advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মিরপুর ও বাসাবো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

রাজধানীর বাসাবো ও মিরপুরে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ১০টি বাড়ি নতুন করে লকডাউন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার মিরপুরে ২ জন এবং বাসাবোতে ৭ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় এসব বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে যেতে এবং বাইরের কাউকে সেসব বাড়িতে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সর্বশেষ হিসাবে মিরপুর ও বাসাবোতে নতুন এ ৯ জনসহ এ পর্যন্ত ২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে এ পর্যন্ত মারা গেছেন তিনজন।

এর আগে সবুজবাগ থানার ওসি মাহবুব আলম আমাদের সময়কে বলেন, বাসাবোতে এ পর্যন্ত ৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। গতকাল নতুন করে ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। তাদের পরামর্শ নিয়ে বাসাবোর ৯টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওই বাড়িগুলো পিস গার্ডেন নামে একটি ছোট্ট হাউজিংয়ের মধ্যে পড়েছে। লকডাউন করে দেওয়ার পর ওই বাড়িগুলোর আশপাশে সাধারণ মানুষের কোনো আনাগোনা নেই। অনেকটা ভুতুড়ে গলিতে পরিণত হয়েছে। আর লকডাউন করা বাড়িগুলো থেকে কেউ বাইরে বের হতে পারবেন না। এমনকি বাইরে থেকে ভেতরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা সবসময় পাশে আছি। আমি আমার মোবাইল নম্বর দিয়ে বলেছি, যে কোনো প্রয়োজনে আমাকে যেন নক করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করব।

সবুজবাগ থানার ওসি আরও বলেন, বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের বলা হয়েছে শুধু পুলিশ নয়, তাদের আত্মীয়স্বজনকেও ফোন করে প্রয়োজনের কথা বলতে পারবে। স্বজনরা চাইলে পুলিশের সহায়তা নিয়ে ভেতরে থাকা আত্মীয়দের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারবেন।

এদিকে মিরপুর থানার ওসি মোস্তাজিরুর রহমান আমাদের সময়কে জানান, মিরপুর-১ নম্বর ওভারব্রিজের পাশে তানিম গলিতে এক পরিবারের দুজনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত দুজনকে গতকাল সকালে বাসা থেকে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর একটি ভবন লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ওই দুজন দুদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরীক্ষায় তাদের করোনা শনাক্ত হয়। বাড়িগুলোর সামনে পুলিশ মোতায়েন করে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এলাকায় মাইকিং করে

জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। ওই সব বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রতি পরিবার থেকে একজন সুরক্ষিত পোশাকে বাইরে যেতে পারছেন।

এদিকে আইইডিসিআর বলছে, বাসাবো ও মিরপুর এলাকায় এ পর্যন্ত ২২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এ দুটি এলাকাকে ঝুঁঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে করোনা ভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এদিকে গত শুক্রবার মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাড়িতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধের (৬৮) মৃত্যু হয়। পরে শনিবার ওই বাড়িসহ তিনটি ছয়তলা ভবন লকডাউন করে পাহারা বসায় পুলিশ। এর আগে ২১ ও ২২ মার্চ মিরপুরের টোলারবাগে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ হয়ে দুজন মারা যাওয়ার পর ওই এলাকাকে কার্যত লকডাউন করা হয়।

advertisement