advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে একদিনেই শনাক্ত ১৮ রোগী, মৃত্যু বেড়ে ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ নিয়ে মারা গেলেন ৯ জন। আর নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৮ রোগী। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৮৮ জনে। তাদের মধ্যে ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নতুন আক্রান্ত ১৮ রোগীর মধ্যে ১২ জনেরই বাসা ঢাকায়। বাকিরা নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরের। গতকাল রবিবার কোভিড-১৯ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাহিদ মালেক এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

এ সময় ডা. মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, সারাদেশে এখন ১৪টি কেন্দ্রে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনকে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৩ জন আইইডিসিআরের এবং বাকি পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে অন্যান্য হাসপাতালের পরীক্ষায়। তাদের ১৫ জন পুরুষ আর তিন নারী। তাদের মধ্যে ১১-২০ বছরের কোঠায় একজন, ৩১ থেকে ৪০-এর কোঠায় দুজন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ৫১ থেকে ৬০-এর কোঠায় ৯ এবং ষাটোর্ধ্ব আরও ৯ জন। এ ছাড়া নতুন করে মারা যাওয়া পুরুষের বয়স ছিল ৫৫ বছর। তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা।

ডা. সেব্রিনা বলেন, ‘আক্রান্তদের ৩৩ জনের মধ্যে আর করোনা ভাইরাসের জীবাণু না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৪৬ জনকে। এর মধ্যে ৩২ জনকে হাসপাতালে আর ১৪ জনের চিকিৎসা চলছে বাড়িতে রেখে আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহরের রোগীই বেশি। তাদের বেশিরভাগ আক্রান্তই বিভিন্ন ক্লাস্টারের অংশ। তাদের মধ্যে বাসাবো এলাকার ৯ জন। টোলারবাগে ৬ এবং মিরপুরের অন্যান্য এলাকার আরও ৫ জন রয়েছেন।’ বর্তমানে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। জনসমাগম এড়িয়ে না চললে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলেও উল্লেখ করেন এ গবেষক।

সিংগাইরে স্বাস্থ্য পরিদর্শক আক্রান্ত : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী এক নারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডা. মো. সেকেন্দার আলী মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আক্রান্ত ওই নারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ঢাকার টোলারবাগে থাকেন। বর্তমানে তাকে ঢাকার উত্তরায় কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালের আইসোলোশনে রাখা হয়েছে। টোলারবাগের যে বাড়িতে তিনি থাকতেন সেটিও লকডাউন করেছে প্রশাসন। তার সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য লোকজনকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারান্টিনে।

চট্টগ্রামে দ্বিতীয় ব্যক্তি শনাক্ত : করোনায় সংক্রমিত প্রথম রোগীর ছেলের দেহেও ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল দুই। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষায় এ তরুণের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘প্রথম শনাক্ত ব্যক্তির সঙ্গে দামপাড়ায় একই বাসায় থাকতেন তার এই ছেলে। নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরেও ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ওই পরিবারের মোট পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বাবা-ছেলের শরীরে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। বাকি তিনটি নমুনা নিগেটিভ এসেছে।’ চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ১৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের করোনা ভাইরাস পাওয়া গেল।

সিলেটে প্রথম রোগী শনাক্ত : প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন সিলেটে। ৪৫ বছরের ওই ব্যক্তি পেশায় চিকিৎসক। নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। গতকাল সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ ম-ল জানান, সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় গত শনিবার ওই চিকিৎসকের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। রবিবার সন্ধ্যায় আসা রিপোর্ট থেকে জানা যায়, তার শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ পাওয়া গেছে। এর পরই তার পুরো বাসাটি লকডাউন করে দেওয়া হয়। এ খবরে সিলেটের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেননা সিলেটে এতদিন করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত না হওয়ায় স্বস্তিতে ছিলেন এ অঞ্চলের মানুষ।

অন্তঃসত্ত্বা

advertisement