।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষ করোনার লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে পরামর্শ পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসক সংগঠনের উল্লিখিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে থাকেন। এর মধ্যে একটি অংশ ফোন করেন পরীক্ষার জন্য সহায়তা পেতে। গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৬২৬৩ নম্বরে ৬২ হাজার ১৭৩ জন, ৩৩৩ নম্বরে ১ হাজার ৫৪১ জন এবং আইইডিসিআরে ৩ হাজার ৮৯ জনসহ মোট ৬৬ হাজার ৮০৩ জন যোগাযোগ করেছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসক সংগঠনের নম্বরে ফোন করে সেবাপ্রত্যাশীদের সংখ্যা এর বাইরে, যার সঠিক পরিসংখ্যান অজানা। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৪৩৪ জনের পরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশে গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা শুরু করা হয়। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে এই ভাইরাস পরীক্ষার একক ও একমাত্র সেন্টার হিসেবে এতদিন দায়িত্ব পালন করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর পর গেল সপ্তাহ থেকে ঢাকায় ৯টি এবং ঢাকার বাইরে ৫টিসহ মোট ১৪টি সেন্টারে পরীক্ষা কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসের মধ্যে দেশের ২৮টি ল্যাবে পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকায় করোনা ভাইরাসের রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা ৯টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছেÑ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, মহাখালীর আইইডিসিআর, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, আইসিডিডিআরবি ও আইদেশী, সেনাসদরের আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি, শেরেবাংলানগরের শিশু হাসপাতাল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার এবং ঢামেক হাসপাতাল।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেস (বিআইটিইডি), ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ এবং কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ।

জানা গেছে, ঢাকায় করোনার নমুনা পরীক্ষায় যে ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ৩টি প্রতিষ্ঠান বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সাপেক্ষে রোগীর কাছ থেকে সরাসরি নমুনা সংগ্রহ করে। অবশিষ্ট ৬টি প্রতিষ্ঠানে নমুনা পাঠান আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা।
মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ গত সপ্তাহের শুরুতে মহাখালীর জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইপিএইচ) ল্যাবরেটরিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব টিম সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। আর ল্যাবের পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফল পাঠানো হয় আইইডিসিআরে।

আইসিডিডিআরবি
মহাখালীর আইসিডিডিআরবি পরীক্ষাকেন্দ্রে এখনো আইইডিসিআর থেকে কোনো নমুনা পাঠানো হয়নি। প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীর মধ্যে সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, আইইডিসিআর থেকে আমাদের ল্যাবে নমুনা পাঠানোর কথা। কিন্তু এখনো কোনো নমুনা পাঠানো হয়নি। করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১০ শতাংশের ডায়রিয়া হয়ে থাকে। আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে কাউকে চিকিৎসকের সন্দেহ হলে তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তিনি জানান, আইসিডিডিআরবিতে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) গত ১ এপ্রিল থেকে সন্দেহভাজনদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা চলে। নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও ফল তৈরিতে সময় লাগছে চার ঘণ্টা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়–য়া বলেন, গত ২ সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতার ভবনে ফিভার ক্লিনিকে জ্বর, সর্দি-কাশির রোগীদের পৃথকভাবে চিকিৎসাসেবা চলছে। বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা ও জরুরিসেবা চালু রয়েছে। আমাদের এখানে সর্দি, জ্বর, হাঁচি, কাশি ও গলাব্যথার যেসব রোগী আসবে, তাদের লক্ষণ-উপসর্গ দেখে যদি চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন, তাহলে সে রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া বারডেম জেনারেল হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতাল থেকে যদি চিকিৎসকরা সন্দেহভাজন রোগীদের টেস্টের পরামর্শ দিয়ে আমাদের এখানে পাঠালে তাদের নমুনাও পরীক্ষা করা হবে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
ঢামেক হাসপাতালে গত ২ এপ্রিল থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথার চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী কোনো রোগীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখে চিকিৎসকের সন্দেহ হলে তার পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত করতে মেডিক্যাল কলেজের চতুর্থ তলায় ভাইরোলজি বিভাগে পরীক্ষাকেন্দ্র করা হয়েছে। আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীর লক্ষণ-উপসর্গ দেখে যদি চিকিৎসক তার মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ আছে বলে মনে করনে তা হলে ওই রোগীর পরীক্ষা করা হবে। বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীর পরীক্ষা এখানে আপাতত করা যাবে না। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টার
শেরেবাংলানগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারে গত ৩ এপ্রিল থেকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামছুজ্জামান বলেছেন, আমাদের এখানে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় তিনটি পিসিআর মেশিন বসানো হয়েছে। শেরেবাংলানগর ও আশপাশের এলাকায় চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী কোনো রোগীকে চিকিৎসক করোনা ভাইরাসের সন্দেহভাজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের ল্যাবে প্রেরণ করবেন। আমরা পরীক্ষা করে আইইডিসিআরে রিপোর্ট পাঠিয়ে দেব।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল
শেরেবাংলানগরে অবস্থিত ঢাকা শিশু হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা গত সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। হাসপাতালের সিনিয়র পাবলিক রিলেশন অফিসার আবদুল হাকিম বলেছেন, আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয় না। আইইডিসিআরের নিজস্ব টিম নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের ল্যাবে প্রেরণ করে। এখানে পরীক্ষার পর রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি এবং আইদেশী ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিজস্ব টিম।

advertisement
Evall
advertisement