advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নারায়ণগঞ্জ সিটিতে কারফিউ চাইলেন মেয়র আইভী

লুৎফর রহমান কাকন ও এমরান আলী সজিব
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

নারায়ণগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে খোলা রয়েছে পোশাক কারখানাগুলো। ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সংস্পর্শে আসায় ইতোমধ্যে প্রায় এক ডজন এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমনকি বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা। এ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী এলাকায় কারফিউ জারির ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।

সিটি করপোরেশেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল আমিন স্বাক্ষরিত গতকাল দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, বাণিজ্যিক এ নগরীর সিটি করপোরেশন এলাকায় করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে লকডাউনের ঘোষণা দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এখানে দিন করোনার বিস্তার বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। এলাকার আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, শত শত গার্মেন্টস ও ভারী শিল্প ও কলকারখানা থাকায় এটি শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। ফলে লকডাউন বা কারফিউ দেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি হিসেবে নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত দুজন মারা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে থেকে বলা হচ্ছে, ১৫ থেকে ২০ জন করোনার লক্ষণ নিয়ে এখানে মারা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের রসুলবাগে করোনায় এক নারীর মৃত্যু হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পর একটু সচেতন হয়েছে। অবশ্য বর্তমানে ওই রসুলবাগের পাঠানটুলি লকডাউন করা হয়েছে। রসুলবাগের ওই নারী করোনার উপসর্গ নিয়ে

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে গেলেও কোথাও চিকিৎসা পাননি। পরে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে মারা যান। এ ছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং তাদের সংস্পর্শে আসায় নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকা লকডাউন করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে আমলাপাড়া, গলাচিপা, চাষাঢ়ার বেইলি টাওয়ার, পুরান পালপাড়া, পাইকপাড়া, বাবুরাইল, কাশিপুর, বন্দর এলাকা, জালকুড়ি, নন্দীপাড়া, লামাপাড়া।

এ ছাড়া (নারায়ণগঞ্জ-৪) সংসদীয় আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানও নারায়ণগঞ্জ জেলাকে দ্রুত লকডাউনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন প্রশাসন অনেক পরিশ্রম করেও মানুষকে ঘরে রাখতে পারছে না। কোথাও না কোথাও লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছে। ফলে লকডাউনের বিষয়ে আর কঠোর হতে হবে। পুরো জেলা লকডাউনের মাধ্যমে করোনাকে ঠেকাতে হবে।

মানুষ ঘরে থাকছে কিনা জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক আমাদের সময়কে বলেন, আমরা নিরলস চেষ্টা করছি মানুষকে ঘরে রাখতে। তবে মানুষ ঘরে থাকছে না। পুলিশ বা এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা চলে এলেই বের হচ্ছে। তিনি বলেন, এত অসচেতন মানুষ কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

গতকাল নারায়ণগঞ্জের আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) অভ্যন্তরে ২৯টি কারখানা চালু ছিল। সেখানে অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। সেখানে মোট ৪৯টি কারখানা চালু থাকলে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। এসব শ্রমিকের মাধ্যমে দ্রুত করোনার বিস্তার সংক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে কিনা জানতে চাইলে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (বেপজা) মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিনতে আলমগীর আমাদের সময়কে বলেন, ইপিজেডে অধিকাংশ কারখানা বিদেশি। বিজিএমইএর অধীনে যেসব কারখানা আছে সেগুলোও চালু ছিল।

সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানটুলি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। সে ওয়ার্ডের কাউন্সিলরক রুহুল আমিন মোল্লা বলেন, সাধারণ মানুষ লকডাউন মানতে চাইছে না। আমিসহ স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা রাতে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে লকডাউন মানতে করতে বাধ্য করছি। তিনি বলেন, মানুষ এত অজ্ঞ এত অসচেতন কল্পনাও করা যায় না।

advertisement