advertisement
advertisement

দেখতে পারেন সুচিত্রার ১০ ছবি

ফয়সাল আহমেদ
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
advertisement

আজ মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ৮৯তম জন্মদিন। ১৯৩১ সালে বাংলাদেশের পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। ১৯৫২ সালে বাংলা চলচ্চিত্রজগতে আত্মপ্রকাশ ‘শেষ কোথায়’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। প্রথম ভারতীয় তথা বাঙালি অভিনেত্রী হিসেবে ১৯৬৩ সালে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। সুচিত্রা সেনের বেশিরভাগ ছবিই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধে। কিন্তু সুচিত্রা সেন প্রমাণ করেছেন উত্তম ছাড়াও তিনি সফল। লিখেছেনÑ

ফয়সাল আহমেদ

মহানায়িকার জন্মদিন আজ

উত্তমহীন ৫

হ দেবদাস

১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দেবদাস’ ছিল সুচিত্রা অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি। বিমল রায়ের পরিচালনায় এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দীলিপ কুমার (দেবদাস), সুচিত্রা (পারু) এবং বৈজয়ন্তিমালা (চন্দ্রমুখী)। ছবিটির সংগীত পরিচালনায় ছিলেন শচীনদেব বর্মণ। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ধ্রুপদী উপন্যাস দেবদাসের পার্বতী জীবন্ত হয়ে উঠেছিল সুচিত্রার মধ্যে। পারু চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান।

হ দীপ জ্বেলে যাই

১৯৫৯ সালে মুক্তি পায় ‘দীপ জ্বেলে যাই’। অসিত সেনের পরিচালনায় এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সুচিত্রা সেন (রাধা), বসন্ত চৌধুরী (দেবাশীষ ও তাপস), পাহাড়ি স্যান্যাল (মনোবিজ্ঞানী)। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘নার্স মিত্র’র চলচ্চিত্র রূপ ছিল ‘দীপ জ্বেলে যাই’। ছবিটির সংগীত পরিচালক ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ছবির শেষে সুচিত্রার উচ্চারিত সংলাপ, ‘আমি অভিনয় করতে জানি না’ দর্শককে তখন কাঁদিয়েছে।

হ সাত পাকে বাঁধা

১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় ‘সাত পাকে বাঁধা’। পরিচালক ছিলেন অজয় কর। নায়ক ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ‘সাত পাকে বাঁধা’র অর্চনা চরিত্রে অনন্য অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর সম্মাননা সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস অর্জন করেন তিনি। ভারতীয় অভিনেত্রীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মান পান।

হ উত্তর ফাল্গুনী

১৯৬৩ সালেই মুক্তি পায় সুচিত্রা অভিনীত ‘উত্তর ফাল্গুনী’। এ সিনেমায় যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে যান তিনি। এখানে তিনি ছিলেন দ্বৈত চরিত্রে। ছবিটির পরিচালক ছিলেন অসিত সেন। নায়ক ছিলেন বিকাশ রায়। নায়িকাকেন্দ্রিক ছবিটির প্রযোজক ছিলেন উত্তম কুমার। নিহার রঞ্জন গুপ্তের লেখা কাহিনি। এ ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ভারতের জাতীয় পুরস্কার পায়। ‘উত্তর ফাল্গুনী’র হিন্দি রিমেক হয় ‘মমতা’ নামে। মনীষ চরিত্রে অশোক কুমার এবং ইন্দ্রনীল চরিত্রে ধর্মেন্দ্র অভিনয় করেন। হিন্দি রিমেকেরও পরিচালক অসিত সেন। ১৯৬৬ সালে ‘মমতা’র জন্য সেরা অভিনেত্রীর ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার পান সুচিত্রা।

হ আঁধি

১৯৭৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আঁধি’ ছিল সুচিত্রা অভিনীত শেষ হিন্দি ছবি। ‘আঁধি’ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ছবিটির পরিচালক ছিলেন গুলজার। সংগীত পরিচালনায় ছিলেন রাহুলদেব বর্মণ। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার আসরে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান। আর তার বিপরীতে অভিনয় করে সঞ্জীব কুমার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন। ‘আঁধি’তে তিনি ছিলেন আরতি দেবী নামে এক রাজনৈতিক নেত্রীর ভূমিকায়, যিনি একই সঙ্গে ব্যক্তিত্বময়ী, দৃঢ়, কঠোর আবার প্রেমময়ী ও কোমল। বলা হয়ে থাকে ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া অবলম্বনে আরতি দেবীকে নির্মাণ করা হয়েছিল। সঞ্জীব কুমারের চরিত্রটি ফিরোজ গান্ধীর ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়। কয়েকটি দৃশ্যের কারণে ছবিটি মুক্তির পর নিষিদ্ধ হয়েছিল। পরে কয়েকটি দৃশ্য পুনর্নির্মাণ করে মুক্তি দেওয়া হয়।

উত্তমের সঙ্গে ৫

সাড়ে চুয়াত্তর

১৯৫৩ সালে নির্মল দে পরিচালিত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় সুচিত্রা সেনের। এই ছবিতে মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। মুক্তির পর পরই চারদিকে আলোড়ন সৃষ্টি করে ছবিটি। ফলস্বরূপ বক্স-অফিসে ব্যাপক সাফল্য। এর মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রে শুরু হয় উত্তম-সুচিত্রা জুটির ২০ বছরের রাজত্ব।

সপ্তপদী

পরিচালক অজয় করের পরিচালনায় ১৯৬১ সালে মুক্তি পায় উত্তম-সুচিত্রা জুটির ‘সপ্তপদী’ চলচ্চিত্রটি। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করেন ছবি বিশ্বাস, ছায়া দেবী, তরুণ কুমার, উৎপল দত্তসহ অনেকে। ছবিটির গল্পে হিন্দু কৃষ্ণেন্দুকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলতে চেয়েছিল খ্রিস্টান রিনা ব্রাউন অর্থাৎ সুচিত্রা সেন।

হারানো সুর

১৯৫৭ সালে পরিচালক অজয় কর নির্মাণ করেন ‘হারানো সুর’ ছবিটি। সেই সময়কার ধারাবাহিকতায় এই ছবিতেও উত্তম কুমারের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। মুক্তির পর পরই ছবিটি ভারতের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে ‘সার্টিফিকেট অব মেরিট’ লাভ করে। প্রযোজক হিসেবে ছিলেন নায়ক উত্তম কুমার নিজেই।

গৃহদাহ

উত্তম কুমার প্রযোজিত গৃহদাহ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৬৭ সালে। এই ছবিতেও উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। ছবিটির গল্পে ব্রাহ্ম মেয়ে অচলার অর্থাৎ সুচিত্রা সেনের হাত থেকে বন্ধু উত্তম কুমারকে বাঁচাতে এসে উল্টো নিজেই তার প্রেমে পড়ে যায় সুরেশ। কিন্তু মহিমকেই বিয়ে করে গ্রামে চলে যায় অচলা। সামান্য ঘটনায় তাদের সম্পর্কে চিড় ধরে। সুযোগটি নেয় সুরেশ। অচলাকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসে কলকাতায়। শুরু হয় ত্রিমুখী টানাপড়েন।

সাগরিকা

এটি মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে। গ্রামের গরিব ঘরের মেধাবী ছাত্র অরুণ (উত্তম)। কলেজেই সাগরিকার (সুচিত্রা) প্রেমে পড়ে অরুণ। অরুণের ছাত্রী শিপ্রা তাতে বাদ সাধে। ভুল বোঝাবুঝির কারণে অভিমানহত অরুণ ফিরে আসে গ্রামে। এক দুর্ঘটনায় অরুণ অন্ধ হলে সাগরিকা নেয় সেবার ভার।

advertisement