advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফিট থাকার লড়াইয়ে মাহমুউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫২
advertisement

করোনা ভাইরাসের কারণে গৃহবন্দি মানুষ। খেলাধুলা বন্ধ থাকায় ঘরে সময় কাটাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। তবে শুয়ে-বসে কি আর দিন কাটে! তাই তো মজার মজার সব চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তারা। যেমন ফুটবলাররা ‘টয়লেট পেপার চ্যালেঞ্জ’, ক্রিকেটাররা ‘ফুল কিট চ্যালেঞ্জ’ কিংবা ‘হোম গার্ডেন চ্যালেঞ্জ’। তবে সবাই একটাই বার্তা দিচ্ছেন, ‘দয়া করে ঘরে থাকুন। ঘরে থাকাটাই নিরাপদ।’ বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা গৃহবন্দি থাকার এই সময়টা কীভাবে পার করছেন, টাইগারপ্রেমীরা তা জানতে আগ্রহী। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথাই ধরুন। তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন আবার নিজেকে ফিট রাখার কাজটাও ঠিকঠাকভাবে করে যাচ্ছেন। প্রিমিয়ার লিগের প্রথম রাউন্ড শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করেছে বিসিবি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার খেলা মাঠে গড়াবে বলে জানিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। বিসিবির তরফ থেকে ফিট থাকার জন্য ক্রিকেটারদের কাছে গাইডলাইন তৈরি করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘরে থাকলেও সে গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। গতকালও নিজ ঘরে রানিং করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সমর্থকদের পছন্দের ফরম্যাট এটি। অবশ্য কুড়ি ওভারের ক্রিকেটকে এখনো সেভাবে রপ্ত করতে পারেননি টাইগাররা। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলেও তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার সুযোগ নেই! শক্তির বিচারে জিম্বাবুইয়ানরা যে অনেক পিছিয়ে। বরং এই সিরিজের আগের সিরিজের দিকে চোখ বুলানো যাক। পাকিস্তান সফরে গিয়ে স্বাগতিকদের কাছে ২-০ তে অর্থাৎ টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ লজ্জা পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তিন ম্যাচের সিরিজ হলেও বৃষ্টির কারণে এক ম্যাচ ভেস্তে গেছে। কে জানে ওই ম্যাচ মাঠে গড়ালে রেজাল্ট কী হতো!

২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ অস্ট্রেলিয়া। অবশ্য করোনা ভাইরাস যেভাবে দাপট দেখাচ্ছে তাতে কে জানে শেষ পর্যন্ত কুড়ি ওভারের এই ক্রিকেট মহাযজ্ঞ পিছিয়ে যায় কিনা। পাঠক, আপনারা জানেন, ইতোমধ্যে টোকিও অলিম্পিক এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সময়ে (১৮ অক্টোবর-১৫ নভেম্বর) মাঠে গড়াবে নাকি পিছিয়ে যাবে তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত ক্রিকেট নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। সারাবিশ্বের মানুষ এখন ভালো নেই! মানুষের চেয়ে খেলাধুলা তো কখনই বড় হতে পারে না।

সাকিব আল হাসান নিষিদ্ধ থাকায় টি-টোয়েন্টিতে নেতৃত্বের ঝান্ডা উঠেছে মাহমুদউল্লাহর হাতে। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারই হয়তো দলকে নেতৃত্ব দেবেন। টাইগারদের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর পছন্দের তালিকায় তিনি আছেন শীর্ষে! বাংলাদেশের আফ্রিকান কোচ তো সাফ জানিয়েই দিয়েছেন, বোর্ড যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহকে অধিনায়ক করে তাতে তার পূর্ণ সমর্থন থাকবে। মাহমুদউল্লাহও নিশ্চয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু থমকে গেছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা জানেন না কেউই। আপাতত ঘরে থাকাটাই নিরাপদ মনে করছেন খেলোয়াড়রা। নিচ্ছেন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। মাহমুদউল্লাহকে কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে দেখা যায়নি। তিনি ফিট রাখার জন্য আপাতত রানিং করে ঘাম ঝরাচ্ছেন।

বাংলাদেশের জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের বাসাই এখন ‘মিনি জিমনেশিয়াম’! করোনা আতঙ্কে খেলাধুলা বন্ধ। কিন্তু আরাম-আয়েশে ঘরে বসে কাটালে ফিটনেসে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওজন বেড়ে যাবে, এটা তো জানা কথা। তাই ফিটনেস সচেতন ক্রিকেটাররা ছুটি শুরুর দিন থেকেই ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসইজ শুরু করেছেন। ক্রিকেটাররা যতটা সম্ভব নিজ বাড়িতেই রানিং ও জিমওয়ার্কের ব্যবস্থা করে ফেলেছেন। মাহমুদউল্লাহকে দেখা গেল ঘরে নিয়মিত রানিং মেশিনে দৌড়াদৌড়ি করছেন।

সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। প্রতিটা ভিডিও বা পোস্টেই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখছেন, ‘স্টে হোম, স্টে সেফ।’ সম্প্রতি চিকিৎসাকর্মীদের আলাদা করে ধন্যবাদ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘একটি জিনিস না বললেই নয়। আমাদের ডাক্তাররা, আমাদের নার্সরা এবং যারা চিকিৎসাসেবায় এই মুহূর্তে নিয়োজিত আছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং ইনশাল্লাহ আপনাদের এই দুঃসময়ে কোভিড ১৯-এর মতো এই দুরারোগ্য রোগের সময়ে আপনারা যেভাবে এগিয়ে আসছেন এবং যেভাবে দেশকে সেবা দিচ্ছেন, সেটার জন্য আমি আমার মন থেকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমি বিশ্বাস করি আপনাদের এই মহৎ কাজের জন্য আপনারা অবশ্যই পুরস্কৃত হবেন।’

advertisement