advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পোশাক শ্রমিক
কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল আচরণ কাম্য

৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫২
advertisement

গতকাল থেকে গার্মেন্টস কারখানা খোলার কথা ছিল। ফলে দেশজুড়ে কার্যত লকডাউন সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক বা পিকআপের খোলা ছাদে করে, এমনকি হেঁটেও গ্রাম থেকে কর্মস্থলে ফেরার জন্য নগরমুখী হয়েছে লাখ লাখ শ্রমিক। বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। যেহেতু আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি কমিউনিটি পর্যায়ে চলছে ফলে এই কর্মীরা কর্মস্থলে যোগ দিলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সম্ভব হবে না। তা ছাড়া এই ঢাকামুখী মানুষের স্রোত শুধু সংক্রমণের ঝুঁকিই বাড়াবে না, পুরো দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে। হাজার হাজার মানুষের গায়ে গায়ে লেগে ঢাকায় ফেরার এ ধরনের দৃশ্য করোনা প্রতিরোধের বিপরীতমুখী চিত্র। এদের মধ্য থেকে কিছু লোকও যদি আক্রান্ত থাকে, তাদের মধ্য থেকে সামাজিকভাবে অনেকে সংক্রমিত হতে পারে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত বলেছেন বিষয়টি বিব্রতকর। পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আর কেউ যেন ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে এবং বিজিএমইএর সভাপতিকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিতে বলেন। শেষ পর্যন্ত রাত পৌনে ১০টার দিকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে সব কারখানার মালিক ভাই ও বোনদের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’ অর্থাৎ শ্রমিকরা যখন কর্মস্থলে যোগ দিতে যাবে তখন আবার জানল কারখানা বন্ধ। ফলে এই সময়টা তাদের শহরেই থাকতে হবে অথচ মাসের বেতন পায়নি, বাড়ি ভাড়া দিতে হবে, তার ওপর যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এর দায় কে নেবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যদি আমরা অনেক দেরি করে ফেলি, তা হলে বরং দীর্ঘমেয়াদে আমাদের এই পোশাক খাতই অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পোশাকশ্রমিকদের নিরাপত্তাকে আমরা প্রথম থেকেই গুরুত্ব দিচ্ছি না। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল আচরণ কামনা করছি। এ কঠিন সময় আমাদের দরকার জাতীয় ঐক্য। শ্রমজীবী মানুষকে বাদ দিয়ে সে ঐক্য হতে পারে না।

advertisement