advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সর্বাধিক ঝুঁকি মাথায় নিয়েও মাঠে পুলিশ

৬ এপ্রিল ২০২০ ১৮:১৮
আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২০ ১৮:১৮
advertisement

পুলিশ গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম হয় সাধারণত নেতিবাচক কর্মকা-ের জন্য। কিন্তু সেসব ছাপিয়ে এখন গণমাধ্যমেই শুধু নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশ ডলই মারাত্মক এক ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এ দুঃসময়ে দেশ রক্ষায়, দেশের মানুষকে রক্ষায় অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে পুলিশ।
করোনার সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই জরুরি। পুলিশ শুধু এ বিষয়টিতেই নয়, জনসাধারণকে সচেতন করা থেকে শুরু করে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মানুষের মৃতদেহ দাফনের মতো অনেক ধরনের দায়িত্বই পালন করছে পুলিশ, প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও। মাঠপর্যায়ের বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য ন্যূনতম সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে অল্পসময়েই পুলিশ কমিউনিটিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর পুলিশ আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে হিমশিম খেতে হবে। কাজেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) নির্দেশনা মেনে পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, বাহিনীটির সব সদস্যের জন্য মাস্ক, গ্লাভস ও স্যানিটাইজারের মতো সুরক্ষা সরঞ্জাম ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিতে কাজ করছেন তারা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পযমর্যাদার কর্মকর্তাদের সুরক্ষা সরঞ্জাম একেবারে অপ্রতুল। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া মাস্ক পেয়েছেন অনেকেই। তবে সেটি ভাইরাস প্রতিরোধী এন-৯৫ অথবা সার্জিক্যাল নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। এ ছাড়া হ্যান্ড গ্লাভসসহ অন্য নিরাপত্তা সরঞ্জামের দেখা মেলেনি বললেই চলে। অবশ্য কোনো কোনো পুলিশ সদস্য ব্যক্তি উদ্যোগে সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা হ্যান্ড গ্লাভস কিনে ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাদের সংখ্যা সীমিত।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের এসআই পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগে আমাকে দুটি সাধারণ মানের মাস্ক দেওয়া হয়েছে। এটি দিয়ে ভাইরাস আটকানো যাবে না সেটি আমরা বুঝতে পারছি। তবু মানুষের জন্য কাজ করতে প্রতিদিন ডিউটিতে যাচ্ছি। আবার সরঞ্জাম না থাকায় কিছুটা ভয়ও লাগে। আমাদের জন্য একটু ভালো মানের সরঞ্জাম দেওয়া হলে আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারতাম।’
অপর এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, এগুলো যে নিজেরা কিনে
নেবেন সেই উপায়ও নেই। কারণ ফার্মেসিতে এসব পণ্যের তীব্র সংকট এখন।
যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি কর্তৃপক্ষ নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়েপড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলোÑ সম্ভব হলে ন্যূনতম ৬ ফিট দূরে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডিসপোজেবল হ্যান্ড গ্লাভস ও গাউন, এন-৯৫ অথবা তার চেয়ে ভালো মানের ফেস মাস্ক এবং চোখের জন্য আই প্রটেকটিভ চশমা পরতে হবে। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগী অথবা সন্দেহভাজন কারও সংস্পর্শে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে অবশ্যই পিপিই পরে নিতে হবে। এ ছাড়া রোগীদের স্থানান্তরে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দিতে হলে ওপরের সব নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।
ঢাকার কয়েকটি এলাকাসহ দেশের কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করেছে। তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, বিশেষ করে পুলিশ। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগী ভর্তি না নেওয়ায় এখন পুলিশের সহায়তা নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করার খবর গণমাধ্যমে আসছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি ডিএমপির কাছ থেকে তিনটি মাস্ক ও দুটি হ্যান্ড গ্লাভস পেয়েছেন। তবে মাস্কের গুণগত মান সম্পর্কে সন্দিহান তিনি।
মিরপুরের লকডাউন করা একটি এলাকায় দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের এখনো পিপিই দেওয়া হয়নি। মাস্ক ও গ্লাভস পরে ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার এআইজি মো. সোহেল রানা আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা করোনা ভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা প্রতিটি সদস্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। দায়িত্বরত প্রতিটি সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে আমরা সুরক্ষা সরঞ্জাম হিসেবে মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে পিপিই দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার পরও আমরা প্রতিটি সদস্যের সুরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে পুলিশের সব ইউনিটে কোয়ারেন্টিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা চালু করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক আমাদের সময়কে বলেন, ‘নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পুলিশ নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তাদের কাজগুলো ব্যাপক প্রশংসার দাবি রাখে। তবে মনে রাখতে হবে, পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশ ব্যারাকে থাকেন। কোনোভাবে কেউ সংক্রমিত হলে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হতে পারে। এ কারণে শতভাগ নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করেই তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এখানে আবেগের চেয়ে পেশাদারিত্বের পরিচয় বেশি দিতে হবে।’

advertisement