advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খুলেছে ৬ শতাধিক গার্মেন্টস

আব্দুল্লাহ কাফি
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ১০:৩৮
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তা মানছেন না অনেক তৈরি পোশাক কারখানার মালিক। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সিদ্ধান্ত অমান্য করে গতকাল রবিবার গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও ভালুকার প্রায় ৪০০ গার্মেন্টস খুলেছে। চট্টগ্রামেও ১৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন চালু হয়েছে।

শনিবার রাতে গার্মেন্টস খোলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে বিজিএমইএ থেকে বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেও তা তোয়াক্কা-ই করেননি অনেক মালিক।

করোনা ভাইরাসসংক্রান্ত জাতীয় সংকটের মধ্যে গার্মেন্টস খোলা রাখা নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিনিষেধ এখনো নেই। রবিবার থেকে গার্মেন্টস খোলা হবে মালিকদের এমন সিদ্ধান্তে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক শনিবার ঢাকামুখী ঢল নামে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে শনিবার মধ্যরাতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মালিকদের ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারাখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেও গতকাল তাতে অনেকের সাড়া মেলেনি। অবশ্য এ জন্য কেউ কেউ বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দকে দায়ী করছেন। তারা সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

গত ১ এপ্রিল দেশের বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভাশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পোশাক কারখানা চলতে বাধা নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সভায় ৫ এপ্রিল কারখানা খোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেদিনই কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলে- যেসব কারখানায় ক্রয়াদেশ আছে এবং করোনা প্রতিরোধে জরুরি পণ্য-পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, হ্যান্ডওয়াশ বা স্যানিটাইজার, ওষুধ ইত্যাদি উৎপাদন কার্যক্রম চলছে, সেসব কারখানা বন্ধের বিষয়ে সরকার নির্দেশনা দেয়নি।

পর দিন ২ এপ্রিল বিকেএমইএ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ৪ এপ্রিলের পর সদস্য পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার বিধিনিষেধ থাকবে না। তবে কারখানা খোলার বিষয়ে মালিকদের ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত প্রায় তিন হাজার তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো অফিস ও জেলা প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, গতকাল ৬ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানাই খোলা ছিল। আজ আরও কারখানা খুলতে পারে। যেসব গার্মেন্টস খোলা হয়েছে, তাতে কাজে যোগ দিয়েছেন শ্রমিকরা।

কারখানা শ্রমিকরা বলেছেন, কাজে হাজির না হলে বেতন কাটা যেত। অনেক মালিক চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়েছেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা এর দায় নেননি। তারা বলেছেন, পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত মালিকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি টি-শার্ট তৈরি করতে কমপক্ষে ৩০ শ্রমিকের হাতের ছোঁয়া লাগে। একজন ভাইরাসে আক্রান্ত হলে এই ৩০ জনের এবং তাদের মাধ্যমে বাইরের আরও লোকের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে। আর অফিস-আদালত বন্ধ করে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে যে যুক্তিতে; অর্থাৎ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে, পোশাক কারখানা খোলা রাখা হলে সে উদ্দেশ্য কতটুকু সফল হবে?

অবশ্য পোশাক শ্রমিকদের বেতনভাতা প্রাপ্তির বিষয়ে সরকারের নজর আছে। সে কারণেই রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থছাড় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- শুধু শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধের জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষাসাপেক্ষে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীকে এ অর্থ দেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলে পোশাক মালিকরা বলছেন, সব শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তাই তাদের পক্ষে সব শ্রমিককে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, কারখানা বন্ধ করতে বিজিএমইএ কাউকে বাধ্য করতে পারে না। আমরা অনুরোধ করতে পারি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক সরকার। তিনি আরও বলেন, কারখানা বন্ধের জন্য মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করার আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের সহায়তা করার জন্য একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএর পরিচালক অনন্ত ডেনিম টেকনোলজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরিফ জহির বলেন, বিজিএমইএ কারখানা বন্ধের অনুরোধ করেছে। কিন্তু কারও যদি শিপমেন্ট থাকে, শ্রমিকরা চলে আসে সে ক্ষেত্রে কারখানা মালিকরা যদি শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করায় সে দায়িত্ব তাদের। বিজিএমইএ আগ বাড়িয়ে বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছে এটিই বড় একটি ব্যাপার।

শ্রমিক নেতা নাজমা আক্তার বলেন, বড় বড় কারখানা খোলা রেখেছে। এসব কারখানার মালিক শ্রমিকদের স্পষ্ট বলেছেনÑ কাজ না করলে বেতন হবে না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিজিএমইএর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শ্রমিক গ্রাম থেকে কাজে যোগ দিতে ছুটে এসেছেন। তাদের ফেরত যাওয়ারও টাকা নেই। কারখানা বন্ধের ঘোষণা একদিন আগে দিতে পারত। তিনি বলেন, ৩৮০টি কারখানা খোলা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অনেকে মনে করেন, কারখানা খোলা ও প্রণোদনার টাকা পোশাককর্মীদের বেতন হিসেবে দেওয়া নিয়ে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। কারখানা খোলায় চাকরি বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং জাতিকে ঝুঁকিতে ফেলে পোশাককর্মীদের কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার তার দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজের টাকা পোশাককর্মীদের বেতন হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টে দিতে বলার পর মালিকরা বলেছেন তা সম্ভব নয়।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতনভাতা ঠিকমতো পেলে কাজ করতে রাজি নয়। কিন্তু ঢাকা ফেরত এসব শ্রমিকের মাঝে করোনার আতঙ্ক আর চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছেন। মালিকদের কথামতো কাজে যোগ না দিলে হয়তো চাকরিই থাকবে না।

শ্রমিক নেতা মোশরেফা মিশু বলেন, বিজিএমইএ শ্রমিকদের সঙ্গে পরিহাস করেছে। শ্রমিকদের জীবন নিয়ে মালিকরা তামাশা করছে। সরকারের সিদ্ধান্তকে বিজিএমইএ অমান্য করেছে। এ দায় বিজিএমইএকে নিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ছাঁটাই করছে। আবার কোনো কোনো কারখানা লেঅপ ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় শ্রমিকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, যাদের রক্তে ঘামে মালিকরা বড়লোক হয়েছে, আজ এই দুঃসময় শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি করছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোভিড ১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে সরকার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দিল। আগামী দুই সপ্তাহ সময়কে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করায় সরকার কর্তৃক সবাইকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে যখন সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে, উৎপাদিত পণ্যও রপ্তানির সুযোগ নেই বললেই চলে, পণ্য বা উপাদান যেখানে পচনশীল কিংবা জরুরি প্রয়োজনীয় বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই, সেই পরিস্থিতিতে কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রমিকদের কর্মস্থলমুখী করে, তাদের এবং কার্যত পুরো দেশকে কা-জ্ঞানহীনভাবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়াটা চরম স্বার্থপরতা ও ষড়যন্ত্রমূলক ছাড়া আর কী হতে পারে! এর দায় কারখানা মালিক থেকে শুরু করে মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, কোনো অবস্থাতেই এড়াতে পারে না।

চট্টগ্রামে ১৮৭ গার্মেন্টস চালু : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে চট্টগ্রামের ১৮৭ তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন চালু হয়েছে। কাজ করছেন এক লাখেরও বেশি শ্রমিক। কারখানাগুলোর পক্ষ থেকে পোশাককর্মীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখার পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শিল্প পুলিশ বলছে, মুখে মাস্ক ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা আছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ কোনো ব্যবস্থা নেই।

শিল্প পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় সচল শিল্পকারখানা আছে ১২২৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ছুটিতে কারখানা চালু আছে ৩৭৭টি। গতকাল রবিবার এসব কারখানা পুরোদমে চালু ছিল। ৩৭৭টি কারখানার মধ্যে ১৮৭টি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম ইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশিদ আলম জানিয়েছেন, ২-১ দিনের মধ্যে তাদের সব কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য কারখানাগুলো খোলা রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের অদূরে কর্ণফুলী ইপিজেডে ১৫টি কারখানা রবিবার চালু ছিল। সেখানে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক সকালে প্রবেশ করেছেন। কর্ণফুলী ইপিজেডের কারখানাগুলোর অধিকাংশই তৈরি পোশাক কারখানা।

শিল্প পুলিশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মো. নাজিমুল হক বলেন, সিইপিজেডসহ জেলার বেশ কিছু এলাকায় কিছু গার্মেন্টস খোলা আছে। বেশিরভাগ বন্ধ। গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে একসঙ্গে অনেক শ্রমিক ঢোকেন এবং বের হন। সিইপিজেডে আজ (রবিবার) একসঙ্গে হুড়োহুড়ি না করে লাইন ধরে দূরত্ব মেনে ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছে।

সাভারে ৩০০ গার্মেন্টস খোলা : সাভার প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, সাভারে ৩০০ গার্মেন্টস চালু হওয়ায় পাড়া-মহল্লার অলিগলিতে হাজার হাজার মানুষের বিচরণ দেখা গেছে। হাজার হাজার শ্রমিকের পদচারণার কারণে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে দেখা যায় সাভার ও আশুলিয়ার নগরজীবন। ব্যস্ততম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেখা গেছে অসংখ্য যানবাহন। এসব যানবাহনে গাদাগাদি করে শ্রমিকরা কারখানা অভিমুখে রওনা হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শিল্প পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রবিবার ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের ৯৮টি তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে খোলা ছিল ৪৭টি আর সাভার-আশুলিয়ায় কেবল বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে খোলা ছিল ২৯৭টি।

গাজীপুরে কিছু কারখানায় কাজ চলেছে : গাজীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিজিএমইএর আহ্বানে সাড়া দিয়ে গাজীপুরের অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আর বেশ কিছু কারখানায় চলছে কার্যক্রম। এরই মধ্যে কারখানা খোলার খবরে যেসব শ্রমিক কর্মস্থলে ফিরেছেন নতুন করে বন্ধ ঘোষণায় তারা পড়েছেন নানা ভোগান্তিতে।

গাজীপুর মহানগরীর ইটাহাটা এলাকার পোশাক শ্রমিক রশিদুল বলেন, চাকরি বাঁচাতে শনিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনের স্বল্পতায় পায়ে হেঁটে, অটোরিকশায়, ট্রাক ও পিকআপযোগে ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুরে আসি। যাওয়ার সময় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গ্রামের বাড়ি যাই। ঠিক আসার সময়ও দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দিয়ে গাজীপুর আসি। সকালে কারখানায় গিয়ে দেখতে পাই ছুটির নোটিশ। এ অবস্থায় বাড়ি ফিরতে গেলেও পড়তে হবে নানা বিড়ম্বনায়। ভাড়া বাসায় তাই বাধ্য হয়ে এই কয়দিন বেকার জীবন কাটাতে হবে।

গণপরিবহন না থাকায় বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের ভোগান্তি : পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত এবং পরে তা বাতিল হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক শ্রমিক। বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজনীয় গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তি বেড়েছে তাদের। সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ফেরার জন্য অপেক্ষা করেন দলে দলে পোশাক শ্রমিক। মহাসড়কে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এখন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। এ সময় ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনাও তারা মানছেন না।

বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষমাণ শ্রমিকরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ ও বিজিএমইএর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে এখন দুর্ভোগ বেড়েছে তাদের। কারখানা খোলার খবরে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে এবং কারখানা ফের ছুটি দেওয়ায় তারা দুর্ভোগ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।

সেখানকার শ্রমিকরা জানান, সরকারিভাবে ছুটির ঘোষণা পেয়ে গত ২৫ মার্চ তারা নিজ নিজ গ্রামের বাড়ি চলে যান। পরে রবিবার সকালে কাজে যোগদান করতে গেলে তাদের কারখানায় ঢুকতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ গিয়ে মৃদু লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কে যানজট শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রপ্তানিমুখী নিট গার্মেন্টস বন্ধ ছিল। শুধু পিপিই তৈরির কাজে নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ চলছে। তবে তারা প্রতিষ্ঠানেই অবস্থান করে কাজ করছেন। বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে। শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের সব নিট পোশাকশিল্প ১১ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করেছেন বিকেএমইএর সভাপতি এমপি সেলিম ওসমান। ফলে গতকাল রবিবার রাস্তায় শ্রমিকদের দেখা যায়নি। তবে ৪ এপ্রিল ছুটি শেষ হওয়ায় অনেক শ্রমিকই ফিরে আসেন শহরে। ফলে তৈরি হয় এক ভীতিকর অবস্থা।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নিজেদের সব কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। শনিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠনের সভাপতি একেএম সেলিম সূত্র জানিয়েছে।

ভালুকা প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় প্রায় তিনশতাধিক শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে আসার কারণে ভেস্তে গেল সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ঘোষণা। এ কারণে এই এলাকার জনসাধারণের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ।

জানা যায়, ৪ এপ্রিল থেকে খোলা হয়েছে শিল্পকারখানার বন্ধ দুয়ার। ফলে নিজ কর্মস্থলে যোগদান করতে ছুটে আসা শিল্পকারখানার হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারির পদচারণায় উপজেলার পৌর এলাকাসহ হবিরবাড়ি, কচিনা, ভরাডোবা, মেদুয়ারী ও উথুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জনসমাগমের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি শিল্পকারখানার সামনে এবং আশপাশের রাস্তায় রয়েছে মানুষের ব্যাপক সমাগম।

রবিবার সকাল থেকে উপজেলার মাস্টারবাড়ি, আমতলী, হবিরবাড়ী, কাশর, কাঁঠালি এলাকার বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল মিল চালু রেখে শ্রমিকদের কাজ করানো হয়।

অন্যদিকে ভালুকার বাঁশিল এলাকায় লোড ডট ফ্যাশন লিমিটিডের শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন না দিয়ে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে শ্রমিকরা ফ্যাক্টরির সামনে বিক্ষোভ করেন।

ইকরাম সুয়েটারের এজিএম মো. কামাল হোসেন আমাদের সময়কে জানান, আজকে সকাল থেকে ৫টা পর্যন্ত ফ্যাক্টরি চালু রেখেছি। কালকেও ফ্যাক্টরি খোলা। আমাদের ম্যানেজমেন্ট এখনো কিছু আমাদের জানায়নি।

স্কয়ার ফ্যাশন অ্যাডমিন ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক আমাদের সময়কে জানান, আজকে ফ্যাক্টরি খোলা ছিল। আজকে আমরা বেতনভাতা সব দিয়ে আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত ফ্যাক্টরির সব শাখা বন্ধ করে দিয়েছি।

advertisement