advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি কাশি জ¦র

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
advertisement

শীত বিদায় নিয়ে বসন্তও যায় যায়। কিন্তু শীতের প্রভাব এখনো কাটেনি ঠাকুরগাঁওয়ে। প্রতিবছর চৈত্রের এই সময়ে দিনের বেলায় মিনিট দুয়েক রোদে দাঁড়ালে বা হাঁটলেই শরীর থেকে ঘাম ঝরতো। কিন্তু এবার তার উল্টোচিত্র। যেন এখনো শীত ফুরায়নি। দিনে তাপ বাড়লেও সন্ধ্যা নামতেই শীত অনুভূত হয়। রাতে কাঁথা-কম্বল জড়িয়ে ঘুমাতে যায় মানুষ। এর ফলে ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে সর্দি, কাশি, জ¦র।

চিকিৎসকরা বলছেন, তাপমাত্রার এই আচমকা তারতম্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না শরীর। এতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইউমিনিটি কমছে। ফাঁকগলেই হামলা চালাচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া। শ্বাসনালীর সংক্রমণে কাবু হচ্ছে মানুষ। এর ফলে ঘরে ঘরে মানুষ সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে।

সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের তৃপ্তি রানী (১৮) বলেন, ঠা-া-গরমের কারণে তিনি সর্দি-কাশিতে ভুগছেন। একই কথা জানালেন বাবুল হোসেন। তিনি বলেন, তার জ¦রের কথা শুনে চিকিৎসকরা ভয় পেয়েছিলেন। তাকে বাড়িতে থেকে প্যারাসিটামল, এজোথ্রামাইসিন খেতে বলেছেন। অবশ্য তিনি এখন সুস্থ।

পীরগঞ্জ উপজেলার গুয়াগাঁ গ্রামের বুলবুল হোসেন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ¦র, সর্দি-কাশির চিকিৎসা দেওয়ার ভয়ে ডাক্তাররা এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।

একই চিত্র অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। হাসপাতালগুলো এখন কুকুর-বিড়ালের ‘আড্ডাখানা’। নাম না প্রকাশের শর্তে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক ওয়ার্ডবয় জানানÑ জ¦র, সর্দি-কাঁশির রোগীদের চিকিৎসা দিতে ভয় পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফিরোজ এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, এখানে এসব রোগীদের চিকিৎসার আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ চপল বলেন, হাসপাতালে আউট ডোরে প্রতিদিন সর্দি-কাশি-জ্বরের অনেক রোগী আসে। তাদের চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ওই সব রোগীদের করোনা ভাইরাসের লক্ষণ আছে কিনা তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভর্তিযোগ্য রোগীদের সাধারণ রোগী থেকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. তোজাম্মেল হক বলেন, এ পর্যন্ত ৪২ জনের নমুনা নিয়ে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর কারো শরীরে করোনা ভাইরাস নেই বলে জানান সংশ্লিষ্ট গবেষণাগার।

ডা. তোজাম্মেল হক আরও বলেন, এসি-ফ্রিজের মতো শরীরেও থাকে থার্মোস্ট্যাট। সব সময়ে তা শরীরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারনেহাইটে ধরে রাখতে চায়। মুশকিল হলো, আচমকা বাইরের তাপমাত্রার বাড়াবাড়ি রকমের বদল হলে শরীরের থার্মোস্ট্যাট যথাযথ কাজ করে না। তখনই ইমনিউনটি তার কর্তব্যে গাফিলতি করে ফেলে। অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন অ্যালার্জির শিকার হয় শরীর। অথবা সক্রিয়তা কমে যায়, তখন জীবাণু সংক্রমণরে শিকার হয় শরীর। এদিকে বায়ুদূষণ আজকাল যেহেতু এমনিতেই শরীরকে কাবু করে রেখেছে, তাই সামান্য ‘হামলাতেই’ ভেঙে পড়ছে মানুষের রোগপ্রতিরোধের দেওয়াল।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, চিকিৎসকরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

advertisement