advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রান্তিক কৃষক খামারিদের জন্য স্পষ্ট কিছু নেই

রেজাউল রেজা
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার পাঁচটি প্যাকেজে আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। তারা মনে করেন, প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে এটি একটি কার্যকরী পরিকল্পনা। তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সরকারের সব পর্যায়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। থাকতে হবে আন্তরিকতা।

প্রণোদনার ব্যাপারে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে সরকার কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা একে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেতে সরকারকে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছেন, তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তাহলেই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

পরিকল্পনায় বাজারব্যবস্থা, কৃষক, খামারি, খাদ্যপণ্যের সরবরাহ, পরিবহন, সাল্পাই-চেইন নিয়ে আলোচনা নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, কেবল ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার প্যাকেজ ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু মানুষকে বাঁচাতে, মানুষের আহার নিশ্চিত করতে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

গোলাম রহমান বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের আহার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। মানুষকে ঘরে রাখতে হলে তাদের খাদ্যপণ্যের ব্যবস্থাও করতে হবে। বাজার ব্যবস্থাকে সচল রাখতে হবে।

অন্যদিকে কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজগুলো দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্য সহায়ক হয়েছে বটে, তবে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও খামারিবান্ধব হয়নি।

পলাশ মাহমুদ বলেন, সারাদেশে অসংখ্য চাষি এ মুহূর্তে ফসলের দাম পাচ্ছে

না। ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে তাদের ফসল। অন্যদিকে দুগ্ধ খামারিসহ বিভিন্ন পোল্ট্রি খামারিরা অচল হয়ে পড়ছেন। আগামীতে একটা সময় বাজারে এসব পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বাজার ব্যবস্থাতেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, পোশাক ও এসএমই খাতের ক্ষতি লাঘবের বিষয়ে বিভিন্ন প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধার কথা বলা হলেও কৃষকদের যে বড় ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে সরাসরি কোনো কিছু বলা হয়নি। প্রাথমিকভাবে সরকারের এ পরিকল্পনা কার্যকরী বটে, তবে কৃষকদের নিয়েও ভাবতে হবে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশের দুগ্ধ খামারিদের প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ লিটার দুধ অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। ১৫-১৬ টাকা লিটারেও বিক্রি করা হচ্ছে দুধ। একটি গরুর খাবারের পেছনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয় প্রতিদিন। সে টাকাও জোগাড় করতে পারছে না তারা। প্রান্তিক কৃষকরা রয়েছেন আরও বিপদে। মানুষদের তো ত্রাণ দেওয়া হয়, অথচ গবাদি পশু তো আর ত্রাণ পায় না। কোথা থেকে আসবে খাবার। সরকার প্যাকেজে আমাদের ক্ষতি লাঘবের জন্য কোনো প্রণোদনা কিংবা ঋণ সুবিধার কথা বলেনি।

advertisement