advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রণোদনা নয় এটি ঋণের প্যাকেজ : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজকে ঋণের প্যাকেজ অভিহিত করে এতে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষজনকে অবহেলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, ইনফরমাল সেক্টরের কৃষক এবং তাদের কোনো কথা প্রণোদনা প্যাকেজে নেই। গতকাল রবিবার সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের জবাবে বিকালে উত্তরার নিজ বাসায় তিনি সাংবাদিকদের

এ প্রতিক্রিয়া দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল (শনিবার) আমাদের (বিএনপি) প্রস্তাবনা দেওয়ার পর মনে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সাড়া দিয়েছেন। এটা পজিটিভ তখনই বলতে পারতাম যদি আমরা দেখতাম যে, আসল সমস্যার সমাধান করার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের, খেটে খাওয়া মানুষের, ইনফরমাল সেক্টরের কৃষকদের, তাদের কোনো কথা এখানে (প্রণোদনা প্যাকেজ) নেই। জনগণের মধ্যে বলবে ৭২ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দিয়েছে তো ঋণ, পুরোটাই ঋণ। এখানে অনুদান বলতে কিছু নেই। সব ঋণের প্যাকেজ।

খেটে খাওয়া মানুষের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাধারণ ‘দিন আনে দিন খায়’ গরিব মানুষের জন্য আমরা সরকারকে ১৫ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলাম। সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিলাম, এটা অনুদান হিসেবে দিতে হবে। আমরা বলেছি, ভাতা বাড়াতে, চিকিৎসক-নার্স, চিকিৎসাকর্মীদের প্রণোদনা দিতে হবে, স্বাস্থ্য খাতে প্রণোদনা বাড়াতে হবে। শুধু ঋণ নয়। আপনাকে এভাবে তাদের অনুদান, ভাতা, বেতন বাড়িয়ে তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি, সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেইভাবে কথা বলেননি। ‘দিন আনে দিন খায়’Ñ এ শ্রেণির মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। দুর্ভাগ্যজনক, সেই সেক্টরের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও তার প্যাকেজের মধ্যে কোথাও সে ধরনের কিছু আমরা দেখতে পাইনি। রেমিট্যান্স যারা পাঠান, তাদের কোনো কথা এ প্রণোদনা প্যাকেজে নেই।

গার্মেন্টস খাতের প্রণোদনা শ্রমিকদের কাছে যাবে কিনা, তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন ফখরুল।

স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে প্যাকেজে কোনো কথা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাত একেবারেই নেগলেটেড, কোনো কথাই বলা হয়নি এখানে। আপনার যেটা দরকারÑ পরীক্ষা পরীক্ষা পরীক্ষা বলেছেন ডব্লিউএইচও প্রধান। অথচ বাংলাদেশে এখন পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই, পরীক্ষা নেই অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। যেখানে যাবেন বলবে যে, এখানে হবে না। ভেন্টিলেটর কত আছে, আপনারা জানেন। আরও বেশি সেটা তৈরি করার কোনো কথা এখানে (প্রণোদনা প্যাকেজে) নেই। সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখুন। হেল্থ ডিপার্টমেন্টের মধ্যে পারস্পরিক যে সমন্বয় থাকা দরকার, সেটাও ঠিক নেই। হেল্থ ডিজি বলেন এক কথা, আইইডিসিআর ডিজি আরেক কথা বলছেন। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো আরও ভীষণ কথা বলছেন। সেসব কথা শুনলে মনে হবে, দেশে ভাইরাস নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। বুঝতে পারছেন, সারা পৃথিবী ভয়ঙ্কর মহামারীর মধ্যে পড়েছে, আপনারা কী বুঝতে পারছেনÑ সারা পৃথিবী গ্রেট ডিপ্রেশনের দিকে যাচ্ছে। সে বিষয় সম্পর্কে সরকারের যদি দায়িত্ববোধ না থাকে, তা হলে এই রাষ্ট্র কীভাবে টিকে থাকবেÑ এটা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা (করোনা ভাইরাস) মানবসভ্যতার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করার জন্য আমরা সবাই হাত বাড়িয়ে আছি, আমরা সবাই উদ্যোগী আছি। তার পরও তারা বলছেন যে আমরা নাকি এমন এমন কথা বলছি, দায়িত্বজ্ঞানহীন-কা-জ্ঞানহীনের মতো কথা বলছি। কোথায় দেখলেন তারা এসব?

‘আমরা তো ২৭টা দফা দিয়েছি। তার বর্ণনা দিয়েছি। প্রত্যেকটা বিষয় যুক্তিসঙ্গতভাবে বলেছি। আজকে সরকার দুর্ভাগ্যজনকভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এ করোনা ভাইরাস মোকাবিলার জন্য। যে মানসিকতার দরকার ছিল, আমি প্রস্তুতি বলব না, যে মানসিকতাÑ সেটাকে তৈরি করার জন্য তারা ব্যর্থ হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

‘পূর্ণ লকডাউন দরকার’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি তো মনে করি, পরিপূর্ণ লকডাউন করা উচিত। দ্যাট ইজ দ্য অনলি এনসার। যে ভয়াবহতা আসছে, এখনো রিয়েলাইজ করতে পারছেন না তারা। ২৭ দিন হয়ে গেছে। অলরেডি কিন্তু গতকালের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। এটা জ্যামিতিক হারে বাড়বেই। ওই জিনিসটা যদি আমরা উপলব্ধি করতে পারি, আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি, আমরা ওইভাবে পরাজিত করব। পরাজিত তো অবশ্যই করব, তবে তার জন্য যে অস্ত্র দরকার, যে উইপেন্স দরকারÑ সে উইপেন্সগুলো তো আমরা পাচ্ছি না।

করোনা মোকাবিলায় বিএনপি নেতারা ঘরে বসে শুধু অভিযোগ করছে, করোনা মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা নেই বলে আওয়ামী লীগ নেতারা যেসব মন্তব্য করছেন, তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের একটাই প্রতিক্রিয়া হলো- দায়িত্ব সম্পূর্ণ সরকারের। ইতোমধ্যে আমাদের নেতাকর্মীদের যতটুকু নিরাপত্তার মধ্যে রেখে কর্মজীবী দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারা খাবার দিচ্ছেন, তারা মাস্ক দিচ্ছেন। সিলেটে মেয়র জানেন যে, তিনি বৃহৎ আকারে খাবার নিয়ে মানুষের পাশে যাচ্ছেন, প্রতিটি জেলা, প্রতিটি উপজেলা, প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। ফলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য সঠিক নয়, এসব অলীক অভিযোগ মাত্র। এখন কী অভিযোগ করা সঠিক?

তিনি বলেন, গতকাল আমরা করোনার মহাদুর্যোগ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক কিছু আবেদন রেখেছি। তার প্রত্যুত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য দিয়েছেন, যে মন্তব্য ব্যক্ত করেছেনÑ এটা আশা করিনি তার মতো একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বÑ এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন।

advertisement
Evaly
advertisement