advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কালিয়াকৈরে সেবা মিলছে না প্রাইভেট হাসপাতালে

মীর রবিউল করিম কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
advertisement

কালিয়াকৈর উপজেলার সব প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অজুহাতে সাধারণ রোগীদের সেবা না দিয়েই ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিনে শত শত রোগী উপজেলার অর্ধশতাধিক ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে ডাক্তার না আসার কারণ দেখিয়ে এসব রোগীকে ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলার সর্বত্র সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ সদস্যরা সামাজিক সচেতনা বৃদ্ধির জন্য মাঠে টহল দিচ্ছেন। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ ওষুধের দোকান ও প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হয়। এর ফলে অধিকাংশ হাসপাতাল বা ক্লিনিকের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগে প্রতিদিন ওই সব হাসপাতালে ঢাকা থেকে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা আসতেন এবং এলাকার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় ও সাধারণ মানুষ নিজ ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনায় হাসপাতালগুলোতে তেমন রোগী নেই। জরুরি বিভাগে একজন ডিউটি ডাক্তার রেখেই সব বিভাগ বন্ধ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে ওই সব হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার অনেক রোগীকে এসব হাসপাতালের লোকজন ঢাকার হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

কালিয়াকৈর সাহেব বাজার এলাকার আবদুল মজিদ মিয়া বলেন, শনিবার আমার এক আত্মীয় নারী রোগীকে সিজার করানোর জন্য প্রথমে ডাক্তার আজহার হালিমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসক না থাকায় পরে শুভেচ্ছা ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানেও রোগী ভর্তি করা হয়নি। কোনো উপায় না পেয়ে রোগীকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।

সফিপুর পূর্বপাড়া এলাকার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমার এক আত্মীয়ের আড়াই বছরের এক শিশুকে সফিপুর তানহা হাসপাতালে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিয়ে যাই। সেখানের এক কম্পাউন্ডার তাকে পরীক্ষা না করেই ঢাকার শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। এতে আমরা হতাশ হয়ে যাই।

ডাক্তার আজহার হালিমা হাসপাতালের ম্যানেজার আবদুল মান্নান জানান, সারাদেশেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে ঢাকা থেকে কোনো চিকিৎসক আসছেন না। তাই রোগী ভর্তি করা হচ্ছে না। তানহা হাসপাতালের ম্যানেজার মো. মোস্তাফা জানান, রোগী ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা জানা নেই। তবে এ রকম ঘটনা ঘটলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রবীর কুমার সরকার জানান, প্রত্যেক প্রাইভেট হাসপাতালে একজন করে দিন-রাত আবাসিক ডাক্তার থাকার কথা রয়েছে। এই দুর্দিনে যদি কেউ আবাসিক ডাক্তার না রাখে এবং তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement