advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পণ্য খালাস করতে দিচ্ছেন না বিদেশি জাহাজের মাস্টার

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম ব্যুরো
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অদ্ভুত কা-ের জন্ম দিয়েছেন সয়াবিন সিড নিয়ে আসা ‘এমভি টমিনি ডেস্টিনি’ নামে জাহাজের মাস্টার রজনিশ সাহা। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে দিচ্ছেন না। উল্টো চট্টগ্রাম বন্দরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দিয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার কাছে। ফলে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। নাবিকদের আশঙ্কা বাংলাদেশি শ্রমিক জাহাজে উঠলে তারা করোনায় আক্রান্ত হবেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাহাজের মাস্টার চট্টগ্রাম বন্দরকে বহির্বিশ্বে অনিরাপদ ঘোষণার চক্রান্ত করছেন। আন্তর্জাতিক চক্রান্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। কারণ বহির্নোঙরে দৈনিক ৪৮ থেকে ৬০ জাহাজে কাজ চলছে।

জানা গেছে, সিটি গ্রুপের ৫৫ হাজার ২৩১ টন সয়াবিন নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে গত ৩০ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর পৌঁছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী জাহাজটি। বন্দরের শিডিউল অনুযায়ী স্থানীয় শিপিং এজেন্ট পণ্য খালাসে লাইটার এবং গ্যাং

(লেসিং আনলেসিং শ্রমিক) পাঠায়। কিন্তু জাহাজের মাস্টার শ্রমিকদের পণ্য খালাসে জাহাজে উঠতে দেননি। এক দিন এক রাত সাগরে অপেক্ষা করে তাদের ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে ওই জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে পারছে না। এতে আমদানিকারক বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে জাহাজের মাস্টার (ভারতীয় নাগরিক) রজনিশ। জাহাজ মালিক প্রতিষ্ঠান টমিনি শিপিংয়ের বিরুদ্ধেও তিনি লন্ডনভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থার কাছে পাঠিয়েছেন দীর্ঘ অভিযোগ।

স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, আউটারে পৌঁছার পর জাহাজের মাস্টার দাবি করেন, করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিংবা নাবিকদের সুরক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ সব ব্যবস্থা ও সুরক্ষাই রয়েছে। জাহাজের মাস্টার ভাসমান ক্রেনে পণ্য খালাস করতে বলছেন। যা চট্টগ্রাম বন্দরে নেই। অতীতেও ব্যবহার করা হয়নি।

স্থানীয় শিপিং এজেন্ট শেফ শিপিংয়ের ম্যানেজার (অপারেশন) মো. আনোয়ার জাবেদ আমাদের সময়কে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে করোনা সমস্যা নেই বলে জাহাজের মালিক ও চার্টারার (ভাড়াকারী প্রতিষ্ঠান) নাবিকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা মানছে না। জাহাজে কাউকে উঠতে দিচ্ছে না অযৌক্তিক দাবিতে। বিভিন্ন সংস্থায় অভিযোগ দিয়েছেন। অথচ একই দিন আমাদের আরও দুটি জাহাজ এসে পণ্য খালাস করে চলে গেছে। ইন্ডিয়ান এম্বেসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলে জেনেছি জাহাজের মাস্টার ‘মানসিকভাবে সিক’। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি চিকিৎসক টিম পাঠাতে বলেছি। তিনি বলেন, ওই নাবিক চট্টগ্রাম বন্দরের বিরুদ্ধে একটি ইস্যু তৈরি করছেন। এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রও হতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) মো. এনামুল করিম আমাদের সময়কে বলেন, গতকাল রবিবার আউটারে ৬৮ জাহাজে কাজ হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সব নিয়ম অনুসরণ করেই কাজ হচ্ছে। জাহাজের ওই নাবিক অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এতে পরবর্তী সময় তিনি বিপদে পড়বেন। কারণ আন্তর্জাতিক নৌসংস্থা (আইএমও) অভিযোগের সত্যতা না পেলে তাকে সাইন অফ করার পর সাইন অন (জাহাজে ওঠার অনুমতি) দেবে না।

advertisement