advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনায় মৃত্যু হলেও ডেথ সার্টিফিকেটে লেখা ‘ব্রেন স্ট্রোক’

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

‘মা শুধু একটি কাশি দিয়েছিলেন। আর এক কাশির অপরাধেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি। কুর্মিটোলায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা কাকুতি-মিনতি করলেও তাকে কেউ একটু ছুঁয়েও দেখেনি। মাকে ধরার জন্য সামান্য একটু হেক্সিসল চেয়েছিলাম তা-ও কেউ দেয়নি। ভর্তি নেওয়ার পর একজন ওয়ার্ডবয় বা নার্সও এগিয়ে আসেননি। হুইলচেয়ারে বসেই মারা যান আমার মা।’ নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রসুলবাগ এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া নারীর ছেলে নিজের আক্ষেপ প্রকাশ করেন ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে। পরে সেটি ভাইরাল হয়।

এর সূত্র ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনে তিনি জানান, তার মায়ের মৃত্যুর পর কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেট লেখা হয়Ñ ‘মৃত্যুর কারণ ব্রেন স্ট্রোক’। অথচ মৃত্যুর দুদিন পর জানা গেলে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর পর তাদের বাড়িসহ এলাকার ১০০ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে। বাড়ির সামনে এসে রাতের আঁধারে চিৎকার করে কে বা কারা প্রতিদিনই হুমকি দিয়ে বলছেÑ ‘তোদের একটা একটা করে মেরে ফেলব।’ কারণ তারা করোনায় মারা যাওয়া মায়ের জানাজা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা তো আমার মাকে করোনা রোগী হিসেবে জানাজা দেইনি, দিয়েছি ব্রেন স্ট্রোকের রোগী নির্ণয় করে।’

মায়ের চিকিৎসা ও অসুস্থতার বর্ণনা দিয়ে ওই নারীর ছেলে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই নানা রোগে ভুগছিলেন আমার মা। ২৯ মার্চ তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কোনো চিকিৎসা হয়নি। পরে আমাদের পরিচিত থাকায় শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তার আমাদের কিছু টেস্ট দেন। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে রাতে ডিউটিরত ডাক্তার আমার মাকে বাইরে

রেখেই আমার সঙ্গে কথা বলেন। রোগের কথা শুনে ভর্তি নেওয়ার প্রস্তুতিও নেন। কিন্তু একটি কাশি সব ওলটপালট করে দেয়। মা কাশি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার বলে দেনÑ তাকে ভর্তি নেওয়া যাবে না। তাকে কুর্মিটোলায় নিয়ে যান। আমরা কী করব ভেবে না পেয়ে মাকে ফের নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসি। কিন্তু মায়ের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। ৩০ মার্চ দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জের সব ক্লিনিক ও হাসপাতালে যোগাযোগ করি, কিন্তু কোথাও ডাক্তার পাইনি। নিরুপায় হয়ে দুপুর ১টায় কুর্মিটোলা নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেওয়ার পর নার্সরা তাকে ছুঁয়েও দেখেননি। ওয়ার্ডে মাকে বেডে শোয়াতে আমি ও আমার স্ত্রী অনুমতি পাই। কিন্তু দুজন মিলে তাকে বেডে তুলতে পারছিলাম না। নার্সদের ডাকলাম, কেউ কাছে আসেননি। ওই সময় পাশের বেডে আরেক রোগীর সঙ্গে আসা একটি যুবক ছেলে বললÑ আমি এখানে পাঁচ দিনেও কোনো ডাক্তার দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর সময় মায়ের নাক দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। জিজ্ঞেস করাতে ডাক্তার বললেনÑ ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। এখন এলাকার মানুষজন আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত।’

ওই নারী ৩১ মার্চ মারা যান। কিন্তু ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

advertisement