advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ময়লার ব্যাগ পরে করোনা যুদ্ধে ব্রিটিশ ডাক্তাররা

আমাদের সময় ডেস্ক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোয় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজের পরিবেশ ও সরঞ্জামের শোচনীয় অবস্থা উঠে এসেছে নিবিড় পরিচর্যা বিভাগের (আইসিইউ) একজন চিকিৎসকের বক্তব্যে। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন তাদের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতালগুলো। বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে কাজ করা চিকিৎসক ও কর্মীরা জানান, তারা সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে ভুগছেন। তাদের গণমাধ্যমে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলতে রাজি হন।

ডা. রবার্টস (ছদ্মনাম) খাদের কিনারায় থাকা একটি হাসপাতালের কথা বলছেন। এই হাসপাতালের আইসিইউ এখন কোভিড-১৯ রোগীতে পরিপূর্ণ। ফলে হাসপাতালটিতে যেসব বিভাগ মনে করা হচ্ছে অপ্রয়োজনীয়, তার সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে আছে ক্যানসার ক্লিনিকও। এই হাসপাতালে কর্মীর সঙ্গে সঙ্গে রোগীর জন্য বিছানা, একদম সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক ও ভেন্টিলেটরের অভাব আছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাস ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বড় আঘাত হানবে। বিশ্লেষকদের ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে পিক টাইম।

কর্মীরা এখনই অনুভব করছেন কী পরিমাণ সংকটপূর্ণ সময় আসছে সামনে। চূড়ান্তভাবে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া ডাক্তাররা এখনই দৈনিক ১৩ ঘণ্টা করে কাজ করছেন। ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে তাদের সবারই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) অভাব রয়েছে। এমনও হয়েছে পিপিইর অভাবে ময়লা ফেলার পলিথিন, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রন ও স্কিইং করার চশমা পরে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন তারা।

যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন এমন ব্যক্তির থেকে ২০ সেন্টিমিটারের মতো দূরত্বে থেকে কাজ করছেন ডাক্তাররা। যেখানে সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে ২ মিটার দূরত্বে থাকতে। ডা. রবার্টস বলছেন, করোনার যে মারাত্মক প্রভাব তাদের জীবনেও পড়তে পারে সেটা এখনই ভাবাচ্ছে। তারা এখন ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং নিজেদের পিপিই নিজেরাই তৈরি করছেন। তিনি বলেন, নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে যেসব নার্স সেবা দিচ্ছেন তাদের এখনই পিপিই প্রয়োজন। তারা যেখানে কাজ করছেন সেখানে ভাইরাস অ্যারোসলের মতো ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের বলা হচ্ছে খুব সাধারণ টুপি পরতে, যেটায় ছিদ্র

আছে। যেটা কোনো সুরক্ষাই দিচ্ছে না। এটা প্রচ- রকমের ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কর্মীরা ময়লা ফেলার ব্যাগ ও অ্যাপ্রন পড়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।

সরঞ্জাম বিতরণ নিয়ে যে ঝামেলা হচ্ছে ব্রিটিশ সরকার সেটা স্বীকার করেছে। এখন এই কাজের সাথে যুক্ত হয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। গত ১ এপ্রিল পর্যন্ত তারা ১০ লাখ মাস্ক দিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা (এনএইচএস)। তবে সেখানে মাথার সুরক্ষা ও গাউনের কথা বলা হয়নি।

advertisement