advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঝুঁকি নিয়ে ইটভাটায় কাজ করছেন শ্রমিকরা

শাহজাদপুর প্রতিনিধি
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
advertisement

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতন করলেও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ইটভাটা মালিকরা শ্রমিকদের কাজ করাচ্ছেন। তবে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদেরই চাপেই ইট প্রস্তুত করতে হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দূরত্ব বজায় রাখা না হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হবে। আর প্রশাসন বলছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ইটভাটা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

করোনা মোকাবিলায় রাস্তায় গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলছে ইটভাটায় মাটি ও ইট টানার কাজ। আর অধিকাংশ ট্রাকের নেই ফিটনেস লাইসেন্স। ট্রাক ড্রাইভারগুলো পাড়া, মহল্লায় ও রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে ট্রাকের বিষাক্ত ধোঁয়া আর ধুলায় গ্রামের মানুষগুলো অ্যালার্জি, ঠা-া-কাশি ও শ^াসকষ্টে ভুগছেন। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন এতে সহজেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক ঘিরে উপজেলায় কায়েমপুর ও গাড়াদহ ইউনিয়নে ১৬টি ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটায় প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ অনেক ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে। সরেজমিন গতকাল উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়ন ও কায়েমপুর ইউনিয়নের কয়েকটি ইটভাটায় দেখা যায়, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও সাবধানতা নেই তাদের। ইটভাটা মালিক মো. নুহু মিয়া ও সাইফুল ইসলাম জানান, সামনের ঝড়-বাদলের দিন, তাই ভাটা বন্ধ হয়ে যাবে। সে কারণে শ্রমিকরা নিজ গরজে কাজ করছে। আমরা কাউকে জোর করে কাজ করাচ্ছি না। এজন্য শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা করা খুব একটা প্রয়োজন মনে করছি না।

করোনার ঝুঁকি স্বীকার করে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, সংক্রমিত কোনো ব্যক্তি ইটভাটায় এলে অন্য শ্রমিক ও তাদের পরিবার সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবশ্যই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ইটভাটার বিষয়টি জেলা প্রশাসক দেখাশোনা করেন। আমি ইটভাটা বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহমেদ জানান, করোনা নিয়ে দেশের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ইটভাটা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement