advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বন্দি ১১৪০ শিশুর করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫১
advertisement

দেশের তিনটি শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে বন্দি ১১৪০ শিশুর মধ্যে যেন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ না ঘটে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করে সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস গতকাল রবিবার এ সিদ্ধান্ত নেয়।

দেশের তিনটি শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে বন্দি প্রায় সাড়ে ১১শ শিশুর জামিনে মুক্ত করা ও তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের যাতে সংক্রমণ না ঘটে, সে বিষয় নিয়েই সুপ্রিমকোর্ট স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস (এসসিসিআর) রবিবার ওই বৈঠক করে। বৈঠকে শিশু আদালতগুলো ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিশুদের জামিনের আবেদন শুনানি ও নিষ্পত্তি

করতে পারে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন শিশু অধিকারসংক্রান্ত ওই বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, কমিটির সদস্য হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম ও ইউনিসেফের একজন প্রতিনিধি। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে শিশুদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে এ বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব আদালত বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় শিশু উন্নয়নকেন্দ্রগুলোয় থাকা শিশুদের আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কিভাবে আইনগত সহায়তা দেওয়া যায়, সে সম্পর্কে বৈঠকে আলোচনা হয়। শিশু আদালত কিভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিশুদের জামিনের দরখাস্ত নিষ্পত্তি করতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কমিটি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিচারপতি মহোদয়রা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশ নেন।

তিনি আরও জানান, শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে আটক শিশুদের মধ্যে যেন করোনার সংক্রমণ না ঘটে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সারাদেশে তিনটি শিশু উন্নয়নকেন্দ্র রয়েছে। গাজীপুরে দুটি (একটি ছেলে ও একটি মেয়ে) এবং যশোরে একটি (ছেলে) উন্নয়নকেন্দ্রে শিশু রয়েছে ১১৪০ জন। বিভিন্ন অভিযোগে আটক এসব শিশু যাতে সাধারণ কারাগারে বড়দের সংস্পর্শে এসে বড় অপরাধী না হয়ে পড়ে, সে জন্য তাদের আলাদা রেখে সংশোধন করার জন্যই তাদের এই শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে রাখা হয়। শিশু উন্নয়নকেন্দ্রগুলোয় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে শিশু আটক রয়েছে। তাই ওইসব শিশু মারাত্মক করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

advertisement