advertisement
advertisement

করোনার কারণে বাজার বন্ধ বিপাকে কুঁচিয়াচাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া ও আদমদীঘি সংবাদদাতা
৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ০০:৫৪
advertisement

আদমদীঘিতে বিলুপ্তপ্রায় স্বাদু পানির কুঁচিয়া মাছের চাষ করে করোনার কারণে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। কারণ এই কুঁচিয়া মাছ মূলত দেশের কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ খেলেও এ মাছের প্রধান বাজার হচ্ছে চীনসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এ বাজার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রটি। এ কেন্দ্র থেকে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে অধিক লাভজনক বিলুপ্তপ্রায় স্বাদু পানির এই কুঁচিয়া চাষ করছেন আদমদীঘি ও সান্তাহারে আশপাশের বেশ কিছু মাছচাষি। দেশে এ মাছের বাজার না থাকায় প্রধানত চীন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে অধিক লাভজনক এ কুঁচিয়া মাছ রপ্তানি করা হয়। এতে লাভও গুনছিলেন চাষিরা। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মহামারী রূপ নেওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে বিদেশের বাজার।

সান্তাহার পৌর শহরের ওপর পোঁওতা গ্রামের কুঁচিয়া মাছচাষি জহুরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে এই কুঁঁচিয়া মাছ নিয়ে বিপাকে পড়েছি। বিগত সময়ে পাইকাররা এসে পুকুর থেকে কুঁচিয়া নিয়ে যেতেন। কিন্তু করোনার কারণে পাইকাররা কুঁচিয়া কিনছেন না।

সান্তাহারের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রের প্রধান ড. ডেভিট রিন্টু দাস বলেন, কয়েক বছর ধরে স্থানীয় শতাধিক মৎস্যচাষিকে বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করে এবং সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এ লাভজনক কুঁঁচিয়া মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এ মাছ চাষ করে চাষিরাও অনেক লাভবান হয়েছেন। চাষিদের পাশাপাশি আমরাও এই উপকেন্দ্রে সুস্বাদু বিলুপ্তপ্রায় স্বাদু পানির কুঁচিয়া মাছ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে আসছি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে কুঁঁচিয়া মাছের বিদেশি বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন।

advertisement