advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জর্ডানে চরম খাদ্য সংকটে ৩০ হাজার বাংলাদেশি

সেলিম আকাশ,জর্ডান
৫ এপ্রিল ২০২০ ১২:২০ | আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০২০ ১৩:৩০
advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানে জীবীকার তাগিদে বসবাস করেন দেড় লাখের বেশি বাংলাদেশি। এর মধ্যে ৩০ হাজার প্রবাসী রয়েছেন যারা বিভিন্ন কারণে দেশটিতে অবৈধের তালিকায় পড়েছেন। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে সীমাহীন ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা। কাজ নেই, খেতেও পারছেন না দেশের জন্য রেমিট্যান্স নিয়ে আনা এই প্রবাসীরা। এ ব্যাপারে তাদের পাশে নেই বাংলাদেশ দূতাবাস। ত্রাণের ব্যাপারে দূতালয় প্রধান বলেছেন, এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

রাজধানী আম্মানসহ আকাবা, আলতাজুমা, আলদুলাল, ইরবিদ ও জারকা শহরে বসবাস বাংলাদেশিদের। যারা বৈধভাবে জর্ডানে আছেন, তারাও যে স্বস্তিতে আছেন, তা নয়। খেতে পারলেও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অন্যান্য সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না তারা। তবে বিপদ বেশি অবৈধদের।

করোনার প্রাদুর্ভাবে জার্ডানে মারা গেছেন পাঁচজন। আক্রান্ত ৩২৩ জন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ৭৩ জন। যে কারণে লকডাউন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন পার হচ্ছে সেখানে। অবৈধ যে বাংলাদেশিরা দেশটিতে বসবাস করেন, মূলত সমস্যা পড়েছেন এ কারণেই। অল্প কাজ করতে পারলেও দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন না তারা। হাত খালি থাকায় খাবার সংকটসহ নানা বিপদে আছেন তারা।

এত পরিমাণ প্রবাসী বিভিন্ন এলাকায় না খেয়ে দিন পার করলেও খবর নেই দূতাবাসের। এখন পর্যন্ত বিপদে পড়া প্রবাসীদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি আম্মানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। তাদের ত্রাণ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে না- অভিযোগ বিপদে পড়া বাংলাদেশিদের।

এ বিষয়ে জর্ডানে নবনিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আর লকডাউনের কারণে দূতাবাসে গিয়েও কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মুঠোফোনে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আলাপকালে তিনি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের সঙ্গে কথা বলতে মানা করেন দূতালয় প্রধান মুহাম্মদ বশির। ৩০ হাজার বাংলাদেশি না খেয়ে দিনপাত করছে, এ কথা জানিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেছেন, ‘চেষ্টা চলছে। আমরা পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেব।’

মাত্র ৩ হাজার প্রবাসী বিপদে রয়েছেন বলে প্রথমে দাবি করেন দূতালয় প্রধান মুহাম্মদ বশির। কিন্তু তাকে ৩০ হাজার বাংলাদেশি বিপদে আছেন বলা হলে, তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘এই ৩০ হাজার প্রবাসীকে দূতাবাস এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনই ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যেদিন আসবে (ত্রাণ), সেদিন জানানো হবে।’

যে সকল প্রবাসী বিপদে আছেন, তাদের তালিকা করেছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যান সমিতি। তবে বিপদে থাকা প্রবাসীদের অভিযোগ, তালিকা হলেও এতে নানা ধরনের অসঙ্গতি আছে। এ তথ্য জেনে তালিকার কপি দেখতে চাইলেও দেখাতে পারেননি প্রবাসী বাংলাদেশি কল্যাণ  সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বশির ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বিপ্লব। বিয়ষটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও কোনো উত্তর দেননি তারা।

বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মনিরুজ্জামানকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘ত্রাণ এলে জানানো হবে।’

প্রবাসীরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেন জর্ডানের গার্মেন্টসগুলোতে। করোনাভাইরাসের কারণে দেশটির বেশির ভাগ গার্মেন্টস বন্ধ রয়েছে। করোনার প্রভাব বাড়তে থাকলে জর্ডানে কাজের পরিধি কমতে থাকবে। চাহিদা কমতে থাকবে কাজের, এভাবে শ্রমিকরা কর্মহীন হতে থাকবেন। বাতিল হয়ে যাবে ভিসা।

advertisement
Evall
advertisement