advertisement
advertisement

আক্রান্ত ও মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স আলোচনায়

আমাদের সময় ডেস্ক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ ও মৃত্যুর সংখ্যা ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে। ইউরোপে ইতালি ও স্পেনকে ছাড়িয়ে মৃত্যুর দিক থেকে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ফ্রান্স। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে

হু হু করে। গত শনিবারও দেশটিতে প্রাণ গেছে সহস্রাধিক মানুষের। এর বাইরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, সত্যিই ইউরোপ ছাড়িয়ে করোনার নতুন কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারও সেখানে প্রাণ হারিয়েছে তেরোশর বেশি মানুষ, একদিনে আক্রান্ত হয়েছে ৩৪ হাজারের বেশি।

কিন্তু ইতালি স্পেনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর বাড়বাড়ন্ত দেখেও ফ্রান্স কেন সতর্ক হলো না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা করোনা নিয়ে ফরাসি সরকার ও জনগণের চরম উদাসিনতাকেই দায়ী করেছেন। বিশ্লেষণে বারবার উঠে আসছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের সীমান্তবর্তী ফ্রান্সের মিলুজ শহরের একটি গির্জায় ৫ দিনব্যাপী প্রার্থনার বিষয়টি। পরে জানা যায়, ওই প্রার্থনায় অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। তার সংস্পর্শে এসেই আরও বহু মানুষ করোনা আক্রান্ত হন। সুতরাং প্রশ্ন উঠেছে ইউরোপে করোনা মহামারী পরিস্থিতির মধ্যে কেন ফরাসি সরকার এমন ধর্মীয় সভা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল। ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর এই বাড়বাড়ন্তের মধ্যে ফ্রান্সে ওষুধ ও সুরক্ষা সরঞ্জামের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই কোন রোগী বাঁচবেন আর কে মারা যাবেন সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে চিকিৎসাকর্মীদের। ফ্রেঞ্জ জিরনটোলজি অ্যান্ড জিরিয়াট্রিক্স সোসাইটির (এসএফজিজি) প্রধান, অধ্যাপক অলিভার গুয়েরিন বলেন, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে করোনার চিকিৎসা অর্থহীন ও নিষ্ঠুর হতে পারে। কাকে নিবিড় পরিচর্যার জন্য বেছে নেওয়া যায় মেডিক্যাল টিমকে তা নিয়ে সব সময় ভাবতে হচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতির ক্রমেইা অবনতি হচ্ছে। শনিবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশে আরও বহু মানুষ মারা যাবে। আমাদের আরও খারাপ অবস্থার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।’ পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রতিশ্রতি দিয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা করোনাকবলিত অঙ্গরাজ্যগুলোয় বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিতে কাজ করছি। হাজার হাজার সেনা, চিকিৎসক, নার্সকে এ কাজে যুক্ত করার কাজ চলছে। শিগগিরই নিউইয়র্কে প্রায় এক হাজারসহ অন্যান্য রাজ্যেও বিপুল সেনা ও চিকিৎসককে যুক্ত করা হবে।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, গতকাল রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত স্পেনে ৪৭১, বেলজিয়ামে ১৬৪, ইরানে ১৫১, নেদারল্যান্ডসে ১১৫, পর্তুগালে ২৯, সুইডেনে ২৮ জনসহ গোটা বিশ্বে সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

advertisement