advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনার বিস্তার নিয়ে অন্ধকারে মানুষ
সঠিক তথ্য সরবরাহ ও সমন্বয়হীনতা দূর করতে হবে

৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫২
advertisement

বৈশ্বিক পরিসরে করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার খবর অব্যাহত আছে। বিশ্বের ১৮১টি দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। এই সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৭৫৩। বাংলাদেশে আক্রান্ত ৮৮ জন, মৃতের সংখ্যা ৯। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম থেকেই পরীক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কারণ আক্রান্তকে পরীক্ষা করাই হচ্ছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করার সবচেয়ে কার্যকর পথ। কেউ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হলে তাকে যেমন সঙ্গে সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা সম্ভব, তেমনি তার সংস্পর্শে আশা লোকজনকেও সম্ভাব্য আক্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করে বাড়িতে কোয়ারেন্টিন করা যাবে। তাতে অন্য লোকজনকে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এ মহামারী মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ে প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি হয়েছে; জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতসব কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি গঠন, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে চলা তৎপরতার পরও দেশে করোনার সংক্রমণ ও এর বিস্তারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনার লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। তাদের অনেকেরই নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাই দেশে করোনা কতটা ছড়িয়ে পড়েছে, এ নিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে ধোঁয়াশা। তবে আশার কথা হলো, বিলম্বে হলেও এখন ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে ১৪টি ল্যাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আরও তিনটি ল্যাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। যদিও এসব ল্যাবে চার হাজার পরীক্ষা করা সম্ভব, কিন্তু করা হচ্ছে খুব সামান্য। পুরো প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে এখনো অনেক সমস্যা ও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আমরা আশা করি এখনো যেসব সমন্বয়হীনতা আছে, তা অবিলম্বে দূর করতে হবে। জনসচেতনতা ও সতর্কতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রতিনিয়ত সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করতে হবে।

advertisement