advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কঠিন অবস্থার মুখোমুখি উড়োজাহাজ ব্যবসা

তাওহীদুল ইসলাম
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ১০:৪৫
advertisement

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী আকার নিয়েছে। আক্রান্তের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বাংলাদেশেও। এমন পরিস্থিতিতে অঘোষিত সব ছুটি ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করেছে সরকার। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। আকাশপথ, রেলপথ, নৌ ও সড়কপথ সবই বন্ধ। সরকারি যোগাযোগব্যবস্থা রেল ছাড়া বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল অন্য যোগাযোগ ব্যবস্থাগুলো। এরই মধ্যে সরকারের কাছে প্রণোদনা চাওয়া শুরু করেছে এসব খাতের সংশ্লিষ্টরা। বাস্তবতা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যেও। তিনি আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় ৫টি প্যাকেজে মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন।

বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরাসরি এভিয়েশন ও গণপরিবহনের কথা উল্লেখ না করলেও শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের কথা বলা হয়েছে। এসব খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিতে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ তহবিল করা হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ঋণ দেবে। এই ঋণে সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। এর মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পরিশোধ করবে ঋণগ্রহীতা শিল্প/ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাকি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে দেবে।

লাখো পরিবহন চালক-শ্রমিককে কর্মহীন করেছে করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এ রোগের ছড়িয়ে পড়া রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে গণপরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পরিবহন বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু বন্দর, গার্মেন্টস বন্ধ থাকায় অধিকাংশই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান চলছে না। তাই পণ্যবাহী যানের চালক-শ্রমিকরাও প্রায় বেকার। আছেন কর্ম ও অর্থ সংকটে।

তারা বলেছেন, অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হলে না খেয়ে থাকতে হবে। আর্থিক সংকটে আছেন পরিবহন মালিকরাও। ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসায় নেমে এখন অনাকাক্সিক্ষত দুর্যোগের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার ঘোষণায় আশান্বিত পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সরাসরি গণপরিবহনের বরাদ্দের কথা উল্লেখ না থাকলেও এ খাতের অচলাবস্থার কথা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। তা ছাড়া সার্ভিস খাত নিয়ে কথা বলায় প্রণোদনা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তারা।

পরিবহন মালিকদের সংগঠন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ আমাদের সময়কে গতকাল জানিয়েছেন, সার্ভিস খাতের প্রণোদনার কথা জেনেছি। আমাদের কী পরিমাণ দরকার এবং কতটুকু ক্ষতির শিকার হচ্ছি সেই অঙ্ক কষতে হলে আগে জানতে হবে কত দিন বন্ধ থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তা ছাড়া সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে কারও সঙ্গে কথাও বলছি না। আমরা বসে বিষয়টি পর্যালোচনা করে তুলে ধরব। আর সরকারের তরফ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ আসে তা এই মুহূর্তে না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

পরিবহন নেতা এনায়েত এর আগে বলেছেন, শ্রমিকদের দিনে খোরাকি বাবদ ৩০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। বেতনভুক্ত চালকরা নির্ধারিত মাসিক বেতন পাবেন। যারা বেতনভুক্ত নয় তাদেরও খোরাকি দেওয়া হচ্ছে।

তবে শ্রমিক সংগঠন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেছেন, ৩০০ টাকা খোরাকি সবাইকে নয়, যে শ্রমিক পাহারা দিতে রাতদিন বাসে থাকছেন, শুধু তাদেরই টাকা দেওয়া হচ্ছে। তার তো দিনে দুই-আড়াইশ টাকা চলে যাচ্ছে তিন বেলার খাবারে। তার পরিবার কী খাবে!

ওসমান আলী বলেছেন, প্রতিটি বাসে চালক, সুপারভাইজার, হেলপারসহ সর্বনি¤œ তিনজন শ্রমিক কাজ করেন। কিন্তু পাহারা কাজে একজনকে রাখা হয়েছে। বাকি দুজনকে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। তারা তো কিছুই পাচ্ছেন না। তারা কী খাবে?

পরিবহন শ্রমিকদের জন্য রেশন চালু করার দাবি জানিয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। পরিবহন মালিকদের সংগঠনের নেতা খন্দকার এনায়েতের দাবি, যাত্রী পরিবহন বন্ধ থাকলে একদিনে পরিবহন খাতে ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। ১০ দিনের গণছুটিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। খোরাকি বাবদ যে টাকা দেওয়া হচ্ছে তা মালিকদের পকেট থেকে দেওয়া হচ্ছে।

নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত মার্চ থেকে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটও। ফ্লাইট না চললেও উড়োজাহাজের কিস্তি পরিশোধ, বৈমানিক ও গ্রাউন্ড স্টাফদের বেতনসহ দেশে ও দেশের বাইরে থাকা কার্যালয়গুলোর উচ্চপরিচালন ব্যয় ঠিকই বহন করে যেতে হচ্ছে এয়ারলাইনসগুলোকে। এ অবস্থায় দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে সরকারের সহায়তা চাইছে দেশি এয়ারলাইনসগুলো।

সম্প্রতি বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর পক্ষে চিঠি দেওয়া হয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সব উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টারের যাবতীয় নেভিগেশন, ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ পাঁচ বছরের জন্য মওকুফ; প্রণোদনাস্বরূপ এভিয়েশন শিল্পকে আগামী ১০ বছরের জন্য বিবিধ আয়কর ও ভ্যাট অব্যাহতি প্রদান; অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক হারে জ্বালানি মূল্য ধার্যকরণ; যন্ত্রাংশ আমদানি পর্যায়ে ‘আগাম কর’ অব্যাহতি, বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে লেট ফি অন্য দেশের মতো বার্ষিক ৬-৮ শতাংশ হারে ধার্য; বাংলাদেশি এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করলেও তাদের উড়োজাহাজগুলোর ল্যান্ডিং, পার্কিং ও নেভিগেশন চার্জ অভ্যন্তরীণ রুটের হারে ধার্য করা।

এর আগে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) এক সভায় এওএবি সদস্যরা বলেন, করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করায় এয়ারলাইনস তথা এভিয়েশন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্বনামধন্য এয়ারলাইনস দেউলিয়া ঘোষণার দ্বারপ্রান্তে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ রয়েছে নৌপথের যোগাযোগও। এ পরিস্থিতিতে নৌখাতের শ্রমিকরাও বিপাকে আছেন। লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় লঞ্চমালিকদেরও অসুবিধা হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতা নেই। জাহাজ নির্মাণশিল্পের কাঁচামাল আমদানিও বন্ধ। ফলে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে এ খাতের কর্মীরা। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত অনুমান করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন বক্তব্য অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডার্স ইন্ডাস্ট্রিজের। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ শিল্পের সঙ্গে ২ লক্ষাধিক লোক জড়িত। তাই প্রত্যেক কর্মচারীকে আর্থিক অনুদানসহ বিভিন্ন সুবিধা দাবি করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্যাস ও পানির বিল এবং আয়কর মওকুফ।

নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী শনিবার ঢাকা সদরঘাটে এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা নৌযান শ্রমিকদের পাশে আছি। করোনা সংক্রান্ত সংকট থেকে উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত সরকার নৌযান শ্রমিকদের পাশে থেকে সহযোগিতা করবে। লঞ্চ মালিকদের (ব্যবসায়ীদের) বিষয়টি নিশ্চয়ই দেখবে সরকার।

 

 

advertisement